আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
বিদ্যালয় ভবন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ তাই খোলা আকাশের নীচে পাঠদান চলছে শিক্ষার্থীদের। সরেজমিনে শনিবার চিত্রটি দেখা যায় বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের বড়দল নতুন হাটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যলয়ের ভবনের ছাদ ফাটল ও জরাজীর্ণ যে কোন সময় ভেঙ্গে ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। এ আশংকা থেকেই বিদ্যালয় ভবনের ভিতর পাঠদান না করে বিদ্যালয়ের বাহিরের অঙ্গিনায় খোলা আকাশের নীচে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিক সালমা আক্তার ও নাজিম উদ্দিন।
তারা জানান, বিদ্যালয় ভবনের ছাদে ফাটল থাকায় তারা সাহস পাচ্ছেন না শিক্ষার্থীদের শ্রেণী কক্ষে পাঠদান করতে। তাই মাস খানেক ধরে শিক্ষার্থীদের কখনো বারান্দা, কখনো খোলা আকাশের নীচে পাঠদান করাচ্ছেন।
বিগত ৮ এপ্রিল বিদ্যালয় ভবনের একটি কক্ষের ১০ বর্গফুট ছাদ ভেঙ্গে মেঝেতে পড়ে যায়। বিষয়টি উল্লেখ করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রমিজ উদ্দিন বিদ্যালয়ের দুরাবস্থা ও পাঠদানের অনুপযোগী উল্লেখ করে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার সহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে অবহিত করেন। এরই প্রেক্ষিতে তাহিরপুর উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাজেদুল হক সরজমিনে গিয়ে বিদ্যলয়ের ছাদের ফাটলের অবস্থা দেখে বিদ্যালয়ের ভবনে ক্লাস না নেয়ার জন্য শিক্ষকদের নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা খোলা আকাশের নীচে পাঠদান করাচ্ছেন। এ অবস্থায় বিদ্যালয় চলাকালীন সময় যখন বৃষ্টি আসে তখন ছাত্রছাত্রীরা তাদের বাড়িতে চলে যায়। এভাবেই চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদানের কার্যক্রম।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমিজ উদ্দিন জানান, বড়দল নতুনহাটি গ্রামের প্রাক্তন ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ও মাফিজুর রহমান সহ কিছু শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি ১৯৮৯ সালে বড়দল নতুন হাটি বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশল অফিস ১৯৯৬-৯৭ অর্থ বছরে বিদ্যালয়ের ভবনটি নির্মাণ করে।
তিনি জানান নির্মাণাধীন সময়ে ঠিকাদারের নির্মাণ কাজ অনিয়ম হয়েছে বলে বারবার তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশল অফিসকে অবহিত করা হয়েছিল। তখন এ বিষয়ের কোন রকম প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এক পর্যায়ে নির্মাণাধীন কাজ গ্রামবাসী বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যালয় এলাকাতে গিয়ে গ্রামবাসীকে বলেন আপনারা কজের বিষয়ে কিছুই বলবেন না। সরকার কাজ তদারকির জন্য আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে। এরপর গ্রামবাসী নির্মাণাধীন কাজ নিয়ে আর কিছু বলেননি।
বিদ্যালয় এলাকার শিক্ষানুরাগী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরের কাজ ১৯৯৯ সালে সমাপ্ত করা হয়। নির্মাণের ১৬ বছর পর বিদ্যালয় ভবনের ছাদ ধ্বসে পড়ার বিষয়টি সরকারের উচ্চ মহলে তদন্তের দাবি জানান তিনি।
এ অবস্থায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বছরে বছরে স্লিপ বরাদ্দ কিংবা আনুসাঙ্গিক বরাদ্দ থেকে ভবনটি মেরামত করে কোন রকম পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যান ২০১৫ সাল পর্যন্ত। বৃষ্টির দিনে ভনের এ দুরাবস্থা দেখে ছাত্র অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের আর বিদ্যালয়ে পাঠাতে সাহস পান না। এতে করে দিন দিন অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয় বিমুখ হয়ে পরে।
বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণির ছাত্রী মাসুমা আক্তার, তানজিমা আক্তার, অমর হাসান জানায়, গত ৮ এপ্রিল বিকাল পৌনে ৩টার সময় বিদ্যালয়ের ছাদটি হঠাৎ ধ্বসে পড়ে। এ সময় আমরা দুজনেই সামান্য আহত হই। এসময় ধসে পড়া ছাদ যদি আমাদের উপরে পড়ত তাহলে আমাদের মৃত্যু হতো।
উপসহকারী প্রকৌশলী মাজেদুল হক বলেন, বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষের ভিতরে পাঠদান না করার জন্য আমি শিক্ষকদের বলে দিয়েছি
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টি ঝুঁকিতে রয়েছে সংস্কারের জন্য আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। বিদ্যালয়ের ভবনটি পুনঃনির্মাণের জন্য প্রস্তাব তৈরী করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের জন্য আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছি।


