সাইদুর রহমান আসাদ
প্রায় ১৮ মাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এই খাত নির্ভর ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানগুলো। স্কুল কলেজের সামনের দোকান ও শিক্ষা সামগ্রীর দোকানগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবি তাদের।
শিক্ষা সামগ্রী বিক্রেতারা জানান, দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তারা বেকায়দায় রয়েছেন। দোকানে আগের মতো বেঁচাকেনাও নেই। ধারকর্য করে সংসার চালাচ্ছেন। দোকান ভাড়া বাকী পড়ছে। অনেকে সে দোকানভাড়া মেটাতে দোকানের আসবাবপত্র বিক্রি করে দিচ্ছেন।
সুনামগঞ্জ সরকারি সতীশ চন্দ্র (এসসি) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে কনফেকশনারীর দোকানের মালিক মো. রবিউল হাসান। দোকানের নাম দিয়েছেন রাফি ভ্যারাইটিজ স্টোর। দোকানের সামনে এসসি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পদচারণা থাকলে তার দোকানও জমজমাট থাকে। কিন্তু গেল ১৮ মাস ধরে বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ায় তার দোকানটি বন্ধ হবার উপক্রম।
রবিউল বললেন, বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার পর থেকে আগের মতো বেঁচাকেনা নেই দোকানে। ধারদেনা করে পরিবার চালিয়েছি। ২ মাসের দোকান ভাড়া দেনা হয়েছিলো। দোকানের ২টা সোকেস বিক্রি করে সে টাকা দিয়েছি। প্রতিমাসে দোকানবাবদ খরচ রয়েছে ৯ হাজার টাকা। মাস শেষে অর্ধেক ঘাটতি থেকে যায়। বিদ্যালয় না খুললে আর কয়েক মাস এভাবে টেনেটুনে দোকান খুলে রাখতে পারবো। তারপর হয়তো বন্ধ করে দিতে হবে।
হুসেন বখ্ত চত্বরের পৌর বিপণির অন্নপূর্ণা স্টেশনারির পঞ্চাশোর্ধ ব্যবসায়ী মনোরঞ্জন পাল। খাতা, কলম, পেনসিল, স্কেল, জ্যামিতি বক্সসহ মনিহারি জিনিসপত্র বিক্রি করেন তিনি। বয়সের ভারের জন্য দোকানে ২ জন কর্মচারি রেখেছেন। মাস শেষে কর্মচারিদের বেতন দিয়ে মধ্যবিত্তের সংসার ভালোই চলে যাচ্ছিলো। এরমাঝেই মহামারি করোনা ভাইরাসের হানা। লকডাউনে বন্ধ করতে হলো দোকান। ছাটাই করতে হলো কর্মচারি। এখন সবকিছু স্বাভাবিক হলেও মনোরঞ্জন পালের দোকানে বেঁচাকেনা স্বাভাবিক হয়নি।
তিনি বললেন, সারাদিন দোকান খুলে বসে থাকি। কোনো বেঁচাকেনা নেই। এতে দোকানভাড়া পরিবারের খরচ জোগাড় করতেই হিমসিম খেতে হচ্ছে। ২ জন কর্মচারি ছিলো ছাটাই করেছি। একজন যায় নি। কাজ নেই গিয়েই কি করবে। তাই নামকাওয়াস্তে তাকে প্রতিদিন কিছু হাত খরচ দিয়ে চালাচ্ছি।
রিফাত এন্টারপ্রাইজের মালিক সাজু রহমান সাজু বলেন, আগের মতো বেঁচাকেনা নেই। শুধু এসাইনমেন্টের জন্য কিছু শিক্ষার্থী আসে। এতে কম্পিউটারের দোকানের ব্যবসা বেড়েছে। আমাদের বেঁচাকেনার কোনো পরিবর্তন নেই।
মা ডিজিটাল স্টুডিও’ এর মালিক রাজিব তালুকদার বললেন, দোকান শিক্ষার্থীরা এসাইনমেন্টের প্রশ্ন ও কাগজ নিতে আসে। এতে এখন বেঁচাকেনা ভালোই হচ্ছে। তবে স্কুল খোলা থাকার সময় থেকে এই বেঁচাকেনা অনেক কম।
এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ব্যবসায় মান্দাভাব লাইব্রেরিতেও। বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় বই বিক্রি করতে পারছেন না তারা। এতে লাইব্রেরি সংশ্লিষ্ট কর্মচারিরা পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
- বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যে থাকা ষড়যন্ত্রকারীদের চিহিৃত করার দাবিতে মানববন্ধন
- ছাতকে তলিয়ে গেছে রোপা আমন বীজতলা


