বিপাকে হাওরবাসী

এনামুল হক, ধর্মপাশা
হঠাৎ করে ওএমএসের চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছে হাওরবাসী। গত এপ্রিল মাস থেকে ১৫ টাকা করে ডিলারের মাধ্যমে ওএমএসের চাল বিক্রি করা হলেও রবিবার থেকে তা প্রতি কেজি ৩০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। ডিলাররা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই তাঁরা ৩০ টাকা দরে চাল বিক্রি করছেন। তবে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খোলা বাজারে চাল ক্রয়ে আগ্রহ কমেছে হাওরবাসীর। রোববার ডিলারের দোকানগুলোতে তেমন ভিড় দেখা যায়নি। ওএমএসের চালের সাথে বাজারেও চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলে এবার অকাল বন্যায় ও ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের ফলে ফসলডুবিতে কৃষকের ফসলহানির পর ওই সকল অঞ্চলে খাদ্য ঘাটতি মেটাতে খোলা বাজারে ওএমএসের মাধ্যমে ১৫ টাকা দরে চাল বিক্রি শুরু হয়। ডিলাররা আগে সাড়ে ১৩ টাকা দরে চাল সংগ্রহ করতে পারতো আর এখন সাড়ে ২৮ টাকা দরে চাল কিনতে হচ্ছে। এতে করে চাল বিক্রি নিয়েও তাদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।
হঠাৎ করে চালের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে আগে থেকে অবগত না থাকায় চাল কিনতে এসে রোববার বিপাকে পড়েন সাধারণ মানুষ। ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, দিরাইসহ সুনামগঞ্জের সবকটি ওএমএসের পয়েন্টে ৩০ টাকা দরে চাল বিক্রি হয়েছে। সদর ইউনিয়নের ওএমএস ডিলার তরিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, ‘হঠাৎ করে চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছে হাওরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ। বাজার থেকে চাল কেনার সামর্থ্য নেই এমন লোকজন ৩০ টাকা করে চাল কিনেছেন আজ (রোববার)।’
মধ্যনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রবীর বিজয় বলেন, ‘আগে একজন ব্যক্তি ১৫ টাকা দরে ৫ কেজি চাল ক্রয়ের জন্য যাতায়াত খরচসহ ১০০ নিয়ে আসতো কিন্তু এখন ৫ কেজি চালের দামই ১৫০ টাকা। সেখানে যাতায়াত খরচ যোগ করলে প্রতি কেজি চালের দাম পড়বে ৪০ টাকার কাছাকাছি।’
মধ্যনগর বাজারের বাসিন্দা আলাউদ্দিন বলেন, ‘৭৫ টাকা দিয়ে ৫ কেজি চাল কিনতে গিয়েই অনেক পরিবারকে যেখানে হিমশিম খেতে হচ্ছে সেখানে হঠাৎ করে চালের মূল্য বৃদ্ধি মরার ওপর খাড়ার ঘা ছাড়া কিছুই নয়।’
ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোসাহিদ তালুকদার বলেন, ‘হঠাৎ করে ওএমএসের চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি অমানবিক। চালের দাম না কমালে হাওরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষকে না খেয়ে মরতে হবে।’
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাকারিয়া মোস্তফা বলেন ‘গত ১৫ তারিখ পর্যন্ত ১৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তরের ডিজি মহোদয়ের নিকট থেকে ৩০ টাকা দরে ওএমএসের চাল বিক্রির জন্য একটি চিঠি পেয়েছি। সারা দেশের সবগুলো পয়েন্টে একই দরে চাল বিক্রি হচ্ছে।’
জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ (রোববার) থেকে ৩০ টাকা দরে ওএমএসের চাল বিক্রি হচ্ছে।’