বিপাকে মধ্যবিত্ত কৃষক শ্রেণী

শহীদ নূর আহমেদ
হাওরে ফসল ডুবার সাথে সাথে শংকা দেখা দিয়েছে  কৃষক পরিবারদের জীবন জীবিকা নিয়ে। ইতোমধ্যে ঋণের তাগাদা  ও পরিবারের অন্নের সংস্থান করতে স্বপরিবারে  শহরের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছেন শত শত কৃষক পরিবার। ফসল তলিয়ে যাওয়ার মাস খানেকের মধ্যেই জেলা জুড়ে কৃষক পরিবারের মাঝে  ত্রান বিতরণ ও বাজারের ওএমএস এর মাধ্যমে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি শুরু হলেও মধ্যবিত্ত কৃষক শ্রেণীর সংকট কাটছে না । লোক লজ্জার ভয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে  ১৫ টাকা কেজি দরে চাল কিনতে বাদ সাজছে আত্মসম্মানবোধ। এমন প্রেক্ষাপটে বিপাকেই পড়েছেন বলে জানান কৃষির  উপর নির্ভর ্একাধিক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবার।
দিরাই উপজেলার তাড়ল গ্রামের আনর চৌধুরী এ মৌসুমে ছেফটি ও তাংলির হাওরে দুই হাল জমি চাষ করেছিলেন। তার সকল জমিই তলিয়েছে।  মোটামোটি সম্পন্ন এই কৃষক এখন না পাচ্ছেন ত্রাণ না পাড়ছেন লাইনে দাঁড়িয়ে চাল কিনতে। তার এই অবস্থা সামনের দিনে আরও বাড়বে বলেই অনুমিত হয়। তিনি নিজেও এই টানাপোড়েনের কথা স্বীকার করেন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাখিমারা ও পিপঁড়া কান্দি হাওরে ২৪ খানি জমি চাষ করেছিলেন পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের বীরগাঁও গ্রামের এনামুল হক। চাষ করা সকল জমি আজ পানির নিচে। কোন ফসল ঘরে না তুলায় ১০ সদস্য পরিবোরে খাবারে যোগান নিয়ে চিন্তিত তিনি।  এনামুল হক বলেন, বিপদে আছি আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষরা। না পারছি সরকারি সহযোগিতা কামনা করতে,      না পারছি সমস্যার সমাধান করতে। এখন পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকেই পড়েছি আমরা।
সদর উপজেলার ভাদরপুর এলাকার রফিক আলী দেখার হাওরে ১৬ কেয়ার জমি চাষ করেছিলেন। এই জমির ফসল দিয়ে সংসারের যাবতীয় খরচ চালাতেন। কিন্তু বাঁধ ভেঙ্গে সকল ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় তিনি বিপাকে পড়েছেন ১২ সদস্যের পরিবার নিয়ে।
রফিক আলী বলেন, সকল জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছি এত বড় পরিবার নিয়ে।  শহরে কম টাকায় চাল পাওয়া গেলেও লাইনে দাঁড়ানোর অভ্যাস না থাকায় মন সায় দিচ্ছে না। এখন দেখছি লোকলজ্জার ভয় করলে পরিবারকে টিকানো দায় হবে।