ভূমিকা-২
অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার
লিখাটার নাম দিয়েছি ‘ব্যাকরণ নয় অকারণ’ কিন্তু বুঝিয়ে দিইনি। ব্যাকরণ অর্থই’ব্যাখ্যা করণ।’ কেননা মানুষ কথা বলে মনের ভাব প্রকাশ করতে। এই যে কথা বলে, সে একটা নিয়ম মেনে কথা বলে, এটা কিন্তু সে নিজেই জানে না। এই ‘নিয়ম’টা খুঁজে বের করার নামই ‘ব্যাকরণ’ বা বিশ্লেষণ। যে নিয়মে এই বিশ্লেষণটি করা হয় এটা একটা বৈজ্ঞানিক নিয়ম। এই জন্য প্রথমেই বলতে হবে ‘ব্যাকরণ’ একটি বিজ্ঞান বা বিশেষ জ্ঞান। তবে প্রশ্ন থাকতে পারে কিসের বিজ্ঞান ? ভাষার বিশেষ জ্ঞান’ বা ভাষা বিজ্ঞান।
সাহিত্যে বা সমাজ জীবনে সময় সচেতনতা বেশ প্রবল। কিন্তু কীভাবে যে মানুষ দিন, মাস, বছর, দিন, ঘণ্টা ভাগ করেছে তা সঠিক জানা যায় না। সময়ের একটি একক ‘ঘটিকা’ এখনও ঘটিকা’তে আবদ্ধ বা বড়জোর ‘টা’ লিখা হয়। তাই ঘটিকা নিয়ে একটু লিখতে হয়। মানুষ জেনে গেছে পৃথিবীর আহ্নিক গতির মাধ্যমে দিন-রাত্রি হয়। সতরাং চব্বিশ ঘণ্টায় এক দিন। কিন্তু এই দিনরাত্রকে চব্বিশ ভাগে ভাগ করে ঘণ্টা বের করেছে অনেক পরে। ধরা যাক্ একটা গাছের কাÐের উপরে মরা ডালের গর্ত থেকে চুঁইয়ে চুঁঁইয়ে ফোটা ফোটা পানি পড়ছে। নিচে একটি শুকনো মাথার খুলি বা এরূপ কিছুতে পানিটা জমছে এবং একটা সময়ে পাত্রটা উপচে গেছে। কত দীর্ঘ সময়ে পাত্রটা ভরে তা দেখার জন্য কেউ পানিটা ফেলে আবার পাত্রটি বসিয়ে দিলো। পরে এক সময়ে বুদ্ধি এলো দিন এবং রাত্রে পাত্রটা কতবার ভরে। যদি তিরিশবার ভরে তাহলে সময়টা পাত্রটির ততগুণ বড়, পঁচিশবার হলে পঁচিশ গুণ। এভাবে যে পাত্রের মাধ্যমে সময়ের দৈর্ঘের একক মানুষ মেপেছে এটাকে ‘ঘটি’ বা শুদ্ধ শব্দ ‘ঘটিকা’ বলতো। এই ঘটিকা থেকেই সময়ের অনেক ‘এককের একটি একক ‘ঘটিকা’ বা ঘণ্টা বা ‘টা’। প্রকৃতিতে কিন্তু প্রকৃতিকৃত অনেক উদাহরণ আছে। এক জাতের ফুল আছে ঠিক ন’টায় ফোটে, কতগুলি রাত-দুপুরে, যুগের ফুল বারো বছরে একবার ফোটে। প্রশ্ন থাকে ফুল বা গাছ এ প্রকৃতির নামটা চেনে কীভাবে, যুগই বা কেমনে বুঝে, মাঝ-রাতটারই বা কী ইঙ্গিত। এখন মানুষ সৃষ্ট ‘ঘটিকা’র সাথে প্রকৃতি’র লয় হয়েছে নাকি মানুষ প্রকৃতির সাথে লয় ঘটিয়ে তাকে জয় করেছে। মানুষ তার জ্ঞানের বিকাশ ঘটিয়ে প্রকৃতিতে নিজের পথ সুগম করেছে।
