বিমূঢ় বিষন্নতায় আচ্ছন্ন হলেও আস্থা কমেনি একটুও

টি-২০ বিশ্বকাপে বুধবার রাতে ভারতের বিরুদ্ধে খেলায় বাংলাদেশ স্পষ্টতই জাতিকে হতাশ করেছে। যদিও এটি নিছকই একটি খেলা এবং খেলাকে খেলার বাইরে বিবেচনা করার কোন অবকাশ নেই তারপরেও জাতীয় জীবনে সফলতার পরিমাণ আমাদের এতোটাই কম যেখানে ক্রিকেটের একটি বিজয় পুরো জাতিকে আনন্দের উপলক্ষ এনে দেয়। আন্তর্জাতিক পরিসরে একমাত্র ক্রিকেট দিয়েই আমরা যেকোন দেশকে চ্যালেঞ্জ জানানোর যোগ্যতা অর্জন করেছি। ক্রমশ এদেশের মানুষের আবেগ অনুভূতিতে পরিণত হয়েছে এই খেলাটি।  বলা চলে দেশাত্ববোধ, দেশপ্রেম ও জাতীয় একতার অনুপম নিদর্শন দেখাতে ক্রিকেটের জুরি এই দেশে দ্বিতীয়টি নেই। তাই ক্রিকেটের জয়ে পুরো দেশ আনন্দে ভাসে পরাজয়ে বিমর্ষতার হতাশা চেপে বসে বুকে। বুধবার ভারতের বিপক্ষে খেলা শুরুর আগে বাংলাদেশের গায়ে ফেভারিটের তকমা লাগানো ছিল না। বরং ভারতের গায়েই লাগানো ছিল এই তকমা। টসে জিতে বাংলাদেশি অধিনায়ক ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলে দলের দাপুটে বোলাররা অধিনায়ককে লড়াই করার জায়গা তৈরি করে দেন। আইসিসি নামক বিশ্ব ক্রিকেট ‘বাণিজ্য সংস্থা’ এর প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ তথা বাংলাদেশের মূল স্ট্রাইক বোলার তাসকিন ও আরাফাত সানীর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার পরও বাংলাদেশের বোলিং পথ হারায়নি। মোস্তাফিজ, আল আমীন, সাকিব, মাশরাফিদের প্রতিপক্ষের বুকে ভয় ধরানো বোলিং আর সৌম্য সরকার সহ পুরো টিমের অসাধারণ ফিল্ডিং নৈপুন্যে বাংলাদেশ মাত্র ১৪৬ রানে ভারতে আটকে রাখতে সক্ষম হয়। টি ২০ ম্যাচে এইরকম রানকে লো স্কোরিং বিবেচনা করা হয়। মূলত তখন থেকেই বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা জাগ্রত হয়। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুটা মোটামোটি ভালই হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আস্কিং রানরেটের সাথে পাল্লা দিয়েই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছিল। শেষ ওভারে যখন ১১ রানের প্রয়োজন ছিল তখনও মুশফিকুর রহিম পর পর দুই বলে চার মেরে সমীকরণটিকে একেবারেই সহজ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্রিকেটবিধাতা বোধ করি তখন আড়ালে বসে মুচকি হাসছিলেন। শেষ তিন বলে প্রয়োজন যখন মাত্র ২ রান তখনই নক্ষত্রের পতন হয়। শনি ঘাড়ে চেপেছিল মুশফিকের। শেষ ওভারের চতুর্থ বলে উড়িয়ে মেলে প্যাভিলিয়নে জয় নিয়ে ফিরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বল সীমানা ছাড়ার পরিবর্তে ফিল্ডারের মুঠোবন্দী হয়ে পড়ে। উল্লাসে মাতে ভারতীয় সমর্থকরা। এতেও চিন্তার কিছু ছিল না। তখনও ক্রিজে মাহমুদুল্লাহ রয়েছেন। কিন্তু একি করলেন মাহমুদুল্লাহ। পঞ্চম বলটি তিনিও উড়িয়ে মারলেন এবং যথারীতি আউট। আর তখনই বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতে উঠে ভারতীয়রা। কারণ ততক্ষণে তারা জয়ের সুবাস পেয়ে গেছে। শেষ বলের আনুষ্ঠানিকতায় শুভাগতর রানআউট অনিবার্যই ছিল কেবল। মূলত শেষ ওভারের শেষ তিন বলে তিন তিন জন ব্যাটসম্যানের আউটই বাংলাদেশের কপালে একটি অবশ্যম্ভাবী বিজয়ের জয়তিলকের পরিবর্তে পরাজয়ের কালিমা লাগিয়ে দিল। এরজন্য কাকে দায়ী করা যাবে? মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ নাকি ভাগ্যকে? বাংলাদেশি সমর্থকরা যখন আনন্দে উল্লাসে পটকা ফুটানো থেকে শুরু করে আনন্দ মিছিল বের করে দিয়েছিলেন তখনই পুরো আয়োজনকে কবরের নিস্তব্ধতায় ঢেকে দেওয়ার জন্য আসল কারণ বোধ করি আমাদের কপালই। নতুবা এই পরিস্থিতিতে যখন বিশ্বের কোন দুর্বল দলই সবচাইতে শক্তিশালী দলের বিপক্ষেও হারতে পারে না সেখানে কেন বাংলাদেশের এই পরাজয়?
এই পরাজয়ে আমরা বিমূঢ় বিষন্নতায় আচ্ছন্ন হয়েছি সত্য কিন্তু বাংলাদেশ দলের উপর আমাদের আস্থা এতে একটুও কমেনি। আমরা জানি এই হার নিছক একটি দুর্ঘটনা, ভবিষ্যতে আরও অনেক বিজয় একসময় এই বিষন্নতাকে ঢেকে দিবে। ক্রিকেটের মাধ্যমে জাতি অগ্রযাত্রার যে নিশানা খুঁজে পেয়েছে তাকে আরও বহু দূর নিয়ে যেতে হবে যে আমাদেরই।