বিনম্র শ্রদ্ধায় জগৎজ্যোতি বীরবিক্রমকে স্মরণ

স্টাফ রিপোর্টার
নানা আয়োজনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি দাস বীরবিক্রম’র মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের ১৬ নভেম্বর পাক হায়েনারা নির্মমভাবে হত্যা করে তাঁকে।
জগৎজ্যোতি দাস বীরবিক্রম এই দিন ভোরের সূর্য ওঠার সাথে সাথেই দাস পার্টির ৪২ সদস্য নিয়ে নৌকাযোগে হবিগঞ্জের বাহুবল অভিযানে রওয়ানা দেন। লক্ষ্যস্থলে যাওয়ার পূর্বেই বদলপুর নামক স্থানে হানাদারদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়েন জগৎজ্যোতি। ১০-১২ জন মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে জ্যোতির সীমিত গোলাবারুদের সাথে পাক বাহিনীর বিশাল অস্ত্রভো-ারের এক অসম যুদ্ধ চলতে থাকে। এক পর্যায়ে গোলাবারুদ কমে আসায় বেকায়দায় পড়ে যায় জ্যোতির দাস পার্টি। সঙ্গীদের জীবন বাঁচাতে স্থান ত্যাগের নির্দেশ দেন জ্যোতি। সহযোদ্ধাদের পালানোর সুযোগ করে দিয়ে মরনপণ লড়াই চালিয়ে যান জগৎজ্যোতি ও তাঁর সহযোদ্ধা ইলয়াস। হঠাৎ  ইলিয়াসও গুলিবিদ্ধ হন। নিজের মাথার গামছা খুলে জ্যোতি ভালো করে বেঁধে রক্তপড়া বন্ধ করেন ইলিয়াসের। ইলিয়াস পালানোর প্রস্তাব দিলেও জগৎজ্যোতি তাতে সম্মত হননি। একাই যুদ্ধ করেন। তিনি একাই ১২ জন পাকসেনাকে খতম করেন। বিকাল পৌঁনে ৫ টায় জ্যোতির অস্ত্রভা-ার শূন্য হয়। এমন সময় পাকবাহিনীর ছোঁড়া বুলেট এসে লাগে জ্যোতির শরীরে। ওখানেই তিনি মারা যান। পরে হায়েনারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুঁচাতে থাকে জ্যোতির শরীর। এক পর্যায়ে উল্লাস করতে করতে জগৎজ্যোতির লাশ ভাসিয়ে দেয় পাশের ভেড়ামোহনা নদীতে।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ চত্বরে থাকা শহীদ তালেব, গিয়াস, জগৎজ্যোতি স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্মা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আয়ুব বখ্ত জগলুল, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুছ ছত্তার, সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাস, জগৎজ্যোতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সালেহ্ আহমদ, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবু সুফিয়ান, মুক্তিযোদ্ধা মালেক হোসেন পীর, সাংস্কৃতিক সংগঠক ডা. সালেহ্ আহমদ আলমগীর, আওয়ামী লীগ নেতা হায়দার চৌধুরী লিটন, সিরাজুর রহমান সিরাজ, সাংবাদিক বিজন সেন রায়, পঙ্কজ কান্তি দে, সমকাল সুহৃদ সমাবেশের জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুল হাসান শাহীন, জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ব্যবসায়ী রাজিব রায়, আনিছুল হক বাবু, জুয়েল মিয়া। এছাড়া সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুছ ছত্তারের নেতৃত্বে শিক্ষকবৃন্দ এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জগৎজ্যোতির স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্মা নিবেদন করা হয়েছে।
এদিকে সন্ধ্যায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাঠাগার মিলনায়তনে জগৎজ্যোতির মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাঠাগারের সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সালেহ আহমদের পরিচালনায় পাঠাগার মিলনায়তনে স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র আইনজীবী ও কথাসাহিত্যিক স্বপন কুমার দেব, মুক্তিযুদ্ধ চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্রের আহবায়ক অ্যাড. বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু, মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. আলী আমজদ, মতিউর রহমান, আবু সুফিয়ান, মালেক হুসেন পীর, লেখক সুখেন্দু সেন, অ্যাড. সত্যব্রত রায়, ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি জিএম জ্বিলানী শুভ, সাংবাদিক শামস শামীম।
স্মরণ সভায় বক্তারা বলেন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি আমাদের গর্ব। তিনি ছিলেন একজন সাহসী যোদ্ধা। দেশ মাতৃকাকে শৃংখল মুক্ত এবং সহযোদ্ধাদের বাঁচাতে তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। আমাদের দায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও আদর্শ সম্পর্কে জানানো।