রবীন্দ্রনাথ বলছেন, শক, হুন, দ্রাবিড় কত সহ¯্র পথের ধারায় মিলেছে। ২১ বছর আগের কথা। দোয়ারাবাজার রঙ্গারচর হাইস্কুলে বেসরকারি প্রাইমারি একটা বৃত্তি পরীক্ষায় বাচ্চাকে অংশ নেওয়াতে বাবা-মা’দের ভিড়। মুক্ত মাঠে চেয়ার-টেবিলে অভিভাবকদের বসার ভালো ব্যবস্থা। একত্রে একাধিক লোক বসলে যা হয় বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে এলোমেলো কথার পর এলো সর্বস্তরে বাংলা চালুর বিষয়।এক ইঞ্জিনিয়ার ভদ্রলোক বলছেন এটা সম্ভব নয়। কারণ জিজ্ঞেস করতেই বললেন, এই চেয়ার, টেবিল, এসবের বাংলা বললে তো কেউ বুঝবেই না। আমি বললাম এগুলি তো বাংলায়ই আছে তাহলে সমস্যা কী ? কেন এগুলি ইংরেজি শব্দ নয় ? না, এগুলি বাংলা হয়ে গেছে। আমাদের সাধারণ মানুষ যাঁরা শব্দ যোগান দেয় তারা এগুলিকে বাংলা করে নিয়েছে। ইংরেজিতে শব্দগুলি উচ্চারণ এমন নয়। ভদ্রলোক একটু নাড়া খেয়ে বললেন ক্যামন হয় বলুন ? সাহেবের বাড়িতে ভাঙ্গা দু’টি আসবাব তাঁর কর্মচারিকে দিয়ে দেওয়ায় মাথায় করে আপ্রাণ খুশি হয়ে এগুলিকে চেয়ার, টেবিল নাম দিয়ে গিন্নিকে হাঁকিয়ে বলছে-‘সাহেব দিয়েছেন’। ইংরেজিতে এগুলিকে বলে ‘টেব্ল’, ‘চেয়া।’ কেননা ইংরেজি ভাষায় শব্দের শেষে ‘আর এর উচ্চারণ নেই। ইংলিশ-বাংলা ডিকশোনারিতে একটু দেখে নেবেন। বলতেই উনি যেন স্বম্বিত ফিরে পেলেন। ভালো লাগলো এজন্য যে সচেতন বুদ্ধির মানুষ বিধায় ইঙ্গিতেই বুঝে গেছেন। বাংলা এমনই ভাষা সে যেকোনো ভাষাকে মাকড়শা’র জালে’র মত আটকে ফেলতে পারে। ইঞ্জিনিয়ার ভদ্রলোক পরে আমাকে দাদা বলে ডাকতেন, প্রায়ই বাচ্চাদের পড়া নিয়ে এটা ওটা পরামর্শ করতেন। এই হলো আমার সমাজের সেরা ছাত্র যাঁরা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার, অবশ্য তাদের একাডেমিক লেখাপড়া উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্তই। রাষ্ট্র তাঁদেরকে ‘মাদার সাবজেক্ট’–সমাজবিজ্ঞান, দর্শন, ইতিহাস, সাহিত্য, অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয়ে পড়িয়ে সমাজের ভিত্তি না বানিয়ে ঠুনকো কাজে ব্যবহার করলে তাঁকে তো দোষ দেওয়া যায় না। তবু তাঁর একটু দায় তো থেকেই যায়। সুতরাং যাঁরা সমাজের টেলেন্ট বা ‘ক্রিম’ তাঁদের চিন্তা আর শিক্ষার দৌঁড় কতটুকু দেখুন।
