আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
বিদ্যালয় ভবন মারাত্মক ঝুঁকিতে তাই খোলা আকাশের নীচে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। সরজমিনে সোমবার এ রকম চিত্রটি দেখা যায় উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের লালঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ের ভবনের ছাদ ফাটল ও জরাজীর্ণ হওয়ায় যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ আশংকা থেকেই বিদ্যালয় ভবনের ভিতর পাঠদান না করে খোলা আকাশের নীচে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লতিফা আক্তার মনি।
তিনি জানান, বিদ্যালয় ভবনের ছাদে ফাটল থাকায় তিনি আর অন্যান্য শিক্ষকরা আর সাহস পাচ্ছেন না শিক্ষার্থীদের শ্রেণী কক্ষে পাঠদান করতে। তাই বছর খানেক ধরে তিনি শিক্ষার্থীদের কখনো বারান্দা, কখনো খোলা আকাশের নীচে পাঠদান করাচ্ছেন।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ সেই সাথে পাঠদানের অনুপযোগী থাকার কথা উল্লেখ করে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি। পরবর্তীতে ১৩ এপ্রিল উপজেলা মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়টি আলোচনায় আসে । সে সময় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তার আলোচনায় লালঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি সবচাইতে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ থাকার কথা উল্লেখ করেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা প্রসারের লক্ষে গ্রামের একদল শিক্ষানুরাগী ১৯৮৮ সালে এ বিদ্যালয়টি স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশল অফিস ভবন নির্মাণ করে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৩৪১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ভবন নির্মাণের পর কাজের গুণগত মান ভাল না হওয়ায় ২০০৮ সালের পর থেকেই বর্ষা মৌসুমে ছাদের দেয়াল চুইয়ে পানি পড়তে থাকে সেই সাথে দেয়ালের পলেস্তরা খসে পরে এবং মেঝে ভেঙ্গে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বছরে বছরে স্লিপ বরাদ্দ কিংবা আনুসাঙ্গিক বরাদ্দ থেকে ভবনটি মেরামত করে কোন রকম পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যান ২০১৫ সাল পর্যন্ত। বৃষ্টির দিনে ভবনের এ দুরাবস্থা দেখে ছাত্র অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের আর বিদ্যালয়ে পাঠাতে সাহস পান না। এতে করে দিন দিন অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয় বিমুখ হয়ে পড়ে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকারা বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছাত্র ছাত্রীদের বারান্দায় ও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খোলা আকাশের নীচে, গাছতলায় পাঠদান করছেন।
বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণির ছাত্রী মাসুদা খাতুন, ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী নিলুফা বেগম জানায়, স্কুলের ছাদ ভেঙ্গে বালু ও ছোট ছোট পাথর পড়ার কারণে স্যার তাদের লেখাপড়া করান বারান্দায় ও মাঠে।
বিদ্যালয় স্কেচম্যান্ট এলাকার অভিভাবক একদিল মিয়া বলেন, বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় আমরা আমাদের ছেলে মেয়েদের বিদ্যালয়ে দিতে সাহস পাই না।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আজিজুল হক বলেন, বিদ্যালয়ে ছাদে ফাটল ও বৃষ্টির দিনে ছাদ দিয়ে পানি পড়ার বিষয় উল্লেখ করে ভবনটি পুন:নির্মাণ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর আবেদন করেছি।
প্রধান শিক্ষক আমিনুল হক বলেন, বিদ্যালয় পাঠদানের অনুপযোগী থাকার কারণে পাঠদান চলছে কখনো বারান্দায় আবার কখনো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্ত আতাউর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টি ঝুঁকিতে রয়েছে। সংস্কারের জন্য আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।


