স্টাফ রিপোর্টার
কবে শের হবে বিদ্যুৎ যন্ত্রণা? এই প্রশ্নের উত্তর সুনামগঞ্জ পিডিবি কর্তৃপক্ষের কাছেও নেই। তবে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে এমন যন্ত্রণা শেষ হতে পারে বলে জানালেন সুনামগঞ্জ বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম। সামান্য ঝড়-বৃষ্টি বা বজ্রপাত কেবল নয়, প্রখর রৌদ্র বা অতিরিক্ত গরম হলেই বিদ্যুৎহীন থাকতে হয় সুনামগঞ্জ জেলা শহর ও জেলার প্রায় ২০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহককে। মঙ্গলবারও এমনটাই ছিল। বিদ্যুতের মহা যন্ত্রণা ভোগ করার সময় গ্রাহকরা জানতেও পারেন না কেন বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। কালে-ভদ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে না, এমন কথা পিডিবি’র পক্ষ থেকে গ্রাহকদের মাইকে জানিয়ে দেওয়া হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বলা হয় ছাতক-সুনামগঞ্জের ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইন খারাপ, তাই সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যাচ্ছে না।
সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদককে বলেন,‘ছাতক-সুনামগঞ্জের ১৩২ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ যন্ত্রণা থেকেই যাবে। মঙ্গলবার সকালে ছাতক-সুনামগঞ্জের ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের জাউয়া বাজারের পাশের খাড়াই এলাকায় ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, সুনামগঞ্জ থেকে গিয়ে ত্রুটি সারানোর পর বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে, এই ত্রুটি সারানো পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। বিদ্যুৎ না থাকলে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এমন কথা শুনতে শুনতে অভ্যস্থ সুনামগঞ্জের বিদ্যুৎ গ্রাহকরা।
সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসের একজন কর্মচারী জানালেন, অনেক সময় কাছেই বিদ্যুৎ লাইনে ত্রুটি দেখা দেয়। যারা কাজ করবে, তাদের অবহেলার কারণে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকেন সুনামগঞ্জ এবং দিরাই-শাল্লার বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। গ্রাহকদের জানানো হয়, দুর্গম হাওর এলাকায় বিদ্যুৎ লাইনে ত্রুটি দেখা দিয়েছে, লাইনে কাজ চলছে। সুনামগঞ্জ শহরবাসীর অবস্থা এমন যে, প্রায়-ই দেখা যাবে সুনামগঞ্জ শহরে বিদ্যুৎ বাতি জ্বলে না, কিন্তু শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর উত্তর পাড়ের ইব্রাহিমপুর গ্রামেও বিদ্যুৎ বাতি জ্বলছে। একই অবস্থা দিরাই ও শাল্লা উপজেলায়। জেলার ১১ উপজেলা সদরের মধ্যে এই তিনটি উপজেলা সদরে পিডিবি’র বিদ্যুৎ লাইন এবং ওখানেই যন্ত্রণা বেশি।
মঙ্গলবার সারাদিনই পল্লী বিদ্যুতের অর্থাৎ জেলার গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের কোন যন্ত্রণা ছিল না। সকল বিদ্যুৎ ভোগান্তি ছিল শহরবাসীর।
পল্লী বিদ্যুতের সুনামগঞ্জের জিএম সোহেল পারভেজ বলেন,‘মঙ্গলবার সারাদিনই আমাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল, আমাদের কাছ থেকে সামান্য বিদ্যুৎ একবার নিয়েছে পিডিবি।’ তিনি জানালেন, ছাতক-সুনামগঞ্জের ১৩২ কেভি বিদ্যুৎ লাইন এবং বিদ্যুৎ সাবস্টেশনের কাজ শেষ না হলে পিডিবি’র গ্রাহকদের ভোগান্তি শেষ হবে না।
সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম বলেন,‘গত মার্চ-এপ্রিলেই সুনামগঞ্জ-ছাতক ১৩২ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের কাজ ও বিদ্যুৎ সাবস্টেশনের কাজ শেষ হবার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারী কর্তৃপক্ষ পানি বেশি হয়েছে বলে কাজ করতে পারছে না, এমন কথা বলে কাজ শেষ করতে পারেনি। এখন ডিসেম্বর-জানুয়ারি’র মধ্যে কাজ শেষ করবে বলে জানিয়েছে। তখনই হয়তো এমন যন্ত্রণা কমবে।’