অন্য একটি প্রসঙ্গে যাই। স্বরবর্ণের মাথা ছাড়া যে চন্দ্রবিন্দু বসে না এ কথাটা আটানব্বই ভাগ ‘বাঙলা’ পড়ুয়া লোক জানেন না। আপনি কী বলেন ? বিশ্বাস করেন ? ক্লাসেও আমি ছাত্রদের বলতাম আমার কথা বিশ্বাস করবে না। ছাত্রেরা অবাক-বিস্ময়ে বলতো–কেন স্যার আর কাকে বিশ্বাস করবো ? কাউকে নয়, একমাত্র নিজেকে ছাড়া কাউকে বিশ্বাস করা পাপ। তাহলে ! আমার কথার সত্যতা পরীক্ষা করে আমাকে বলবে আমিও তোমার থেকে নতুন করে শিখবো। আমি একেই বুঝি শিক্ষকতা, শিক্ষক কোনো কম্পিউটার নয় যে, সব জেনে ‘জানুয়ার’ হয়ে বসে আছে।
আজ ভাষার বিভিন্ন দিক পরীক্ষা করার মত যন্ত্র বাজারে এসে গেছে। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লার যুগে যদি এ সুযোগ থাকতো বাংলা ভাষাকে তিনি অনেক দূর এগিয়ে দিয়ে যেতে পারতেন। আপনাকেও বলছিÑ ধরুন ‘চাঁদ’ শব্দটি লিখবেন। মোবাইল ডিভাইসে ‘চ’ লিখুন, তার উপর চন্দ্রবিন্দু দিয়ে (‘চঁ) আকার দিন, (‘চাঁ’) দেখবেন আকারটি দূরে সরে গেছে। তারপর ‘চ’র সাথে আকার দিয়ে ‘চাঁ’ দিয়ে চন্দ্রবিন্দু দেবেন তো দেখবেন সুন্দর ‘চাঁদ’ শব্দটা দানবযন্ত্র সঠিকভাবে লিখে দিয়েছে। মুখনাই যন্ত্র যদি পারে আমরা বুদ্ধিমান মানবযন্ত্র আমাদের সমস্যাগুলি দূর করতে পারবো না, তা বিশ্বাস করা উচিৎ নয়।
একটি বিষয় বলে নিলে ভালো হয়। নদী মরে গেলে যেমন রেখা থাকে, শব্দ বদলে গেলেও আগের চিহ্ন থেকে যায় তার প্রমাণ চন্দ্রবিন্দু-যুক্ত শব্দ। যে সকল শব্দে চন্দ্রবিন্দু আছে ধরে নিতে পারেন এর আগে শব্দটিতে কোনো না কোনো ‘নাসিক্য’ ধ্বনি ছিলো। যেমন- দাঁত, আগে শব্দটি ছিলো সংস্কৃত বা তৎসম ‘দন্ত’ শব্দটি তদ্ভব হয়ে ‘ন’ নাসিক্য ধ্বনিটি মূলের চিহ্ন রক্ষার্থে চন্দ্রবিন্দু হয়ে ‘দা’এর উপরে দাঁড়িয়ে জন্মের সাক্ষ্য দিচ্ছে। তদ্রæপ চাঁদ, পাঁচ, কাঁধ ইত্যাদি।
শব্দ শুধু তার জন্মের ইতিহাসই বলে না সময়ের ইতিহাসও বলে। যেমন-‘গোস্বামী’ শব্দটি এ অঞ্চলের ‘গো-পালন’ বা গোরু > গরু পালন যুগের একটি শব্দ। আদিম যুগের মানুষেরা বনের ফল-মূল-পশু-পাখি খেয়ে যখন বন উজার করত, তখনই চাষাবাদ ও পশু-পালন শুরু করে। ভারত এলাকায় গরু পালন হয়ে ওঠে প্রধান জীবিকা ও বেঁচে থাকার একমাত্র পেশা। এই গোরু>গরুর মালিককে বলতো ‘গোস্বামী’। সে যুগে যার যতবেশি গরু এ দিয়েই সামাজিক ‘বড়ত্ব’ বিচার হতো। সে যুগের ‘গো’ আকারের অনেক শব্দ বাংলায় এখনও বর্তমান–যেমন-‘গোচারণ’ ‘গবেষণা’ ‘গোপাট’ ইত্যাদি। ‘গবেষণা’ যে আজকের বিজ্ঞানের লেব্রেটরির শব্দই হয়ে গেছে তা ক’জন ভেবে দেখছেন। এখান থেকে একটি কথার বিবর্তিত ইতিহাস আলোচনা করছি।
