বেইলি ব্রিজ ভেঙে দোয়ারা বিচ্ছিন্ন

আশিক মিয়া, দোয়ারাবাজার
দোয়ারাবাজারে বেইলি ব্রিজ ভেঙে পাথরবোঝাই ট্রাক খাদে পড়ে গেছে। উপজেলার নৈনগাঁও গ্রামের এই বেইলী ব্রিজ ভাঙায় ছাতক-দোয়ারাবাজার-সিলেটসহ সারাদেশের সঙ্গে দোয়ারাবাজারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সেতুর দুইপাশে আটকা পড়ছে শতাধিক সবজি ও মালবাহী যানবাহন। দুর্ভোগের স্বীকার লোকজন বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে মালামাল নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। শনিবার রাত সাড়ে ৩ টার দিকে উপজেলার নইনগাঁও গ্রামে ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ট্রাকের চালক ও দুইজন সহকারী আহত হয়েছেন। এরা দোয়ারাবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
জানা যায়, নোয়াজের খালের বেইলি এই ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। সওজ’র পক্ষ থেকে এই ব্রিজে তিন টনের বেশি মালামাল পরিবহন নিষেধ দিয়ে সাইনবোর্ড ঝুলানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এই ব্রিজের পাশেই নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণাধীন রয়েছে। তাই অধিক মাল পরিবহন না করার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু সেসব বিধি নিষেধ কেউ মানেন না। যে যার মতো করে ট্রাকবোঝাই করে চলাচল করেন এই ব্রিজ দিয়ে।
সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম জানান, সেতুটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে, মেরামত করতে সময় লাগবে। আমরা ব্রিজের বেইলির জন্য মৌলভীবাজার এলাকায় খোঁজ খবর নিচ্ছি, কোথাও পাওয়া গেলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ব্রীজের কাজ শুরু করব। তবে বিকল্প উপায়ে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। ব্রিজটির দুই পাশে সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে। তিন টনের অধিক মালামাল নিয়া ব্রিজ পাড়াপাড় হওয়া যাবে না। কিন্তু শনিবার রাত সাড়ে ৩টার সময় সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ এলাকা থেকে একটি অতিরিক্ত পাথর বোঝাই ট্রাক বেইলি সেতুতে ওঠলে সেতুটি খালে ভেঙ্গে পড়ে। এতে দোয়ারাবাজার উপজেলার সঙ্গে ছাতক ও বিভাগীয় শহর সিলেটের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
দুর্ভোগের স্বীকার যাত্রী মুরাদপুর গ্রামের মো.কামাল হোসেন বলেন, আমি সকালে সিলেটে যাবার জন্য গত কালকে থেকে প্রস্ততি নিচ্ছিলাম, ঘুমথেকে উঠেই খবর পেলাম নৈনগাঁও গ্রামে বেইলি ব্রিজটি ভেঙ্গে গেছে, আজকে আর সিলেটে যাওয়া হলো না।
গাড়ি চালক আল আমিন জানান, সেতুটি ভেঙে পড়ায় হাজার হাজার যাত্রী সমস্যায় পড়েছেন।
দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল খালেক বলেন, সেতু ভেঙ্গে যাওয়ায় ছাতক ও সিলেটের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সকালে গিয়ে এলাকার লোকজনদের দিয়ে পায়ে হেঁটে পাড়াপাড়ের ব্যাবস্থা করে দিয়েছি।
দোয়াবাজার থানার ওসি মো. নাজির আলম বলেন, ব্রিজটি ভেঙ্গে যাবার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সড়কে মানুষ ও যানবাহন চলাচলের শৃঙ্খলা করার জন্য ব্যাবস্থা করে দিয়েছি। সারদিন ওখানে ছিল।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মাসুম আহমেদ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত দু’পাড়ের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পাশেই আমাদের আরেকটি ব্রিজের কাজ চলছে। সে ব্রিজের কাজ শেষ হতে আরও ৮- ৯ দিন সময় লাগবে। এর আগে যানচলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়।