আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুস সত্তার। টানা ২৬ দিন আশ্রয় কেন্দ্রে আছেন পরিবার পরিজন নিয়ে। ভয়াবহ বন্যায় বিধ্বস্ত করে দিয়েছে তার বসতবাড়ি। বন্যায় নি:স্ব হয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি মেরামত করতে পারছেন না। যে কারণে আশ্রয় কেন্দ্রেই থাকতে হচ্ছে তাকে।
জগন্নাথপুর পৌর এলাকার শেরপুরের রিকশাচালক প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুস সত্তার বুধবার জানান, গত ১৭ জুন ভয়াবহ বন্যায় ঢলে তাঁর বসতঘরে উরু সমান পানি ছিল। অনেক কষ্টে পরিবারের বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে স্থানীয় আব্দুর রশিদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় আশ্রয় দেন। সংসারের উপর্যাজনের একমাত্র ব্যাটারি চালিত রিকশাটিও পানিতে তলিয়ে যায়। নষ্ট হয়ে গেছে রিকশার মটর (মেশিন)। ত্রাণ সহায়তার ওপর নির্ভরশীল এই প্রতিদ্বন্দ্বী এই চালক জানান, ঘর থেকে পানি নেমে গেলেও ঘরটি তছনছ হয়ে গেছে। ঘরের বেড়া. বাঁশের পালা (খুঁটি) বিপর্যস্ত। বসবাস করা অনুপযোগি হওয়ায় টানা ২৬ দিন ধরে আশ্রয় কেন্দ্রে আছি।
জন্ম থেকে দুই পায়ে আঙ্গুলগুলো এবং গোড়ালি উল্টো থাকায় হাঁটে চলাফেরা করতে পারি না। ব্যাটারি চালিত রিকশা চালিয়ে সংসার চালিয়ে আসছিলাম। বন্যার রিকশার মটর অচল করে দিয়েছে। মানুষের মানবিক সহায়তায় বেঁচে আছি কোনোভাবে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল থাকায় মাথা গোজার ঠাঁই মেরামত করতে করতে পারছি না।
আব্দুস সাত্তারের মতো শ’ শ’ পরিবারের বসতবাড়ি বন্যার ঢলের সঙ্গে আফাল আর ঢেউয়ে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। অনেক দরিদ্র মানুষের বসতঘর ভেঙে পড়ায় ফিরতে পারছেন না নিজগৃহে। ভয়াল বন্যা আর হাওরের আফাল ও ঢেউয়ে হাওরাঞ্চলের বসতভিটার ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর প্রস্তুুত করতে লড়ছেন মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৭ জুন অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জগন্নাথপুর পৌরসভাসহ উপজেলার আটটি ইউনিয়নের ভয়াল বন্যায় প্লাবিত হয়। হাজার হাজার ঘরবাড়ী পানিতে তলিয়ে যায়। লাখো মানুষ আশ্রয় কেন্দ্র ও উঁচু বাসা বাড়িতে আশ্রয় নেন।
হাওরপারের বাসিন্দা উপজেলার কবিরপুর গ্রামের দরিদ্র মারুফ মিয়া জানান, বন্যা, আফার আর ঢেউয়ে বসতবাড়ি ভেঙে গেছে। আত্মীয় বাড়িতে এখনো পরিবারের লোকজন নিয়ে আছি। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি কিভাবে সংস্কার করব ভেবে যাচ্ছি না। হাতে কোন টাকা পয়সা নেই। মানুষের সহায়তায় কোনভাবে বেঁচে আছি।
নলুয়া হাওর ব্যস্টিত চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, এবারের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত করে দিয়েছে হাওরাঞ্চলের বাড়িঘর। বন্যার ঢলের সঙ্গে আফাল আর ঢেউয়ে ঘরবাড়ি বিধস্ত করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ি মেরামতে লড়ছেন হাওরপারের মানুষ।
জগন্নাথপুর উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের (পিআইও) শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া জানান, জগন্নাথপুরে একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নে বন্যায় সাড়ে ৫ হাজার ঘরবাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজেদুল ইসলাম বলেন, প্রথম ধাপে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক উপহার হিসেবে বন্যার ক্ষতিগ্রস্ত ৪৪০ পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিয়েছি।