‘গোস্বামী’ শব্দটির পরবর্তী রূপ বিশ্লেষণ করছি- প্রথমে প্রাকৃতের প্রভাবে শব্দটি হয়ে গেছে ‘গোসাঁঈ’। এখান থেকে ‘গো’ বাদ দিয়ে নাসিক্য ধ্বনি ‘ম’ চন্দ্রবিন্দু হয়ে ‘সা’ আকারের মাথায় চড়ে শব্দটি হয়ে গেছে ‘সাঁঈ’। সাঁঈ মানে প্রভু বা স্বামী। এ এলাকার প্রামের মেয়েরা যে এই স্বামীকে ‘হাই’ বলে তা অকথ্য নয় বা ধার করে বলে নয়। আধুনিক শিক্ষিতরা শব্দটাকে অশ্লীল বললেও সে কিন্তু ভাষার বিজ্ঞান সম্মত সূত্র ধরেই ‘স্বামী’কে প্রথমে ‘সাঁঈ’ বলেছে। কিন্তু এ এলাকার মানুষ ‘স’কে ‘স’ উচ্চারণ করতে পারে না ‘হ’ উচ্চরণ করে। যেমন শ্যালা, শ্যালী, শিয়াল বলতে পারে না, বলে হালা, হালি, হিয়াল। এই দোষে দুষ্ট হয়ে শব্দটিা হয়ে গেছে ‘হাঁঈ’। গ্রামের মানুষ তো আর ব্যাকরণের নিয়মে কথা বলে না আপনাকে শব্দের যোগান দেয় মাত্র। ফলে চন্দ্রবিন্দু ‘ঁ’ আর দীর্ঘ ‘ঈ’ বাদ দিয়ে সোজা সে বুৎপত্তিগত নিয়মেই ‘স্বামী’ না বলে ‘হাই’ বলে। এটা আপনার কাছে দূষণীয় তার কাছে সঠিক।
এখন আপনি বিচার করুন সে বেঠিক না আপনি বেঠিক, কেননা সে শিক্ষিত হলেও নিরক্ষর, আপনি শিক্ষিত সুতরাং দায়টা আপনার। এমন আরও অনেক শব্দ আছে যা আপনার প্রয়োজন মেটায় না শুধু, সুদীর্ঘ সময়ের ইতিহাসও বলে। যেমন– ফি, ঘটিকা, মড়ল, জন, গোস্বামী, টুটেম, মহিলা, ঘর, হরিণ ইত্যাদি।
ফেসবুকে একজন নারী ‘মহিলা’ শব্দটির অর্থ, উৎপত্তি, বুৎপত্তি জানতে চেয়েছেন। শব্দের কোন অর্থ নাই আগেই বলেছি। আরও বলে রাখা ভালো, ইতিহাস শুনে সহ্য করতে পারবেন তো ? বা কোনো বিরূপ প্রতিক্রয়া যেন না হয়। তবু যদি অর্থের মাধ্যমে ‘মহিলা’ শব্দটির সংজ্ঞা নিরুপণ করতে চান বলতে হবে ‘মহল্লা’র অধিষ্ঠাত্রী। কীভাবে ? গুহা-মানব’র যুগ বা পরবর্তী যুগেও মানুষের পশুর মতই দু’টি কাজ ছিলো। একটি খাদ্য আহরণ অপরটি যৌনকর্ম করা। এর বাইরে চিন্তা করার মত চিন্তাশক্তি বা বুদ্ধি মানুষ-পদবাচ্য হয়ে ওঠে নাই। অবশ্য বুদ্ধি ছিলো না কথাটা বলা একটু বিতর্কিত হবে কেননা গুহার মধ্যে পশু-পাখি’ ‘তীর-ছোড়া’র ভঙ্গিতে মানুষের ছবি আঁকা পাওয়া গেছে। এই পশুর ছবির নানা স্থানে ‘রং’ দিয়ে রকমারি পশুর পরিচয়ও তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এই ‘রং’ বা ‘বরণ’ থেকেই ‘বর্ণ’ শব্দটার উৎপত্তি। সুতরাং বুদ্ধি ছিলো না, না বলে বুদ্ধির বিকাশ হয় নাই বলাই শ্রেয়। যা বলছিলাম–একসময়ে দেখা গেলো ‘গুহা’য় নতুন প্রজন্মের নারী-পুরুষ অনেক বেড়ে গেছে। যৌনকর্মে কে যে কার কাছে যাচ্ছে