দ্বিতীয় সিলেট বিভাগীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’২০১৬ এর ফাইনালে সুনামগঞ্জ জেলা দল নরসিংদী জেলা দলের কাছে ৩-১ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়েছে। এর আগে সুনামগঞ্জ জেলা দল শক্তিশালী সিলেট জেলা দলকে হারিয়ে ফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। সিলেটের মাঠে তাদের পরিচিত পরিবেশ ও দর্শক সমর্থনের মাঝে সিলেটকে হারানো কম কৃতিত্বের কথা নয়। একটি বিভাগীয় প্রতিযোগিতায় সুনামগঞ্জ ফুটবল দলের এমন সফলতায় আমরা দলের খেলোয়ার, সংগঠক ও আয়োজকবৃন্দকে ধন্যবাদ জানাই। সুনামগঞ্জের স্টেডিয়ামে কোন প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল প্রতিযোগিতার আসর বসছে না বহুদিন ধরে। এরকম অবস্থায় বাইরের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়া আমাদের ফুটবলের প্রতি ভালবাসারই প্রমাণ করে। জানা যায় ফাইনাল খেলা দেখতে কয়েক শ’ ক্রিড়ামোদী সিলেট গিয়েছিলেন। তারা অকুণ্ঠ সমর্থন জুগিয়েছেন সারাক্ষণ নিজ জেলা দলকে। এই দর্শকরা পরিপূর্ণ আনন্দ পেতেন যদি ফাইনালে নিজেদের দল বিজয়ী হতে পারত। কিন্তু এটি খেলা। কোন খেলায়ই একটি দল প্রতিদিন জিততে পারবে না। ফ্ইানালে আক্রমনাত্মক ফুটবল দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে কিন্তু সুযোগের সদ্ব্যবহার করে গোল আদায় করতে পারেনি, এটি হতাশায় ভাসিয়েছে দর্শকদের।
খেলা শেষ হওয়ার পর এই প্রতিযোগিতায় জেলা দলের খেলোয়াড় বাছাই নিয়ে ফেসবুকে কিছু প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন জেলা দলের ১১ জন প্লেয়ারই নাকি ছিলেন বিদেশি অর্থাৎ নাইজেরিয়ান। এইসব খেলোয়ারের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। অনেকেই বলার চেষ্টা করেছেন, দলকে শক্তিশালী করতে কয়েকজন বিদেশি খেলোয়াড় অন্তর্ভূক্ত করা যেতেই পারে। কিন্তু পুরো টিমই সাজানো হবে বিদেশিদের দিয়ে? আমরাও মনে করি সংগঠকদের এ বিষয়ে আরেকটু চিন্তা করা দরকার ছিল। সুনামগঞ্জে নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল আসর না বসলেও জেলায় প্রতিভাবান ফুটবলারের আকাল পড়েছে এরকমটি মানতে নারাজ সকলেই। আমাদের ফয়সল বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় জাতীয় দলের গোলকিপার হিসাবে অংশগ্রহণ করে এবং মূলত তার নৈপুন্যের উপর ভর করেই বাংলাদেশ সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ফয়সলের মানের না হোক ধারে-কাছের মানের অনেক খেলোয়াড় সুনামগঞ্জেই রয়েছে। ফাইনালে সুনামগঞ্জের ছেলেরা থাকলে জেতার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাত, যেটি পেশাদার প্রশ্নবিদ্ধ মানের বিদেশি খেলোয়াড়রা কখনও দেখাতে পারবেন না। ভবিষ্যতে জেলা দল গঠনের সময় বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য আমরা ক্রীড়া সংগঠকদের প্রতি অনুরোধ রাখছি।
বিভাগীয় কমিশনার গোল্ডকাপে খেলোয়াড় অন্তর্ভূক্তির উদার নীতিও এমন অবস্থা তৈরির জন্য দায়ী বলে আমরা মনে করি। এরকম টুনামের্ন্টে যেহেতু জেলার নাম নিয়ে দলগুলো অংশ নিচ্ছে সেখানে বিদেশি খেলোয়াড়ের সংখ্যা বেঁধে দেয়া উচিত ছিল। তাহলে জেলার সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়রা খেলায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে। আর কে না জানে বড় প্রতিযোগিতায় অংশ না নিলে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ও জয়ের অদম্য ইচ্ছা জেগে উঠে না। আগামীতে এই টুর্নামেন্টে বিদেশি খেলোয়াড় কোটা নির্ধারণ করে দেয়া হবে বলে আমরা আশা রাখছি।
সুনামগঞ্জে ফুটবল সংগঠকদের প্রতি আমাদের আহ্বান, আপনারা জেলা স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করুন। অতীতের মতো রমরমা না হোক এখনও ফুটবলের জৌলুষ এতটুকু কমেনি। ক্রিকেট ক্রেজের এই সময়েও ফুটবলের জনপ্রিয়তাই বেশি, অন্তত গ্রাম-বাংলায়। ফুটবল আমাদের রক্তের সাথে মিশে আছে। দেশে এখন যেরকম আদর্শিক ক্রান্তিকাল চলছে সেখানে তরুণদের সঠিক পথে ধরে রাখতে সাংস্কৃতিক ও খেলাধূলার সাথে জড়িত করা একান্ত প্রয়োজন। অতীতে সুনামগঞ্জে যেসব লীগ বা টুর্নামেন্ট চালু ছিল জেলার ফুটবল কর্মকর্তারা সেগুলোর পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে তরুণ সমাজকে ক্রীড়ার সুস্থ জগতে নিয়ে আসবেন বলে আমরা আশা রাখছি।

