ব্লুমফন্টেইনে প্রথম দিন হতাশার গল্প

সু.খবর ডেস্ক
দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন মুশফিকুর রহীম। দ্বিতীয় টেস্টেও একই ভুল করে বসলেন টাইগার দলনায়ক। ব্লুমফন্টেইন টেস্টের প্রথম দিনের প্রথম সেশনেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মুশফিকের সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে যায়। দ্বিতীয় সেশনের শেষের দিকে এবং শেষ সেশনের শুরুর দিকে বাংলাদেশের বোলাররা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও প্রোটিয়াদের সঙ্গে পেরে ওঠেনি।
শুক্রবার দিন শেষে রানের পাহাড় গড়ার পথেই হাঁটছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ডিন এলগার এবং এইডেন মার্করামের মধ্যকার ডাবল সেঞ্চুরি জুটিতে শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও হাশিম আমলা ও ফাফ ডু প্লেসিসের দারুণ ব্যাটিংয়ে দিন শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ৪২৮ রান সংগ্রহ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। মার্করাম ১৪৩ এবং এলগার ১১৩ রান করে আউট হন। টেম্বা বাভুমা আউট হন রান করে। এছাড়া আমলা ৮৯ ও ফাফ ডু প্লেসিস ৬২ রান করেন। বাংলাদেশের হয়ে শুভাশিষ রায় দুটি উইকেট নেন। রুবেল হোসেন নেন একটি উইকেট।
ব্লুমফন্টেইনের ঘাসের পিচে ব্যাটসম্যানদের শুরুতেই পরীক্ষায় পড়তে দিতে চাননি মুশফিক। পেসাররা যেন বাড়তি সুবিধা পায় সেটি মাথায় রেখেই ফিল্ডিং বেছে নেন টাইগার দলনায়ক। মুশফিক নির্ভাবনায় ফিল্ডিং বেছে নিলেও চমকে দেয়া কথাই বলেন দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস। টসের সময় উপস্থাপককে তিনি বলেছিলেন, এমন পিচে টসে জিতলে দশবারের মতো নয়বারই তিনি ব্যাটিং নিতেন। ডু প্লেসিসের বক্তব্যের সত্যতাই যেন ফুঠে উঠল দুই প্রোটিয়া ওপেনারের ব্যাটে। উদ্বোধনী জুটিতে এলগার ও মার্করাম তোলেন ২৪৩ রান। দুজনই তুলে নেন সেঞ্চুরি। প্রথম সেশনের মতো দ্বিতীয় সেশনও নির্বিঘ্নে পার করে দিতেই যাচ্ছিলেন এলগার ও মার্করাম। তবে চা বিরতির একটু আগে প্রথম উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। শুভাশিষের বলে বিগ শট হাঁকাতে গিয়ে ফাইন লেগে মোস্তাফিজের হাতে ধরা পড়েন এলগার। চা বিরতির পরও দারুণ ছন্দেই ছিলেন মার্করাম। তবে রুবেলের অসাধারণ এক ডেলিভারির কাছে তাকে হার মানতে হয়। রুবেলের করা ৫৮তম ওভারের চতুর্থ বলে দুর্দান্ত এক ইনসুইংগার মার্করামের ব্যাটের ফাঁক গলে স্টাম্প উপড়ে ফেলে। আর তাতে অস্বস্তি থেকে মুক্তি মেলে বাংলাদেশের। রুবেলের কিছুক্ষণ পর দক্ষিণ আফ্রিকা শিবিরে হানা দেন শুভাশিষ। তার করা ৬২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে উইকেটের পেছনে লিটন দাসকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন বাভুমা। দ্রুত দুই উইকেট হারালেও আমলা ও ডু প্লেসিসের জুটি দক্ষিণ আফ্রিকাকে চালকের আসনেই রাখে।
ব্লুমফন্টেইন টেস্টে বাংলাদেশের একাদশে চারটি পরিবর্তন এসেছে। ইনজুরির কারণে ছিটকে পড়া তামিম ইকবালের জায়গায় একাদশে ঢুকেছেন সৌম্য সরকার। অন্যদিকে মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসনিক আহমেদ এবং শফিউল ইসলামকে বসিয়ে তাইজুল ইসলাম, রুবেল হোসেন ও শুভাশিষ রায়কে একাদশে নিয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার একাদশে একটি পরিবর্তন এসেছে। ইনজুরির কারণে ছিটকে পড়া মরনে মরকেলের জায়গায় একাদশে ঢুকেছেন ওয়াইন পারনেল।
২০০৭ সালের পর প্রথমবারের মতো ডেল স্টেইন, ভারনন ফিল্যান্ডার কিংবা মরকেলের মধ্য হতে যেকোনো একজনকে ছাড়া টেস্ট খেলতে নামল প্রোটিয়ারা।
বাংলাদেশ একাদশ: ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক), সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), তাইজুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন ও শুভাশিস রায়।
দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশ: ডিন এলগার, এইডেন মার্করাম, টেম্বা বাভুমা, হাশিম আমলা, ফাফ ডু প্লেসিস (অধিনায়ক), কুইন্টন ডি কক (উইকেটরক্ষক), অ্যান্ডিলে ফেলুকওয়ায়ো, কেশব মহারাজ, কাগিসো রাবাদা, ওয়েইন পারনেল ও ডোয়াইন অলিভিয়ে।