স্টাফ রিপোর্টার
বিশ্বম্ভরপুরে জয়বাংলা চত্ত্বরের উদ্বোধন হয়েছে। সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বিরোধী দলীয় হুইপ পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্ এই চত্ত্বরের উদ্বোধন করেন। তবে এই অনুষ্ঠান বয়কট করেছে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সদরের পয়েন্টকে জয়বাংলা চত্ত্বর ঘোষণা দিয়ে ওখানে স্মারকস্তম্ভ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে এই চত্ত্বর উদ্বোধন করতে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্। তিনি ওখানে পৌঁছার আগেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা চত্ত্বরের পাশে সমবেত হয়ে ‘বিশ^ম্ভরপুরের মাটি আওয়ামী লীগের ঘাটি’, ‘আওয়ামী লীগ ছাড়া- জয়বাংলা চত্ত্বরের উদ্বোধন হবে না’ এমন স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় সংসদ সদস্যের সমর্থক ও আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
দুপুর একটায় নেতা কর্মীসহ সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্ বিশ্বম্ভরপুরে গিয়ে প্রথমে জয়বাংলা চত্ত্বরের উদ্বোধন করেন। পরে পাশে নির্মিত শহীদ মিনারও উদ্বোধন করেন। এসময় দুইপক্ষ স্লোগান-পাল্টা স্লোগান দিলেও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে নি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমদ মানিক বললেন, জয়বাংলা আওয়ামী লীগের স্লোগান, উপজেলা সদরের পয়েন্টকে জয়বাংলা চত্ত্বর হিসেবে উদ্বোধন করা হবে, অথচ আওয়ামী লীগকে দাওয়াত দেওয়া হয় না। আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা এটি মেনে নিতে পারে নি। একারণে আওয়ামী লীগ শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ করেছে। এই অনুষ্ঠানও বয়কট করেছে।
বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিউর রহমান জাদিদ বললেন, জয়বাংলা চত্ত্বরের উদ্বোধন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। তবে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে নি। বিরোধী দলীয় হুইপ চত্ত্বরের উদ্বোধন করেছেন।
সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্ বললেন, জয়বাংলা চত্ত্বরে আমার বিশেষ অর্থায়ন ছিল, আমি মুক্তিযোদ্ধাগণকে নিয়ে সেটি উদ্বোধন করেছি, পাশে নির্মিত শহীদ মিনারও উদ্বোধন করেছি, উদ্বোধনের সময় ওখানে থাকা আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদেরও আমি ডেকেছি, পরে যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের এক নেতার মধ্যে হাতাহাতি হওয়ায়, আমি আমার মতো করে জয়বাংলা চত্ত্বর উদ্বোধন করে এসেছি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা বিনতে রফিক, উপজেলা প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান সরদার, থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইকবাল হোসেন, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযুদ্ধা আতাব উদ্দিন, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল মান্নান, বীর মুক্তিযুদ্ধার শ্যামল বরণ আচার্য, উপজেলা জাপা সভাপতি আবদুর রহমান, উপজেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আব্দুল কাদির, পলাশ ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, বাদাঘাট ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এরশাদ মিয়া, উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক হাজী সোহেল আহমদ, উপজেলা যুবলীগ সহ সভাপতি আনোয়ার হোসেন খোকন প্রমুখ।


