স্টাফ রিপোর্টার
সারাদেশে করোনা ভাইরাসে সনাক্তের উর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সীমিত পরিসরের লকডাউনের প্রথম দিনেই বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন। সেই সঙ্গে ভোগান্তিতে পড়েছেন পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীরা। শহরের মল্লিকপুর বাস স্টেশন, আব্দুজ জহুর সেতু সহ বিভিন্ন পয়েন্টে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাস চালক মো. আব্দুল হক। তিনি গোবিন্দগঞ্জের বাসিন্দা। তাদের সাত ভাই বোনের মধ্যে সে বড়। একার আয়ে তার পরিবার চলে।
তিনি বললেন,‘ লকডাউনে আমাদের সমস্যা চর্তুদিকে। আমরা কর্মজীবী মানুষ। বাসের চাকা চললে পেট চলে। দিন আনি দিন খাই। সরকারের নির্দেশ আমাদের মানতেই হবে। গবীব মানুষের দুর্গতি কয়ার (বলার) মতো নায় ভাই।’
বাস চালক শাহানুরের বক্তব্য একই। তিনি বললেন, করোনার জন্য সরকার আমাদের বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে। আমাদের পেটে যে ভাত নেই, সেটা কে দেখবে।
আম্বরখানার বাসিন্দা বিরেন্দ্র বর্মন ২ দিন আগে গিয়েছিলেন তাহিরপুরে শ্বশুর বাড়িতে। সোমবার থেকে সীমিত পরিসরে লকডাউনের খবর তিনি জানতেন না। তাহিরপুর থেকে মোটরসাইকেল করে আসতে অসুবিধা না হলেও সুনামগঞ্জ বাস স্টেশন এসে অবাক হলেন। তিনি বলেন, আমি আজ বাড়িতে যাবো। এসে দেখি কোনো পরিবহন চলছে না। এখন সিএসজি করে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাচ্ছি সিলেটে।
ষোলোঘরের বাসিন্দা সিএনজি চালক ফয়সাল আহমদ বললেন, আমি আমার পরিবারের বড় ছেলে। সিএনজি চালিয়ে সংসার চালাই। গাড়ির চাকা না ঘুরলে আমরা উপাস থাকতে হবে। তাই লকডাউনের মাঝেও সিএনজি নিয়ে বের হয়েছি। এসে দেখি কোনো যাত্রী নেই। তাই স্টেশনে বসে আছি।
সাচনার বাসিন্দা সিএনজি চালক মো. জাহিদ মিয়া বললেন, লকডাউন দিলে তো আমাদের গাড়ি বন্ধ রাখতে হয়। এজন্য পরিবার চালাতে হিমসিম খেতে হয়।


