বেহাল পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়/ হাল ফিরিয়ে আনতে পৌর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিন

প্রাথমিক বিদ্যালয় হলো শিক্ষাজীবনের ভিত তৈরির জায়গা। শিক্ষাজীবনের প্রবেশদ্বার। একেবারেই কাদামাটির মতো ছোট শিশুরা এখানে আসে। তাদের গড়েপিটে শিক্ষাজগতের আলোর সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্য তৈরি করেন এইসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। যেকোনো দেশে তাই প্রাথমিক স্থরের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। আমাদের জাতীয় সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে এখনও উন্নত বিশ্বের সমতুল্য করা যায়নি সত্য কিন্তু এই জায়গাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে। যে কারণে বিদ্যালয়ে ভর্তির উপযুক্ত শিশুদের সিংহভাগই এখন শিক্ষাজীবন শুরু করার সুযোগ পাচ্ছে। দেশে সাক্ষরতার হার বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। মান ও পরিমাণ দুই জায়গাতেই এগিয়েছি আমরা। সরকারি ও বেসরকারি নানামুখী চেষ্টার মাধ্যমে একটি শিক্ষিত জাতি গঠনের লক্ষে আমাদের রয়েছে বহুমুখী পদক্ষেপ। অর্থাৎ চেষ্টা করা হচ্ছে সকল শিশুর ন্যূনতম শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা। কিন্তু মাঝেমধ্যে কিছু হতাশাজনক খবর আমাদের এই অভিলক্ষকে প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। এমনই একটি হতাশার খবর দেখা গেলো গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে। সুনামগঞ্জ পৌরশহরে পৌরসভার উদ্যোগে ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছিলো পৌরসভার সকল শিশুর হাতের নাগালে প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করে দিতে। এসব বিদ্যালয়ের যাবতীয় ব্যয়ভার পৌরসভাই বহন করত। বিদ্যালয়গুলো পৌরসভার উত্তর আরপিননগর, নবীনগর, মোহাম্মদপুর, বড়পাড়া ও জলিলপুরে প্রতিষ্ঠা করা হয়। বলাবাহুল্য এসব এলাকায় জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা অপর্যাপ্ত ছিলো। তাই শিক্ষাবান্ধব সহায়ক কর্মসূচি হিসাবে এই উদ্যোগগুলো ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিলো পৌরনাগরিকদের পক্ষ থেকে। সময়ের ব্যবধানে আজ এই ৫টি বিদ্যালয়ই মৃতবৎ হয়ে পড়েছে বলে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়। এইসব বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নষ্ট হয়ে পড়েছে, শিক্ষা উপকরণ নেই বললেই চলে, শিক্ষকরা ব্যাপকভাবে অনুপস্থিত থাকেন আর অবধারিত ফলাফল হিসাবে এইসব শিক্ষাঙ্গন এখন শিক্ষার্থী শূন্য হয়ে পড়েছে। অথচ আজ এসব বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা অনেক গুণ বেড়েছে। কারণ বর্ণিত এলাকাগুলোতে বিদ্যালয় গমনেচ্ছু শিশু সংখ্যা বেড়েছে, এই বর্ধিত শিশুর বিপরীতে তৈরি হয়নি নতুন কোনো বিদ্যালয়। তাই যেখানে এই ৫টি বিদ্যালয় অনেক বেশি কার্যকর হয়ে বহুসংখ্যক শিশুর কলকাকলীতে মুখরিত হয়ে উঠার কথা ছিলো সেখানে এগুলোর অকার্যকর হয়ে পড়া হতাশার বিষয়ই বটে। কেন অকার্যকর হয়ে উঠল জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রের এই বিদ্যালয়গুলো? খতিয়ে দেখতে হবে এর কারণ। নিতে হবে সমাধানের উদ্যোগ। নতুবা শিক্ষার সংকট কাটবে না।
একসময় জানা গিয়েছিলো এইসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিয়মিত বেতন পান না। আর কে না জানে বিনা বেতনে কেউই দায়িত্ব পালন করবেন না। পৌরসভা এই বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন ছিলেন বলে বুঝা যায় না। বিদ্যালয়গুলো পৌরসভার আরও অনেক বেশি মনোযোগ দাবি করে। এবং আমরা চাই পৌর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে অধিকতর আগ্রহী হয়ে উঠবেন। আশার কথা হলো পৌরসভার বর্তমান মেয়র বিদ্যালয়গুলোকে কার্যকর করার উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। এইটুকোই দরকার ছিলো। যেকোনো কাজে আগ্রহ হলো সফলতার মূলমন্ত্র। আমরা বিশ্বাস করি পৌর কর্তৃপক্ষ আগ্রহী হলে সমাধানের বহুমুখী পথ তৈরি করতে পারবেন। পৌরমেয়রের সেই ধরনের নেতৃত্বগুণ আছে। পৌর নাগরিকদের অভিভাবক হিসাবে সকলের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা তাঁর অন্যতম দায়িত্ব। সরকারের যেসব বিভাগ শিক্ষা নিয়ে কাজ করেন সেগুলো এবং এরকম কাজে নিয়োজিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (এনজিও) গুলোর সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার নিশ্চয়তা বিধান করা তাঁর পক্ষেই সম্ভব। আমরা আশা করব আর সময় ক্ষেপণ না করে এই ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কার্যকর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।