বিশেষ প্রতিনিধি
হাওরাঞ্চলের জেলা সুনামগঞ্জে সবজি চাষে উল্লেখ করার মতো সাফল্য এসেছে। জেলায় ৬৫ হাজারের মতো কৃষক এখন ধানের আবাদের পাশপাশি সবজি চাষের সঙ্গে যুক্ত। কোন কোন এলকায় কৃষকরা কেবল সবজি চাষাবাদ করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন। এই সংখ্যাও ২০ হাজারের চেয়েও বেশি। করোনাকালে যানবাহন চলাচলে স্বাভাবিক অবস্থা না থাকায় সবজির দাম একেবারেই কমে গেছে। এ কারণে বেকায়দায় পড়েছেন সবজি চাষীরা।
সুনামগঞ্জ সদর, দোয়ারাবাজার, বিশ^ম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, তাহিরপুরসহ জেলার ১১ উপজেলায় এবার রবি মৌসুমে সবজির চাষাবাদ হয়েছে ১১ হাজার ৭৫৯ হেক্টর। চাষাবাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন প্রায় ৬০ হাজার কৃষক। গ্রীস্মকালীন সবজিও এই জেলায় প্রায় ২১ হাজার কৃষক চাষাবাদ করেছেন। দুই হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে এখনো সবজি রয়েছে। এখনকার সবজির মধ্যে রয়েছে ঢেঁড়শ, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা, কড়লা, শসা, বেগুন, মিষ্টিলাউ, পাতি লাউ, ডেঙ্গা (ঢুগি) ও পুইশাক। ফাল্গুন-চৈত্র মাসে অর্থাৎ করোনার আগে এসব সবজি কৃষকরা প্রতি কেজি যে দামে বিক্রি করেছেন, এখন এর চেয়ে অনেক কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। কোন কোন প্রকারের সবজির বর্তমান দর অর্ধেকের চেয়েও কম। কৃষকরা জানালেন, পরিবহনের অপুতুলতায় এবং ক্রেতা কম থাকায় এমন সংকটে পড়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সবজি অঞ্চল জাহাঙ্গীর নগরের চৌমুহনী বাজারে ঢেঁড়স প্রতি কেজি পাইকারী ৫ টাকা, চিচিঙ্গা ১৫ টাকা, ঝিঙ্গা ১০ টাকা, কড়লা ২০ টাকা, কাচামরিছ ২৫ টাকা, শসা ১৫ টাকা কেজিতে বিক্রয় হয়েছে। এমন কম দামে সবজি বিক্রি করে হতাশ কৃষকরা।
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের গোদিগাঁওয়ের সবজি চাষী ফজলু মিয়া বলেন, সবজি চাষ করেই সংসার চালাচ্ছি, ছেলে- মেয়েদের পড়াশুনা করাসহ সবকিছুই সবজি বিক্রির আয় থেকেই করে আসছি। এই বছরের মতো বেকায়দায় এর আগে কখনো পড়িনি।
একই গ্রামের আবুল খায়ের বলেন, অন্য বছর সবজি খেতেই আসতো পাইকার। গাড়ী বোঝাই দিয়ে মাল নিতো। এবার পাইকার নাই। লাভ করতে পারেনি কেউই।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মোশারফ হোসেন সবজির দাম অপেক্ষাকৃত কম জানিয়ে বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে এমন হয়েছে। আমরা কৃষকদের নানাভাবে সহায়তা করার চেষ্টা করছি।


