বৃষ্টি কমলেও ঢলে বাড়ছে নদীর পানি

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে কমেছে টানা ভারী বৃষ্টিপাত। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে কিছুটা বৃষ্টিপাত হলেও বিকালে এক চিলতে রোদের দেখা মিলেছে। তবে বৃষ্টিপাত কমলেও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে বাড়ছে নদীর পানি। গত ২৪ ঘন্টায় চেরাপুঞ্জিতে ১৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘন্টায়ও ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস আছে।
সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলায় সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একদিনের ব্যবধানে এখানে পানি বেড়েছে ০.৪ সেন্টিমিটার। জেলার অন্যান্য পয়েন্টে নদ-নদীর পানি বাড়লেও তা বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ৭.৫২ সেন্টিমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে, যা বিপদসীমার ০.২৮ সেন্টিমিটার নিচে। দিরাই উপজেলার পুরাতন সুরমা নদীর পানি ৫.৬৮ সেন্টিমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে, যা বিপদসীমার ০.৮৭ সেন্টিমিটার নিচে। যাদুকাটা নদীর পানি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা পয়েন্টে ৬.১৬ সেন্টিমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে, যা বিপদসীমার ১.৮৯ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
এছাড়াও জগন্নাথপুর উপজেলার নলজুর নদীর পানি ৬.২৭ সেন্টিমিটার উচ্চতায়, তাহিরপুর উপজেলার পাটলাই নদীতে ৫.৮১ সেন্টিমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সদরের কৃষ্ণনগর গ্রামের বসিন্দা স্বপন কুমার বর্মন বলেন, বৃষ্টিপাত কমেছে। তবে বৃষ্টিপাত কম হলেও বুধবারের চেয়ে বৃহস্পতিবার পানি কিছুটা বেড়েছে।
এখনও শঙ্কিত হওয়ার মতো এখনো কিছু হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, নদীর পানি এখন হাওরগুলোতে প্রবেশ করছে।
শাল্লা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক পি.সি দাশ বলেন, নদীর পানি আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। তবে হাওরগুলো এখনও পানিতে পরিপূর্ণ হয়নি। নদীর পানি যাতে সহজে হাওরে প্রবেশ করতে পারে সেজন্য প্রশাসন ইতোমধ্যে বিভিন্ন হাওরের ১৪টি বাঁধ কেটে দিয়েছে। তবে হাওরে ধীরগতিতে পানি ঢুকছে। আরও কিছু বাঁধ কেটে দিলে সহজে নদীর পানি হাওরে প্রবেশ করতে পারবে।
তিনি বলেন, উপজেলার ভান্ডাবিল হাওরের নওগাঁও বাঁধ, বরাম হাওরের পাঠাখাউরি বাঁধ, ছায়ার হাওরের উজানীগাঁও বাঁধ এবং কোকিল্লার বাঁধ জরুরী ভিত্তিতে কেটে দেয়া প্রয়োজন। হাওরে পানি না ঢুকলে লোকালয় প্লাবিত হবে, বিপর্যস্ত হবে জনজীবন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-১ মামুন হাওলাদার জানান, বৃষ্টিপাত কম হলেও ওই সময়ে সুরমাসহ অন্যান্য নদীতে পানি বেড়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় চেরাপুঞ্জিতে ১৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘন্টায়ও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। এভাবে আরও কিছুদিন ওখানে বৃষ্টিপাত হলে সুনামগঞ্জে নদীর পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ছাতক পয়েন্টে বিপদসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জের লাউড়েরগড় পয়েন্টে ৩১ মিলিমিটার, ছাতকে ৩৬ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জে ৩১ মিলিমিটার এবং দিরাইয়ে ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বলেন, জেলায় এখনও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে আগাম পরিস্থিতি হিসাবে ২৬ লাখ টাকা, ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৬০০ টন চাল, পর্যাপ্ত পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং উদ্ধার কাজে ব্যবহার উপযোগি জলযান প্রস্তুত রয়েছে।