বিশেষ প্রতিনিধি
‘১৫ দিন ধইরা কামাই রুজি নাই, টিপ-টুপ নায়, ভাড়ার কোন আলাপ-টালাপও অর না, বেকার ঘুরতাছি, তাহিরপুর ঘাটে ৫০ টির মতো নৌকা বওয়াত (বসা), হকলেরঔ এক অবস্থা’
তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকবাহী বিলাসবহুল ট্রলার ‘টাঙ্গুয়া নৌ পরিবহন এর চালক দিলশাদ মিয়ার মন্তব্য এটি। টাঙ্গুয়ার হাওরের পর্যটক আকর্ষণীয় ট্রলার ‘আবিদা এ- তাহা’ ও ‘সিন্দাবাদের’ চালকও একই ধরণের মন্তব্য করলেন।
ট্রলার চালক দিলশাদ মিয়া জানালেন, ঈদের ছুটির পর পর্যটক বেড়ে যাবার কথা ছিল। তার ট্রলারেই পর্যটকের তিনটি দলের টাঙ্গুয়া ভ্রমণের অগ্রিম কথা হয়েছিল। বন্যা-বজ্রবৃষ্টির কারণে তারা আসা বাতিল করে দেয়। তিনি জানালেন, পর্যটক না আসায় ট্রলারের শ্রমিক, বাবুর্চি, রেস্ট হাউস, হোটেল শ্রমিক সকলেরই খারাপ যাচ্ছে। হাজারো মানুষ বেকার রয়েছেন।
বিশ^ম্ভরপুরের পর্যটনস্পট পাহার বিলাসে আসা পর্যটকদের ছবি তুলেই জীবিকা মথুরকান্দির শাহীন আলমের। ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাত ও পাহাড়ি ঢল নামা শুরু হতেই পর্যটক আসা একদম কমে গেছে জানালেন শাহীন আলম।
শাহীন আলম বললেন, সারা দিনে ১০-১৫ জন পর্যটক আসে। এখানে ১৫ জন ক্যামেরাম্যান পর্যটকের ছবি তুলি আমরা। আগে দিনে দুই থেকে চার হাজার টাকা আয় হতো। এখন একশ টাকাই হয় না। এজন্য এক দুইজনের বেশি ক্যামেরাম্যান ওখানে ছবি তোলার কাজে যায় না। বৃহস্পতিবার একজন ক্যামেরাম্যানও যায় নি। সড়কের পানি নেমেছে আবহাওয়াও ভালো হয়েছে, এখন পর্যটকেরা আসতে কোন সমস্যা নেই বলে মন্তব্য করলেন এই তরুণ ফটোগ্রাফার।
পাহাড়ি ঢলে দোয়ারাবাজারের পর্যটক আকর্ষণীয় স্থান মুক্তিযুদ্ধ উপত্যকা হিসেবে পরিচিত বাঁশতলার যোগাযোগ সড়ক যাতায়াত অনুপযোগী হয়ে আছে। ব্রিটিশ সড়কের ঢালাইয়ের নীচের মাটি সরে গেছে। মাঝেরগাঁও থেকে ফকিরের পুল সেতুর অংশ পর্যন্ত চার স্থানে ভেঙেছে। ওইদিক দিয়ে পর্যটকরা যাওয়ার কোন উপায় নেই।
বাঁশতলার বাসিন্দা সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন মাস্টার বললেন, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল শুরু হবার পর থেকে বাঁশতলায় কোন পর্যটক দেখা যায় নি। গেল পাঁচ দিন হয় রোদের দেখা মিলেছে। এখন পর্যটকেরা হয়তো আসতেন। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে ইচ্ছা থাকলেও পর্যটকরা আসতে পারছেন না।
গেল ১৫ দিন হয় পর্যটক না আসায় সুনামগঞ্জে রেস্ট হাউস এবং হোটেল ব্যবসায়ও মন্দাভাব যাচ্ছে।
শহরের পুরাতন বাসস্টেশনের হোটেল রয়েল ইন’এর ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বললেন, এতো বড় হোটেল, বন্যা শুরু হবার পর থেকে ৪-৫ টির বেশি রুম ভাড়া যাচ্ছে না।
সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব আলম বললেন, এলজিইডির ৫১৫.৮৯ কিলোমিটার সড়কের ক্ষতি হয়েছে বন্যায়। টাকার অংকে প্রায় ১৪৪ কোটি টাকার ক্ষতি। পানি কমার পর ক্ষতি হয়তো আরও বাড়তে পারে। সড়ক মেরামতের ক্ষেত্রে পর্যটকদের যোগাযোগ সড়ককে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান কবির বললেন, মে মাসের ১০-১২ তারিখ থেকেই ভারী বর্ষণ, বজ্রবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল নামছিল। এজন্য পর্যটকদের হাওরে ভ্রমণে সতর্কতার কথা বলা হয়েছিল। এখন আবহাওয়া ভালো হয়েছে। হাওরেও টইটুম্বুর পানি, ইচ্ছা করলেই ভ্রমণপিপাসুরা আসতে পারেন।


