ব্রিটেনের পার্লামেন্টে বিজয়ী তিন বঙ্গনারীকে অভিনন্দন

যুক্তরাজ্যের মধ্যবর্তী পার্লামেন্ট নির্বাচনে তিন বাংলাদেশী নারী এমপি পদে জয়ী হয়েছেন। মূল নির্বাচনেও এরা বিজয়ী হয়েছিলেন। বেক্সিট ইস্যুতে গণভোট অনুষ্ঠানের পর কনজারভেটিভ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে এই আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। বিজয়ী তিন বাঙালি নারী হলেন টিউলিপ সিদ্দিকী, রুশনারা আলী ও ড. রুপা হক। এদের সকলেই লেবার দলীয় প্রার্থী। টিউলিপ সিদ্দিকী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার কন্যা, রুশনারা আলী সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় জন্মগ্রহণকারী ব্রিটিশ বাঙালি আর ড. রূপা হক পাবনার মেয়ে। ব্রিটেনের এই নির্বাচনে বিভিন্ন দল থেকে মোট ১৪ বাঙালি অংশ নিয়েছিলেন। বাকীরা বিজয়ী হতে পারেন নি। তিন বাঙালি নারীর ব্রিটেনের পার্লামেন্টে আসন পাওয়ার মধ্য দিয়ে ওই দেশের রাজনীতিতে বাংলাদেশী-বাঙালিদের যে গুরুত্ব সেটি প্রমাণিত হলো। রুশনারা আলী এবার তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। অন্য দুইজন পরপর দ্বিতীয়বারের মতো বিজয়ী হলেন। আমরা তিন বিজয়ী বঙ্গনারীকে অভিনন্দন জানাই।  বিজয়ীরা লেবার পার্টির সদস্য আর লেবার পার্টি সংখ্যাগরিষ্ট আসনে বিজয়ী হতে সমর্থ হয় নি। ফলে সংখ্যাগরিষ্ট আসনে বিজয়ী কনজািরভেটিভ পার্টিই সম্ভবত সরকার গঠন করবে। ব্রিটিশ নির্বাচনের এবারের ফলাফলের বৈশিষ্ট হলো কনজারভেটিভরা সংখ্যাগরিষ্ট আসনে বিজয়ী হলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম আসন সংখ্যা ৩২৬ টিতে জয়ী হতে পারে নি। তারা ৩১৮ আসনে বিজয়ী হয়েছে। পক্ষান্তরে লেবার পার্টি ২৬১ আসনে বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদায় আবারও আসীন হলো। কনজারভেটিভ পার্টি ১০ আসনে বিজয়ী অন্য একটি ছোট দল ডিইউপি’র সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের জন্য রানী এলিজাবেথের নিকট প্রস্তাব দিয়েছে। আশা করা যায় রানী তাঁদেরকেই সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা এখনই বলা শুরু করেছেন যে ব্রিটেনের এই ঝুলন্ত সরকার খুব বেশি স্থায়িত্ব পাবে না এবং এরা মৌলিক কোন বিষয়ে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। ফলে সহসাই ব্রিটেনে আরেকটি জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে এখনই কথা বলা শুরু করে দিয়েছেন রাজনীতি-বিশ্লেষকরা।
পৃথিবীর প্রাচীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্রিটেেেনর রাজনীতি তাঁদের নিয়মেই চলবে।  আমাদের কথা সেখানে নয়। আমরা বরং তিন বাঙালি নারীর বিজয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে বহুজাতিক ব্রিটিশ রাজনীতির যে বৈচিত্র ও সমৃদ্ধি সেদিকে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।  শেতাঙ্গ অধ্যুষিত ব্রিটেনে অন্য বর্ণ বা জাতিগোষ্ঠীর মূল ধারার রাজনীতিতে যে অবাধ বিচরণ করার সুযোগ রয়েছে সেটি সারা বিশ্বের জন্য শিক্ষণীয়। খুব স্বাভাবিকভাবেই ব্রিটিশরা এই বৈচিত্রকে গ্রহণ করতে পারে। রক্ষণশীলতা এখানে কোন বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।  রুশনারা আলী, টিউলিপ সিদ্দিকী ও ড. রুপা হক লেবার পার্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত। রুশনারা ও টিউলিপ লেবার পার্টির ছায়ামন্ত্রীসভার সদস্য। লেবার পার্টির সরকারের সময়ে রুশনারা মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। আমরা জানি এই তিন নারী নিজেদের দক্ষতা ও মেধার পরিচয় দিয়ে বিশ্বসভায় বাঙালিদের সম্মান অনেক উঁচুতে নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন। আজ শুধুু ব্রিটেন নয় বরং আমেরিকা, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের মূলধারার রাজনীতিতে বাঙালিদের বিচরণ বাড়ছে। এই অভিবাসী বাঙালিরা যতোই অন্য রাষ্ট্রের নাগরিক হোন না কেন তাঁরা মননে সংস্কৃতিতে নিতান্তই একএকজন বাঙালি। এরা বাংলাদেশের প্রতিনিধি। তাদের সুনাম মানেই আমাদের জাতিগত আত্মশ্লাঘা বাড়িয়ে দিবে। বিশ্বসভায় সংগ্রামী বাঙালিদের যে জয়যাত্রা তা আরও বাড়–ক এই আমাদের কামনা এবং এই আনন্দবোধ থেকে আবারও রুশনারা, টিউলিপ ও রুপাকে শুভেচ্ছা।