ব্রাজিলকে পথ দেখাতে পারবেন তিতে?

সু.খবর ডেস্ক
‘মিনেইরাজো’র কথা কিছুতেই ভুলতে পারেন না ব্রাজিল সমর্থকেরা। ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার সেই ঘটনাটি ব্রাজিলীয়দের কাছে এই নামেই কুখ্যাত। অনেকের মতেই এই মিনোইরাজোই বদলে দিয়েছে ব্রাজিলীয় ফুটবলকে। অনেক সময় বড় বড় বিপর্যয় নতুন দিনের দিগদর্শন হলেও ব্রাজিলের ক্ষেত্রে তা হয়নি। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের সেই বিপর্যয় যেন ব্রাজিলীয় ফুটবলকে নিয়ে গেছে আরও নিচের দিকে। বিশ্বকাপের পর চিলির কোপা আমেরিকা প্রতিযোগিতায় আগেভাগে বিদায় নেওয়ার ব্যাপারটি তো আছেই, ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাইপর্বে ধুঁকতে থাকা কিংবা এবারের বিশেষ শতবর্ষী কোপায় প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় বলে দিচ্ছে ব্রাজিলীয় ফুটবলের বর্তমান অবস্থা। কোপার প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায়ের পর কোচ দুঙ্গার চাকরি গেছে। নতুন নিয়োগ পেয়েছেন তিতে।
কিন্তু ব্রাজিল সমর্থকদের মনে উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে এখন এই প্রশ্নটি, তিতে ব্রাজিলীয় ফুটবলকে এখন কোন পথে নেবেন?
দুবছর আগে বিশ্বকাপের সময়ই ব্রাজিলীয় ফুটবলে করুণদশাটা ফুটে উঠেছিল। ‘মিনেইরাজো’র আগেই সাবেক ব্রাজিলীয় তারকারা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, বিশ্বকাপের ব্রাজিল দলটি বেশি দূর যেতে পারবে না। গ্রুপ পর্যায় থেকেই দলটার মানসিক শক্তির কমতির দিকটি ফুটে উঠছিল বারবার। কাঁপতে কাঁপতে সেমিফাইনাল অবধি গেলেও দলের মানসিক শক্তির দীনতার বিস্ফোরণ ঘটে বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটাতেই—জার্মানি ৭-১ ব্রাজিল! যে দুঃস্বপ্ন কাটাতে লুইস ফেলিপে স্কলারিকে সরিয়ে ফেরানো হলো কার্লোস দুঙ্গাকে।
২০১০ বিশ্বকাপে হল্যান্ডের কাছে হেরে জাতীয় দলের কোচের চাকরি হারিয়েছিলেন দুঙ্গা। চার বছর পর সেই দুঙ্গাই আবার জাতীয় দলের কোচের পদে পুনর্বহাল। কিন্তু সেই চাকরি তিনি বেশি দিন করতে পারেননি। ব্রাজিল সমর্থকদের অনেকেই তো ব্রাজিলীয় ফুটবলের আজকের অবস্থার জন্য দুঙ্গাকে দায়ী করতে চান। অনেকে এমন কথাও বলছেন, কোপায় ব্রাজিলের ব্যর্থতা নাকি একদিক দিয়ে ‘শাপে-বর’ তাদের জন্য। এই ব্যর্থতার ফলেই তো বিদায় করা গেল দুঙ্গার মতো অতিরক্ষণাত্মক কৌশলের একজন কোচকে!
অথচ, এই দুঙ্গাই কিন্তু ২০১৪ বিশ্বকাপের পর ব্রাজিলকে পথে ফেরানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদে দুঙ্গা কোচ হওয়ার পর ব্রাজিল টানা ১১টা আন্তর্জাতিক ম্যাচ জিতেছিল। কিন্তু গত মৌসুমে কোপার ব্যর্থতা তাঁর আসন আবার নড়বড়ে করে দেয়। এবারের কোপা তো তাঁর বিদায়ের পথই প্রশস্ত করল।
দুঙ্গার উত্তরসূরি হিসেবে যিনি এই মুহূর্তে ব্রাজিলের দায়িত্বে, সেই তিতের দিকে তাকিয়ে এখন পুরো ব্রাজিল। তিতের মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ২০১৪ বিশ্বকাপ-পরবর্তী সময়ে ব্রাজিলীয় ফুটবল যে মর্যাদাটা হারিয়েছে, সেটা পুনরুদ্ধার করা। ব্রাজিলকে আবারও বিশ্বের অন্যতম সেরা দলে পরিণত করা—তিতে সামনের দিনগুলো চ্যালেঞ্জিংই দেখছেন।
তিতেকে ব্রাজিলের নতুন কোচ করার কারণ ঘরোয়া ফুটবলে কোচ হিসেবে তাঁর সাফল্য। তিনি করিন্থিয়ানসকে ২০১১ সালে ব্রাসিলেইরাও শিরোপা জিতিয়েছিলেন। পরের বছরই তিনি করিন্থিয়ানসকে এনে দেন কোপা লিবারতাদোরেসের শিরোপা। ২০১২ সালে ক্লাব বিশ্বকাপে চেলসিকে হারিয়ে করিন্থিয়ানসের শিরোপা জয়ও তাঁর কোচিং ক্যারিয়ারের কম গর্বের মুহূর্ত নয়।
তিতের ঘরোয়া সাফল্যই তাঁকে টেনে এনেছে জাতীয় দলের দায়িত্বে। এই মুহূর্তে ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচের পদে বসার ব্যাপারে তিতের চেয়ে নাকি যোগ্যতম আর কেউ নেই। তিতের অধীনে ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে ব্রাজিলীয় কিংবদন্তি রোনালদোর দাবি, ‘এই মুহূর্তে সে-ই সেরা। সে যে সেরা, সেটা প্রমাণিত হয়েছে তাঁর ঘরোয়া সাফল্যেই।’
ইউরোপীয় ঘরানার ফুটবলই নাকি তাঁর কৌশলের উপজীব্য। ব্যাপারটা নিয়ে অনেক মত থাকতে পারে—ব্রাজিলীয় ঘরানার ফুটবল নিয়ে যাঁরা রোমান্টিকতা অনুভব করেন, তাঁরা ঠোঁট উলটাতে পারেন। কিন্তু ঘরানা-টরানা বাদ দিয়ে তিতের এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নাকি খেলোয়াড়দের ব্রাজিলের হলুদ-নীল জার্সির মর্যাদাটা বোঝানো। রোনালদোর মতও একই, ‘তাঁর প্রথম কাজ হবে খেলোয়াড়দের ব্রাজিলের জার্সির গুরুত্ব বোঝানো।
এই কাজটি করতে পারলেই তো তিতের অর্ধেক চাপ কমে যায়! সূত্র : গোল ডটকম।