বিশেষ প্রতিনিধি
সড়কের পিচ, নিচের ইট-পাথরের খোয়া উঠে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের। গর্তে বৃষ্টির পানি আর কাদা মিলেমিশে একাকার। উঁচু-নিচু আর ভাঙাচোরা সড়কে যানবাহন চলছে হেলেদুলে। ৩০ মিনিটের পথ যেতে সময় লাগছে এক থেকে দেড়ঘন্টা। সেই সঙ্গে আছে সীমাহীন ভোগান্তি। এই বেহাল দশা সুনামগঞ্জ-দোয়ারাবাজার-ছাতক সড়কের সুনামগঞ্জ-দোয়ারাবাজার অংশের।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ-দোয়ারাবাজার-ছাতক সড়কের দৈর্ঘ্য ২৯ কিলোমিটার। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ থেকে দোয়ারাবাজার পর্যন্ত দূরত্ব ১৮ কিলোমিটার। এই ১৮ কিলোমিটারের মধ্যে সুনামগঞ্জ থেকে দোয়ারাবাজার উপজেলার কাটাখালি বাজার পর্যন্ত সড়ক ভাঙাচোরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের জালালপুর গ্রাম থেকে কাটাখালি বাজার পর্যন্ত চার কিলোমিটারের অবস্থা খুবই খারাপ। একই অবস্থা সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবানগর ইউনিয়নের শান্তিপাড়া গ্রামের সেতু থেকে বাহ্মণগাঁও পর্যন্ত। এসব স্থানে সড়কের পিচ-ঢালাই উঠে নিচের ইট-পাথর বেরিয়ে এসেছে। ছোট-বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তে জমে আছে বৃষ্টির পানি। কোনো কোনো সেতুতে উঠার সংযোগ স্থানটি ভেঙে নিচু হয়ে আছে। সেতুতে গাড়ি উঠাতে হয় যাত্রীদের নামিয়ে। মাটি সরে গেছে সেতুর সংযোগ সড়কের। এ ছাড়া সড়কের অচিন্তপুর, ধনপুর, শেখেরগাঁও, মাইজবাড়ি, মনোহরপুর গ্রামের পাশে সড়কে গর্ত ও খানাখন্দ রয়েছে।
জালালপুর গ্রামের বাসিন্দা আরব আলী বলেন,‘কারে খইতাম, বড় বড় অফিসাররা এই সড়ক দিয়া আইন-যাইন। তারা ইতা দেখইন নানি। ইলা খারাপ সড়ক এলাকাত আর নাই।’ ধনপুর গ্রামের বাসিন্দা আইয়ুবুর রহমান জানান, পাঁচ বছর আগে একবার এই সড়কের সংস্কার কাজ হয়েছিল। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি। এবারের বন্যায় সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দোয়ারাবাজারে যাতায়াত করেন সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, সড়কের বেহাল দশার কারণে আধঘন্টার পথ যেতে সময় লাগে এক থেকে দেড়ঘন্টা। সঙ্গে ভোগান্তি তো আছেই।’ এই সড়কে সাত বছর ধরে সিএনজি চালান জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ভাঙা সড়কের কারণে গাড়ি প্রায়ই নষ্ট হয়ে যায়। কয়দিন পরপর গাড়ি মেরামত করাতে হয়। বৃষ্টির দিনে গাড়ি চালাতে সমস্যা হয় বেশি।
মান্নারগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা আজিজ জানান, দোয়ারাবাজার উপজেলার মানুষের জেলা শহরে যাতায়াতের একমাত্র সড়ক এটি। এখন সময় কম লাগায় ছাতক উপজেলার মানুষজনও এই সড়ক দিয়ে জেলা শহরে যাতায়াত করেন। কিন্তু সড়কের বেহাল দশার কারণে দুই উপজেলার মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। তিনি বলেন,‘সড়কটি নিয়ে উপজেলার মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় আমি কথা বলেছি। সংশ্লিষ্টরা শুধু আশ্বাস দেন, কিন্তু কাজ আর হয় না।’
এলজিইডির দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুর রহমান জানান, এই সড়কটি এক সময় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইিডি) অধীনে ছিল। ২০১৪ সালে সুনামগঞ্জ থেকে কাটাখালিবাজার পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আমাদের অংশে কোনো সমস্যা নেই, এবারও কাজ হয়েছে। এখন সওজ বিভাগ বলতে পারবে তাদের অংশের কাজ কবে হবে।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন,‘এই সড়ক সংস্কারে আমাদের আপাতত কোনো প্রকল্প নেই। তবে মানুষের দুর্ভোগ কমাতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে কিছু কাজ হবে। পরবর্তীতে পুরো কাজের জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হবে।’
- প্রতারিত হচ্ছে কৃষক ধর্মপাশায় বিএডিসির বীজধান ‘সিল’ দিয়ে বিক্রি হচ্ছে ভিন্ন নামে
- মামার পায়ের রগ কাটল ভাগ্নে


