বিশ্বম্ভরপুরে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থাপনা- ঘটছে পর্যটনের বিকাশ, হচ্ছে উন্নয়ন

স্বপন কুমার বর্মন, বিশ্বম্ভরপুর
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় হাওর বিলাস, পাহাড় বিলাস, বোয়াল চত্বর সহ বিভিন্ন স্পটে দর্শনীয় স্থাপনায় পর্যটনের বিকাশে নতুন দিগন্ত সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মাঝে আয়ের উৎস্য সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বাড়ছে স্থানীয়দের আয় এবং উন্নত হচ্ছে মানুষের জীবন যাত্রার মান।
ভারত সীমান্তবর্ত্তী মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত নদী, নালা, হাওর বেষ্টিত জীববৈচিত্র সমৃদ্ধ নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা। প্রাকৃতিক নানা সৌন্দর্য থাকা সত্বেও বিগত দিনে সরকারিভাবে পর্যটনের বিকাশে উল্লেখযোগ্য তেমন কিছু করা হয়নি। বর্তমান বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাদি উর রহিম জাদিদ হাওর বিলাস, পাহাড় বিলাস, বোয়াল চত্বর, জয় বাংলা চত্বর, হাওর বৃত্ত, স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, ওয়াকওয়ে, নিকুঞ্জ, হাওর ভিউ ক্যাফে, করচারপাড় মার্কেট নির্মাণ করেছেন। এতে উপজেলায় ব্যাপক পর্যটক সমাগম হচ্ছে।
জানা যায়, হাওর, ২৪৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার জনসংখ্যা এক লাখ ৫৩ হাজার। প্রধান ফসল কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য। মো. সাদি উর রহিম জাদিদ গত বছরের ১ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদে যোগদান করেন। এরপর মুজিববর্ষের দরিদ্রদের জন্য ঘর তৈরির জমি খোঁজতে গিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নজরে পড়ে তাঁর। এরপর তিনি এলাকায় পর্যটন বিকাশে উদ্যোগ নেন। সীমান্তের সলুকাবাদ ইউনিয়নের চ্যাংবিল এলাকার মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে আন্তর্জাতিক সীমারেখার পাশে ‘পাহাড় বিলাস’ নামে পর্যটন স্পট গড়ে তোলেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুরোধে এলাকার আবু সুফিয়ান নামের একজন পর্যটনের জন্য ১০ শতক জমি সরকারকে দান করেন। সাদা রংয়ের দৃষ্টিনন্দন কাঠের বেড়া দিয়ে পাহাড় বিলাসে পর্যটকদের বসার জন্য ৮টি বেঞ্চ, পর্যটকদের হালকা খাবারের দুইটি দোকান, ছনের দুইটি গোলঘর নির্মাণ করেন। পাহাড় বিলাস গত বছরের ২৭ মে সুনামগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলীয় হুইপ অ্যাড. পীর ফজুলুর রহমান মিসবাহ উদ্বোধন করেন। গত বছরের ১৩ মার্চ উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে উপজলা পরিষদ প্রাঙ্গণে দৃষ্টি নন্দন স্থানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ম্যুরাল স্থাপন করা হয়। ২৭ আগস্ট উদ্বোধন করা হয় কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধ। গ্রাম থেকে আসা বিভিন্ন দপ্তরে সেবাপ্রার্থীদের জন্য উপজেলা পরিষদের সামনে গাছের নিচে ৫টি গোলঘর করে ‘সেবাচত্ত্বর’ নির্মাণ করেন। প্রতিটি গোলঘরে ৭/৮ জন করে মানুষ বসতে পারেন। উপজেলা সদরে যাত্রীদের জন্য একটি যাত্রী ছাউনি ‘নিকুঞ্জ’ ও সাধারণ মানুষের হেঁটে চলার জন্য থানার সামনে থেকে উপজেলা পরিষদের শেষ সীমানা ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সামনে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়।
পাহাড় বিলাস গড়ে তোলার পর পর্যটকদের উৎসাহে উপজেলা সদরের পাশে করচার হাওরের পরিবেশ উপভোগ করার জন্য পানির উপরে ভাসমান দুইটি গোলঘর নির্মাণ করে ‘হাওর বিলাস’ প্রতিষ্ঠা করেন। উপজেলার প্রবেশদ্বার কারেন্টেরের বাজার এলাকায় করচার হাওরের বোয়াল মাছের ন্যায় মাছের ভাস্কর্য দিয়ে ‘বোয়াল চত্ত্বর’ ও বিশ্বম্ভরপুর বাজারে করচার হাওরের নামে করচারপাড় মার্কেট নির্মাণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
করচার হাওর পাড় সংলগ্ন ভাসমান ব্রীজশেড হাওর বিলাস, বোয়াল চত্ত্বর’ ও করচারপাড় মাকের্টের উদ্বোধন করা হয়। সম্প্রতি হাওর বিলাশের পাশে দর্শনাথীদের খাবারের জন্য হাওর ভীউ ক্যাফে নামে একটি দোকান চালু করা হয়েছে। হাওর বিলাসকে আরো আকর্ষনীয় করতে হাওর বিলাশ সংলগ্ন জলাশয়ে ৪টি ফোয়ারা স্থাপন করা হয় এবং লাল শাপলা লাগানো হয় ও ২পাশে কাশবন সূর্যমুখী গাছ লাগানো হয়। বিভিন্ন হাট বাজারে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ছোট ছোট দোকান ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয় এবং উপজেলা সদর সহ বিভিন্ন রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে। এছাড়াও উপজেলাকে আরো দৃষ্টি নন্দন নান্দনিক করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানা যায়।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাদি উর রহিম জাদিদ বলেন, মুজিব শতবর্ষের ঘর নির্মাণের স্থান বাছাই করতে বিভিন্ন এলাকা ঘুরতে গিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা দেখার সুযোগ পাই। এরপর স্থানীয় পর্যটনষ্পটগুলোর সৌন্দর্য সাধারণ মানুষের কাছে তোলে ধরতে কিছু কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছি। এখন মানুষ এসব স্পটে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়াতে আসছেন। বিট্রেনের বিভিন্ন এলাকা সফরকালে সেদেশের পর্যটনষ্পটগুলো দেখে পাহাড় ও হাওর-নদীর পর্যটন বিকাশে উদ্বুদ্ধ হন বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, আমি এই উপজেলায় যোগদানের পর লক্ষ্য করেছি বিকালের পর উপজেলা সদরে লোকজন থাকে না। হাওর বিলাস সহ বিভিন্ন স্পট স্থাপনের পর এখন পরিবার পরিজন সহ পর্যটক প্রিয় অনেক লোকজন আসছেন।