বিদ্যুৎ সাবস্টেশনের কাজ এগিয়ে চলছে দ্রুত গতিতে

অমিত দেব
সুনামগঞ্জের বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে দু’শ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩২/৩৩ কেভি বিদ্যুৎ গ্রীড সাবস্টেশন-এর নির্মাণ চলছে জোরেশোরে।আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সাবষ্ট্রেশনটির কাজ   শেষ হবে। প্রায় ৬ একর জায়গার উপর শহরের ওয়েজখালিতে নির্মিতব্য এই গ্রীড সাবস্টেশন নির্মাণ কাজ শেষ হলে বদলে যাবে সুনামগঞ্জের দৃশ্যপট, এমন আশাবাদ জেলাবাসীর।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে দেশের ৮টি জেলায় প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বিদ্যুৎ গ্রীড সাবস্টেশন নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু হলে বিদ্যুৎ গ্রীডের পরিচালক সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট কুমারগাঁও এ বৈদ্যুতিক সাবষ্টেশন উদ্বোধন করতে এলে তিনি সুনামগঞ্জে একটি বৈদ্যুতিক সাবষ্টেশন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুনামগঞ্জে সাবস্টেশন নির্মাণের নির্দেশ দেন। বিদ্যুৎ উন্নয়ন    বোর্ড সূত্র আরো জানায়,  একশত বিশ কোটি টাকা ব্যয়ে মূল সাবষ্টেশন নির্মাণের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক সঞ্চলন লাইন নির্মাণে মোট ব্যয় হবে দুইশত কোটি টাকা।
সুনামগঞ্জে বর্তমানে পাওয়ার ডেভলপমেন্ট বোর্ড (পিডিবি) এর বিদ্যুতের প্রয়োজন দৈনিক ১০ থেকে ১২ মেগাওয়াট। অথচ জাতীয় গ্রীড লাইন থেকে ছাতক বিদ্যুৎ গ্রীড সাবস্টেশন হয়ে জেলার প্রায় ২০ হাজার গ্রাহকের জন্য পিডিবির বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় ৫-৬ মেগাওয়াট। অন্যদিকে, সুনামগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে প্রায় ৬১ হাজার গ্রাহকের জন্য জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে ১৬ মেগাওয়াট। পিডিবি’র চাহিদা মাফিক বিদ্যুৎ সরবরাহ না করায় জেলা শহরের প্রত্যেকটি ফিডারে ঘন্টায় ঘন্টায় লোডশেডিং করতে হয়। ছাতক থেকে হাওর এলাকা দিয়ে আসা পুরোনো বিদ্যুৎ লাইনে দিনে ২-৩ বার ত্রুটি দেখা দেয়। দীর্ঘ লাইন দিয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন হওয়ার কারণে লো-ভোল্টেজ লেগেই থাকে। বিদ্যুতের সিস্টেম লসও হচ্ছে প্রতিনিয়তই। সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ছাতক থেকে সুনামগঞ্জে আসা ৫০ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন এবং সুনামগঞ্জ অফিস থেকে আরও ৩০-৪০ কিলোমিটার লাইন টেনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করায় চার-পাঁচ শতাংশ বিদ্যুৎ সিস্টেম লসে নষ্ট হয়। এছাড়া বর্তমানে সুনামগঞ্জে আরইবি’র ৬১ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক থাকলেও আরও প্রায় ২০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ লাইন নিতে আগ্রহী। অথচ বরাদ্দ সংকটের কারণে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না।
গ্রীড সাবস্টেশন বাস্তবায়নের প্রধান উদ্যোক্তা সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন, সুনামগঞ্জে বিদ্যুতের গ্রীড সাবস্টেশন নির্মাণ না হওয়ায় সুনামগঞ্জ অনেক পিছিয়ে ছিল। ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটের কুমারগাঁও বিদ্যুৎ সাবস্টেশন উদ্বোধন করার সময় আমি কাছাকাছি গিয়ে বলেছি, সুনামগঞ্জে আমরা চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ পাই না। তিনি সঙ্গে সঙ্গেই পিডিবি’র চেয়ারম্যান ও বিদ্যুৎ সচিবকে বলেছেন, সুনামগঞ্জের সুনাম রক্ষায় এই কাজটি করতে হবে।  এরপর থেকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের  প্রত্যেক সভায় এ বিষয়ে কথা বলেছি। সংশ্লিষ্টদের বার বার তাগিদ দিয়ে সুনামগঞ্জবাসীর জন্য বৃহৎ এই প্রকল্পের কাজটি শুরু করেছি। তিনি জানান, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এই গ্রীড সাবস্টেশন নির্মাণ কাজ শেষ হবে।
জেলা পরিষদ প্রশাসক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন আরো বলেন, সাবস্টেশনটি চালু হলে সুনামগঞ্জবাসীর দীর্ঘ দিনের বিদ্যুৎ ভোগান্তি দূর হওয়ার পাশাপাশি সুনামগঞ্জে গড়ে উঠবে শিল্পকারখানা। ঘুরে দাঁড়াবে সুনামগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরি সম্ভাবনাময় পর্যটন ও প্রযুক্তিখাত। চাহিদা পূরণ হবে পিডিবি ও আরইবির গ্রাহকদের। সর্বোপরি বদলে যাবে জেলার দৃশ্যপট।