বিদ্রোহীরা ভাল করেছেন- শান্তিপূর্ণ ভোটে বৃষ্টির ভোগান্তি

বিশেষ প্রতিনিধি
শনিবার জগন্নাথপুর, শাল্লা ও দিরাই উপজেলার ১৯ ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ এগিয়ে থাকলেও দলীয় বিদ্রোহীরা বেশ ভাল করেছেন। ৮ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা জয় পেয়েছেন ৬ ইউনিয়নে। বিএনপির দলীয় প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ২ ইউনিয়নে, বিএনপির বিদ্রোহীরা বাগিয়ে নিয়েছেন ২ ইউনিয়ন। স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন মাত্র ১টি আসনে। বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফল অনুসারে জগন্নাথপুরের কলকলিয়ায় আবুল হাশিম (আ.লীগ বিদ্রোহী), পাটলিতে মো. সিরাজুল হক (আ,লীগ বিদ্রোহী), চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিযনে আরশ মিয়া (আ.লীগ), আশারকান্দিতে শাহ আবু ইমানী (আ.লীগ), সৈয়দপুর-শাহারপাড়ায় তৈয়ব মিয়া কামালী (আ.লীগ বিদ্রোহী) ও পাইলগাঁও ইউনিয়নে মখলিছুর রহমান (স্বতন্ত্র) বিজয়ী হয়েছেন। শাল্লার আটগাঁও ইউনিয়নে আবুল কাশেম আজাদ (আ.লীগ), হবিবপুরে বিবেকানন্দ মজুমদার (আ.লীগ), বাহাড়ায় বিধান চন্দ্র চৌধুরী (আ.লীগ) ও শাল্লা ইউনিয়নে জামান চৌধুরী (আ.লীগ বিদ্রোহী) বিজয়ী হয়েছেন। দিরাই উপজেলায় রফিনগর ইউনিয়নে রেজোয়ান খান (আ,লীগ), ভাটিপাড়ায় শাহজাহান কাজী (আ.লীগ বিদ্রোহী), রাজানগরে সৌম্য চৌধুরী (আ.লীগ), চরনারচরে রতন কান্তি তালুকদার (বিএনপি), সরমঙ্গলে এহসান চৌধুরী (বিএনপি বিদ্রোহী), করিমপুরে আছাব উদ্দিন সর্দার(আ.লীগ), জগদলে শিবলি আহমদ বেগ (আ,লীগ বিদ্রোহী), কুলঞ্জে মুজিবুর রহমান (বিএনপি) ও তাড়ল ইউনিযনে আব্দুল কুদ্দুস (বিএনপি বিদ্রোহী) বিজয় লাভ করেছেন।  এদিকে জেলার তিনটি উপজেলার ১৯টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) গতকাল শনিবার শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে মানুষকে।
জেলার দিরাই উপজেলার নয়টি, জগন্নাথপুর উপজলায় ছয়টি এবং শাল্লা উপজেলার চারটি ইউপিতে ভোট হয়েছে। বৃষ্টির কারণে কখনো কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম আবার বৃষ্টির পর কোথাও ভোটার উপস্থিতি বেড়েছে। তবে কেন্দ্রে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল বেশি। অনেক কেন্দ্রের বাইরে কাঁদায় সারিতে দাঁড়াতে হয়েছে ভোটারদের। এ নিয়ে কোনো কোনো কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ভোটগ্রহণকালে কেন্দ্র  ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
সুনামগঞ্জে শনিবারের সকাল শুরু হয় বৃষ্টিকে সঙ্গী করে। প্রথম দফার বৃষ্টিতেই পথঘাটে কাঁদা-পানি জমে যায়। সকাল ১১টায় জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউপির খাসিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে বৃষ্টিতে মানুষের ভোগান্তির চিত্র চোখে পড়ে। ওই কেন্দ্রে জুতা পায়ে যেতে পারেননি ভোটারেরা। পথে কাঁদা-পানি জমে একাকার ছিল। স্কুল ভবনের সামনে সামান্য খোলা জায়গায় কাঁদাতেই কোনো রকমে দীর্ঘ সারি করে দাঁড়িয়েছেন ভোটারেরা। ভোটগ্রহণ হচ্ছে ধীরগতিতে। এতে ক্ষুব্ধ ভোটারেরা। সারিতে দাঁড়িয়েই দ্রুত ভোট নেওয়ার জন্য চিৎকার করছিলেন খাসিলা গ্রামের আবুল লেইছ। আবুল লেইছ বলেন,‘এক ঘন্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, আকাশের অবস্থা খারাপ। আবার কখন বৃষ্টি চলে আসে তার কোনো ঠিক নেই।’ এ সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী দীপক কান্তি দে অনেকটা দৌঁড়ে আসেন কেন্দ্রে। দীপক বলেন, ভাই এখানে ভোট ধীরগতিতে হচ্ছে শুনে এসেছি। স্কুলে জায়গা কম। মানুষ ঠিকমতো দাঁড়াতে পারছে না। বৃষ্টির কারণেই এই সমস্যা হয়েছে।
কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ইকরামুল হক জানালেন, দুই হাজার ২৭২ ভোটের মধ্যে তখন পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ৪৪০জন। তিনি বলেন,‘আমরা বুথ বাড়িয়ে একটা শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা করছি, আশা করি কোনো সমস্যা হবে না।’
বেলা সাড়ে ১২টায় দিকে একই ইউনিয়নের আটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, নারী ভোটারদের তিনটি সারি। পুরুষ ভোটারদের কোনো সারি নেই।
প্রিসাইডিং কমকর্তা মনোরঞ্জন তালুকদার বললেন, নারী ভোটারদের উপস্থিতি শুরু থেকেই বেশি। পুরুষেরাও আসছেন, তবে কম। মোকমপাড়া গ্রামের রতীন্দ্র দাস (৩০) বললেন,‘ভোটের পরিবেশ খুব ভালো। তবে আকাশ আবার অন্ধকার করেছে। বৃষ্টি হলে আবার ভোগান্তি শুর হবে।’
ওই কেন্দ্রের বারান্দায় থাকতেই শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। শুরু হয় ভোটারদের দৌঁড়াদৌঁড়ি। যে যেভাবে পারেন সারি ছেড়ে বারান্দায় ঠাঁই নেন।
শুধু জগন্নাথপুরে নয়, দফায় দফায় বৃষ্টিতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে দিরাই ও শাল্লার ভোটারদেরও। দিরাই উপজেলার রাজানগর ইউপির ফাতেমানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে কথা হয় ফাতেমা নগরের বাসিন্দা আবদুল গফুরের সঙ্গে। তিনি বলেন,‘মনে করছিলাম ভোটে ঝামেলা অইব। এখন দেখি মেঘ (বৃষ্টি) ছাড়া আর কোনো ঝামেলা নাই।’
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হারুন অর রশিদ বলেছেন, সুনামগঞ্জের তিন উপজেলার ১৯টি ইউপিতে শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি।