বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গ্রাম আদালত কাজ করছে -জাকির হোসেন

আকরাম উদ্দিন
গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের উদ্যোগে গ্রাম আদালত কার্যক্রমকে অধিকতর গতিশীল করতে ও মামলা স্থানান্তরে করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভা হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) মো. জাকির হোসেন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন,‘বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গ্রাম আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ১৯৭৬ সালে এই গ্রাম আদালত ও আইন প্রতিষ্ঠা হয়। প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে তাঁদের অবস্থান থেকে নিরপেক্ষ এবং নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
তিনি বলেন,‘গ্রাম আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। আস্থা অর্জনের জন্য প্রয়োজনে ‘গ্রাম আদালত’ নামের পরিবর্তন আনা যেতে পারে। গ্রাম আদালত নামের পরিবর্তে ‘ইউনিয়ন সালিশ বোর্ড’ নামের প্রস্তাব রাখা যেতে পারে। নামের কারণেও অনেক সময় আস্থা অর্জন হয় । সেই সাথে সালিশে থাকা ব্যক্তিগণকে নিষ্ঠার সাথে সালিশী দায়িত্ব পালন করতে হবে।’ গ্রাম আদালত কার্যক্রমকে গতিশীল করতে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের জেলা ফ্যাসিলিটেটর খন্দকার রবিউল আউয়াল নাসিম জানান, ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর ও জগন্নাথপুর উপজেলার ২০টি ইউনিয়নের গ্রাম আদালতে মোট ১৬১৬ টি মামলা দায়ের হয়েছে। সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদে দায়ের ১৪২২ টি (ফৌজদারী ৮২৫ টি ও দেওয়ানী ৫৯৭টি)। উচ্চ আদালত থেকে প্রেরণ করা হয়েছে ১৯৪টি। এর মধ্যে ৭৩ ভাগ (১২০৮ টি) মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। মাত্র ৪ ভাগ (৬৯ টি) মামলা চলমান রয়েছে। ২৩ ভাগ (৩৭২) মামলা নামঞ্জুর, খারিজ ও বাতিল হয়েছে।
নিষ্পত্তিকৃত মামলার মধ্যে রায় বাস্তবায়ন হয়েছে ৯৪ ভাগ (১১৩২টি মামলার)। রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফৌজদারী মামলায় ২৮ লাখ ৪০ হাজার ৩৫০ টাকা, দেওয়ানী মামলায় ২১ লাখ ২৭ হাজার ৬৩০ টাকা পেয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ও বাদীপক্ষ। জমি উদ্ধার করা হয়েছে ৪০ লাখ ৪২ হাজার টাকার। এছাড়াও অন্যান্য সম্পদ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেন, অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কুদরত ই এলাহী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সমীর বিশ্বাস, জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজুল আলম মাসুম, সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সহিদুর রহমান।
গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) জেলা ইএএলজি প্রকল্পের ফ্যাসিলিটেটর সৈয়দ নজরুল ইসলামের পরিচালনায় সভায় মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার আল আমিন সরকার, গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মশিউর রহমান চৌধুরী, তাহিরপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান বুরহান উদ্দিন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউপি চেয়ারম্যান রনজিত চৌধুরী রাজন, জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর-শাহাপুর ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান সৈয়দ লিলু মিয়া, ধনপুর ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী কালাচান, আমাদেরসময় জেলা প্রতিনিধি বিন্দু তালুকদার।