আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
বানিয়াগাঁও বালিয়াঘাটা কমিউনিটি প্রাথমিক বিদালয়ের ভবন আছে কিন্তু শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও আসবাবপত্র কিছুই নেই। তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের এই বিদ্যালয়টি ১৯৯২ সালে স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে একটি ভবন নির্মিত হয়। ২০০২ সাল থেকে বিদ্যায়টিতে শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রী বলতে আর কিছুই নেই। এখন শুধু বিদ্যালয় ভবনটি দাঁড়িয়ে রয়েছে। বিদ্যালয়টি বন্ধ থাকার কারণে পাশর্^বর্তী তেলীগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে বানিয়াগাঁও বালিয়াঘাটার ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া করতে হয়। এ অবস্থায় তেলীগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাত্রাতিরিক্ত ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া করতে হয়। এলাকার অভিবাবকদের দাবি বানিয়াগাঁও বালিয়াঘাটা কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি চালু হলে এলাকায় ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের হার কমে যাবে।
তেলিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ও তেলীগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিতাই চন্দ্র পাল বলেন, ২০০২ সালে বানিয়াগাঁও বালিয়াঘাটা কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ হয় যায়। ঐ সময়ে বিদ্যালয়ে ৩ জন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চলতো।
তাহিরপুর উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সমিতির সভাপতি অজয় কুমার দে বলেন, বানিয়াগাঁও বালিয়াঘাটা কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি চালু থাকলে ২০১৩ সালের ন্যায় দেশের ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো এটিও জাতীয়করণ হয়ে যেতো।
তেলীগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুয়েব আহমদ বলেন, তার বিদ্যালয়ে সরকারী নিয়মানুযায়ী ৩০০ জন ছাত্রছাত্রী লেখাপড়া করতে পারে। বানিয়াগাঁও বালিয়াঘাটা কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বন্ধ থাকার কারণে তেলীগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ছাত্রছাত্রী রয়েছে ৪০০ জন।
শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের শিবরামপুর গ্রামের বাসিন্দা জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুদাচ্ছির আলম সুবল বলেন, তাহিরপুর উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবন আছে কিন্তু ছাত্রছাত্রী ও আসবাবপত্র নেই এমন বিষয়টি ভাবতে আমাদের অবাক লাগছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুপ্রভাত চাকমা বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিদ্যালয়টি পুনরায় চালু করার জন্য তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।


