বিশ্বম্ভরপুরে ফলন কমেছে নারিকেলের

বিশ্বম্ভরপুর প্রতিনিধি
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই নারিকেল গাছ রয়েছে। তবে নানা কারণে বর্তমানে নারিকেল গাছের ফলন কমতে শুরু করেছে। আবার কোনো কোনো গাছে নারকেল একেবারেই ধরছে না।
জানা যায়, গত প্রায় দুই বছর আগে থেকে গাছে নারিকেল খুবই কম ধরছে। এ বছর অনেক গাছে পরিচর্যা ও যতœ করা সত্ত্বেও নারিকেল ধরছেনা।
বিশ্বম্ভরপুর গ্রামের সুজন বিশ্বাস বলেন, গত বছর থেকে আমার গাছে নারিকেল ধরছেনা।
উপজেলার শক্তিয়ারখলা গ্রামের গণমাধ্যম কর্মী সালেহ আহমেদ বলেন, আমার বাড়িতে তিনটি গাছে পূর্বে নারিকেল ধরতো, বর্তমানে ধরছেনা।
কৃষ্ণনগর গ্রামের কাজলের বাড়িতে দুটি গাছে পূর্বে প্রচুর পরিমান নারিকেল ধরতো। গত বছর থেকে গাছের পরিচর্যা করা সত্ত্বেও ধরছেনা। অনুরূপ কথা অনেকেই বলেছেন।
এদিকে গাছে নারিকেল কম হওয়ায় এবং কোনো কোনো গাছে না ধরার কারণে বাজারে নারিকেলের দাম অত্যাধিক বেড়ে গেছে। প্রতিটি নারিকেল ১৫০ টাকা থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়াও যাচ্ছে না। পিঠা তৈরি ও বিভিন্ন উৎসবে প্রচুর নারিকেল ব্যবহার হয়। তাছাড়া পূজা পার্বনেও নারিকেল লাগে।
বিশ্বম্ভরপুর বাজারের বিক্রেতা প্রফুল্ল দাশ বলেন, নারিকেল বেশি পাওয়া যায় না। অতিরিক্ত দাম বেড়েছে নারিকেলের। গাছে নারিকেল ধরার হার যে ভাবে কমছে আগামীতে নারিকেল এ অঞ্চল থেকে বিলুপ্ত হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে।
অনেকেই বলছেন, অতিরিক্ত ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ গ্যাস ব্যবহারের কারণে গাছে নারিকেল ধরছেনা। তাছাড়া পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়াও একটি কারণ হতে পারে।
উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নয়ন মিয়া বলেন, পরিচর্যার অভারে গাছে নারিকেল কম ধরতে পারে। মাটির সমস্যা থাকতে পারে অথবা কোনো বালাই থাকতে পারে। এ ব্যাপারে আমাদেরকে জানালে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হবে।