বিশ্বম্ভরপুরে কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি

সালেহ আহমদ, বিশ্বম্ভরপুর
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মিছাখালী রাবার ড্যাম পরিচালনা কমিটির অবহেলায় ৫ শতাধিক একর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহি অফিসার ও সহকারি প্রকৌশলী (বিএডিসি সেচ প্রকল্প) বরাবর গণঅভিযোগ করা হয়েছে। মঙ্গলবার ২ শতাধিক কৃষক স্বাক্ষরিত এই অভিযোগ প্রদান করা হয়।
বাদাঘাট (দ:) ইউনিয়নের অন্তর্গত দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ রাবার ড্যাম পরিচালনা কমিটি অসময়ে রাবারের ফুলানো পানি ছেড়ে দেওয়ায় পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করে আঙ্গারুলী হাওরের প্রায় ২ শতাধিক কেয়ার জমির পাকা ধান ও বাদাম পানির নীচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া দুর্গাপুরের কিত্তা, ওমরপুরের কিত্তা, ললিয়াপুরের কিত্তা, ভাটিপাড়া, বাঘমারার কিত্তায় আরো প্রায় ৫শত’ একর স্কীমের জমির পাকা ধান ও বাদাম পানির নিচে তলিয়ে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ২২মে মিছাখালী রাবার ড্যামের দায়িত্বপ্রাপ্তরা রাবারের ফুলানো পানি ছেড়ে দেয়। ফলে ঐ রাতেই বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে আঙ্গারুলী হাওর ও তৎপরবর্তী শক্তিয়ারখলা, মধুপুর, বালিজুরি, দুর্গাপুর, জগন্নাথপুর, ওমরপুর, ললিয়াপুর, বাঘমারা ও ভাটিপাড়া গ্রাম এলাকার ফসলা পানির নিচে তলিয়ে যায়। এদিকে ইউনিয়নের সিরাজপুর গ্রামের পশ্চিমে মধু মিয়া ঢালায় নির্মিত স্লুইস গেটের ঢালা খোলা থাকায় অনায়াসে পানি প্রবেশ করে শাহপুরের কিত্তার প্রায় আরো ২শত একর জমির ধান অকালে পানির নীচে তলিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সফর উদ্দিন বলেন, হাওরে ধান রেখে রাবার ড্যামের পানি ছেড়ে দেওয়া ঠিক হয়নি। দায়িত্ব অবহেলায় বিরাট ক্ষতি হয়ে গেল।
সুনামগঞ্জ বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী হোসাইন মোহাম্মদ খালেদুজ্জামান জানান, এ ব্যাপারে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। রাবার ড্যাম পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব অবহেলা থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।
মিছাখালি রাবার ড্যাম পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির মৃধা জানান, আমি কোন ত্রুটি করিনি। রাবার ড্যাম উদ্বোধনের পর থেকেই আমি নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছি। রাবার ড্যাম পরিচালনার জন্য সরকারিভাবে কোনো ফান্ড না থাকায় ২০১৩ সাল থেকে অদ্য পর্যন্ত লেবার, বিদ্যুৎ বিলসহ অন্যান্য খরচ বাবদ প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকা আমার হাত থেকে এককভাবে খরচ করেছি। কর্তৃপক্ষকে বারবার বলার পরও কোন আর্থিক বরাদ্দ পাইনি।
তিনি বলেন, বর্তমানে রাবার ড্যামের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট ছিদ্র হয়ে পানি কমে যাওয়া এবং আম্পানের কারণে বিদ্যুৎ না থাকায় তৎক্ষণাৎ রাবার ফুলানো সম্ভব হয়নি। ফলে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত হাওরে প্রবেশ করে ক্ষয়ক্ষতি হয়।