ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন..গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যোগ্য নেতৃত্ব বেরিয়ে আসুক

মাসখানেকের উৎসাহব্যঞ্জক প্রচার-প্রচারণার পর আজ সকাল থেকে সুনামগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির ত্রিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জানা যায়, ব্যবসায়ী সমিতি গঠনের পর এই প্রথম গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা নিজেদের নেতৃত্ব পছন্দ করার সুযোগ পেয়েছেন। এবার নির্বাচনে যেমন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা বেশি তেমনি ভোটার সংখ্যা বেশি। দুইটি প্যানেল সাইফুল-পারভেজ ও খোশনুর-জাহেদ পরিষদে বিভিন্ন পদে ৩৪ প্রার্থী ছাড়াও সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরও তিন ব্যবসায়ী। এই ৩৭ প্রার্থীর মধ্য থেকে ৯১৮ জন ভোটার-ব্যবসায়ী ১৭ জনকে বেছে নিবেন পরবর্তী তিন বছর মেয়াদের জন্য। ব্যবাসায়ী সমিতির এই নির্বাচনটি শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে শেষ হোক এবং এটি ভবিষ্যতের জন্য উদাহরণ হয়ে উঠুক এই আমাদের কামনা।
পেশাভিত্তিক সংগঠন হিসেবে ব্যবসায়ী সমিতির গুরুত্ব কম কিছু নয়। জেলা সদরের সকল ব্যবসায়ীরা এই সমিতির মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন এবং নিজেদের পেশাগত নানা সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবেন। জেলা শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি ক্রমবর্ধমান। দিন দিনই এর আকার বড় হচ্ছে। নতুন নতুন ব্যবসায়ীরা নিজেদের সৃজনশীলতা নিয়ে ব্যবসায় এসে নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আরও বহু লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। সুনামগঞ্জের ১ হাজার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে গড়ে তিন জন করে কর্মচারী নিয়োজিত থাকলে অন্তত তিন হাজার পরিবারকে এরা জীবিকার সুযোগ করে দিয়েছেন। সুতরাং কর্মসংস্থানকারী হিসাবে ব্যবসায়ী সমিতির ভূমিকাকে অবশ্যই সম্মানের চোখে দেখতে হবে।
পেশাজীবী সংগঠন হিসেবে নিজেদের স্বার্থ দেখাশুনা করা যেমন ব্যবসায়ী সমিতির দায়িত্ব-কর্তব্য, তেমনি তারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রাণ- গ্রাহকদের স্বার্থকেও অস্বীকার করতে পারেন না। গ্রাহকদের পৃথক কোন সংগঠনের অস্তিত্ব নেই। তাই গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণের দায়িত্বও এই সমিতির উপর এসে বর্তায়। আমরা সাধারণত দেখি ব্যবসায়ীরা গ্রাহক স্বার্থের জায়গায় ক্ষেত্র বিশেষে কম মনোযোগী থাকেন। বরং গ্রাহকদের নিকট থেকে অভিযোগ উত্থাপিত হয় ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। ব্যবসায়ী ও গ্রাহক একে অপরের পরিপূরক। গ্রাহক ছাড়া ব্যবসায়ীদের অস্তিত্ব কল্পনা করা যাবে না। প্রবাদে বলা হয়, খদ্দের হলো বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্মী। সুতরাং ব্যবসায়ী সমিতির নতুন যে পরিষদ নির্বাচিত হয়ে আসবেন তাঁদেরকে নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষণের পাশাপাশি গ্রাহকদের বিষয়েও সমান সচেষ্ট থাকতে হবে। আর তাহলেই কেবল এই পরিষদটি ব্যবসায়ীদের সীমানা ডিঙিয়ে ব্যাপক জনগোষ্ঠীর কাছে সম্মানীয় হয়ে উঠবে।
চলমান নির্বাচনটি যাতে কোনভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সেটি দেখার দায়িত্ব নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের। দিন শেষে যাতে ভোটারদের গরিষ্ট অংশের মতামতই ফলাফলে প্রতিফলিত হয় সেই আশাবাদ আমাদের। যে বা যারাই নির্বাচিত হবেন তাঁরা অবশ্যই সকল ব্যবসায়ীর নেতারূপে বিবেচ্য হবেন। তখন তাঁদেরকে নির্বাচনকালীন পক্ষ-বিপক্ষ ভুলে যেতে হবে। সকলের নেতা হয়ে ব্যবসায়ীদের সাধারণ স্বার্থ রক্ষা সহ জেলার বাণিজ্য প্রসারে তাঁদেরকে রাখতে হবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। দায়িত্বের বিশালতা ও গুরুত্ব সম্পর্কে তাই নেতৃত্বকে সবসময় সচেতন থাকতে হবে। আজকের নির্বাচনে ভোটে নির্বাচিত ব্যবসায়ী সমিতির নতুন নেতৃত্বের প্রতি আমাদের অগ্রিম অভিনন্দন।