কোন পরিচয় নেই। অন্যদিকে খাদ্য আহরণ করতে এবং দিনে দিনে মানুষ বাড়ার সাথে অনেক খাদ্য আহরণে সবাইকে অরণ্যে যেতে হয়। এদিকে গুহায় বন্য পশুর আক্রমণ থেকে বাচ্চাদের রক্ষা, দেখা-শুনা, খাদ্য সংগ্রহ সব মিলিয়ে একটা নিয়মে আসতে হলো। দিনে দিনে মানুষ বেড়ে বেড়ে ‘গুহা’ পরিণত হলো মহল্লায়। এই ‘মহল্লা’র দায়িত্ব কাকে দেওয়া যায় চিন্তা করে এক স্ত্রী-পশু থেকে যেমন জঙ্গল ভর্তি পশু হয়েছে তদ্রæপ যে ‘স্ত্রী-মানবী’ থেকে এত মানুষের জন্ম তাকেই দায়িত্ব দেওয়া হলো। সে নারীই হলো মহল্লা’র সর্বময় কর্তা। মহল্লার এই নিয়ন্তাকেই বলা হলো মহল্লার অধিষ্ঠাত্রী বা ‘মহিলা’। এভাবেই ‘মহিলা’ শব্দটি’র উৎপত্তি বলে “আদিম মানব সমাজ” নামক বইয়ে. আব্দুল হালিমের ইতিহাসে ইঙ্গিত মেলে। শুধু তাই নয় তখন সন্তান ‘মা’ চিনতো, ‘বাবা’ চিনতো না। অবশ্য তার আরও নাম বা প্রতিশব্দ ‘রমণী’ পরে পুরুষ-তান্ত্রিক সমাজে হয়ে গেছে। অর্থ ‘রমণ’ করে যে সে-ই ‘রমণী’। প্রশ্ন হলো রমণ কি শুধু নারীই করে পুরুষ কি এটার ভাগীদার নয় ? তাহলে তার নাম শুধু রমণী হবে কেন ?
আমাদের ভাষা চর্চার বড় অসুবিধার দিকটি হলো–আমরা সমাজ জীবনে কথা বলি একভাবে, লিখি অন্যভাবে, পড়তে হয় আরেক ভাবে। অর্থাৎ ভাষায় ব্যাটে-বলে এক হচ্ছে না। ভারত কিন্তু তার সাধারণ মানুষের কথ্য-ভাষাটাকে ‘মান-ভাষা’য় উন্নীত করতে পেরেছে। একটি টালির ঝুপড়ির পাস দিয়ে যাচ্ছি তো স্বামী-স্ত্রী’র শুদ্ধ-ভাষায় ঝগড়া শুনে আমার সহধর্মিনীকে ডেকে শুনালাম। একটু পড়েই স্বামী-স্ত্রী দু’জনই উড়া-কোদাল হাতে টালি’র ঘর থেকে একসাথেই বেরিয়ে কাজে যাচ্ছে ; দেখে আমরা দু’জনই অবাক হলাম। একটা উদাহরণ দেওয়া দরকার। যেমন কোনো শিক্ষার্থীকে বর্ণজ্ঞান দিলেই কিন্তু সে বই পড়তে পারবে না তাকে পড়ার উচ্চারণ শেখাতে হবে। তা নাহলে সে আবৃত্তি বা রিসাইটেশন করতে পারবে না। আর অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথের ‘সোনার তরী’র দুটি লাইন “গগোনে গরোজে মেঘ ঘণ বরোশা, কূলে একা বোসে আছি, নাহি ভরোসা” আবৃত্তি করে গ্রামের কোনো এক রকম শিক্ষিত মানুষকেও যদি শুনানো যায় সে বলবে এ আবার কোন্ ইংরেজি রে বাবা। যদিও তার মুখেই সবগুলি শব্দের জন্ম হয়েছে। একথা রবীন্দ্রনাথও স্বীকার করতেন শব্দের জন্মদাতাই তার শব্দের অর্থ-উচ্চারণ বুঝে না, এতে অবাকও হতেন। ধন্যবাদ। এবারে রাখ
লাম পরে সময়ান্তরে লিখবো।


