বৃষ্টির কাছে হারল বাংলাদেশ!

সু.খবর ডেস্ক    
এমন খেলার রেজাল্ট এভাবে হবে! কে মেনে নেবে বলুন? পাকিস্তান আর বাংলাদেশের সেমি ফাইনালের খেলাটা তখন খুব জমে উঠেছে। যে কেউ জিততে পারে এই ম্যাচ। কুয়ালালামপুরে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের সেই ম্যাচটার সব উত্তেজনা আর রোমাঞ্চে জল ঢেলে দিল বৃষ্টি। আর সেই প্রকৃতির কাছেই হার মানতে হলো বাংলাদেশের যুবাদের। বৃহস্পতিবার ডাকওয়ার্থ-লুইস বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশকে ২ রানে হারিয়ে পাকিস্তান উঠে গেছে ফাইনালে।
প্রথমবারের মতো এশিয়ান শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের স্বপ্নভঙ্গ হলো সাইফ হাসানের দলের। অথচ আগের ম্যাচেই সবচেয়ে ফেভারিট ভারতকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় করে দিয়েছেন যুবা টাইগাররা। ভাগ্যটা শেষ পর্যন্ত সাথে রইল না।
এটা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের আয়োজন। সেই তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে খেলাটার এমন অপমৃত্যু নিয়ে লেখা হয়েছে, ‘আহারে কি লজ্জার ব্যাপার! বৃষ্টি তখনই খেলাটা বন্ধ করে দিল যখন ম্যাচটা শেষের দিকে এবং খুব মজার একটা অবস্থায়।’ এই পরিস্থিতিতে ডি/এল আইনে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের চেয়ে ২ রানে এগিয়ে ছিল। বৃষ্টিতে খেলা আর সম্ভব হলো না বলে হতাশা বাংলাদেশের, উৎসব পাকিস্তানের।  কিনরারা একাডেমি মাঠে এই মহা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টস জিতে বাংলাদেশ বেশ একটা ফাইটিং স্কোরই গড়েছিল। ৬ উইকেটে ২৭৪। জবাবে, পাকিস্তানও ভালো ভাবে এগিয়েছে শুরুর ধাক্কা সামলে। ৫১ রানে ৩ উইকেট হারিয়েছিল তারা। ৩৯ ওভারে ৫ উইকেটে তখন পাকিস্তানের সংগ্রহ ১৯৯ রান। জিততে তখনো পাকিস্তানিদের ৬৬ বলে ৭৬ রান লাগে। বাংলাদেশ তো এই অবস্থা থেকেও ম্যাচ ঘুরিয়ে নিতে জানে! কিন্তু বৃষ্টিতে ভেসে গেল, ডুবে গেল বাংলাদেশি যুবাদের সব স্বপ্ন।
পাকিস্তানকে ২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে দিয়ে বাংলাদেশের যুবাদের শুরুটা হয়েছিল দারুণ। দলীয় ৮ রানেই ওপেনিং জুটি ভাঙে তারা। এরপর ৫১ রানেই প্রথম সারির ৩ উইকেট তুলে নেন সাইফরা। তবে চতুর্থ উইকেটে রোহেল নাজিরকে নিয়ে দলের হাল ধরেন মোহাম্মদ তাহা। ৬৯ রানের জুটি গড়েন তারা। এরপর নাজিরকে আউট করতে পারলেও পঞ্চম উইকেটে সাদ খানকে নিয়ে ৭৭ রানের জুটি গড়ে যুবাদের হতাশা বাড়িয়ে তোলেন তাহা। একসময় তাহাকে ফিরিয়ে উল্লাসে মাতলেও ওভার শেষ হতেই নামে বৃষ্টি। ফলে আর খেলা সম্ভব হয়নি।
৯৭ বলে ৯২ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন তাহা। মুলত তার ব্যাট জয় নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানিদের। ৯৭ বলে ৮টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে এ রান করেন তিনি। এছাড়া ৩৫ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন সাদ। রোহেল করেন ২৬ রান। বাংলাদেশের পক্ষে ৩৫ রানের খরচায় ২টি উইকেট পান কাজি অনিক। এছাড়া আফিফ ও সাখাওয়াত ১টি করে উইকেট নেন।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের দুই ওপেনার পিনাক ঘোষ ও নাঈম শেখ দারুণ সূচনা এনে দেন দলকে। ৫১ রানের ওপেনিং জুটি এনে দেন তারা। এরপর নাঈম ফিরে গেলে অধিনায়ক সাইফের সাথে দলের হাল ধরেন পিনাক। গড়েন ১০৫ রানের দুর্দান্ত এক জুটি। ফলে বড় সংগ্রহের ভিত পায় যুবা টাইগাররা। তবে এ দুই ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার পর আফিফ হোসেন ধ্রুব ছাড়া আরও কোন ব্যাটসম্যান দায়িত্ব নিতে না পারায় ৫ উইকেটে ২৭৪ রানে থামে বাংলাদেশ।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮২ রানের ইনিংস খেলেন পিনাক। ৯৩ বলে ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজান এ ওপেনার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬১ রান করে সাইফ। ৭৮ বলে ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। এছাড়া ৫৫ বলে ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন আফিফ। শেষ দিকে ১৫ বলে ২টি ছক্কায় ২২ রান করেন নাঈম হাসান। পাকিস্তানের পক্ষে ৫৩ রানের খরচায় ৩টি উইকেট নেন মুনির রিয়াজ।