ভবন আছে নেই শিক্ষা ও চিকিৎসা -বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন

স্টাফ রিপোর্টার
আমাদের সময় হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার থেকে ছাত্রছাত্রীরা এসে সুনামগঞ্জ কলেজে ভর্তি হতো। তবে এখন অবস্থার পরিবর্তন হয়ে গেছে। আমাদের ছেলে মেয়েরা ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করাতে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে। লজ্জা হয়, যখন দেখি গ্রামের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের চেয়ে ভালো ফলাফল করে। খারাপ
লাগে। শুধু বিল্ডিং দিয়ে লেখাপড়া হয় না। আমাদের ভালো ম্যানেজম্যান্ট ও শিক্ষক প্রয়োজন।
শুক্রবার সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠার গৌরবোজ্জ্বল ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন ও প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী রুমি এসব কথা বলেন।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সুন্দর বিল্ডিং আছে, সুন্দর চিকিৎসা নেই। সুনামগঞ্জের সবচেয়ে বড় চিকিৎসালয় এটি। অথচ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলে সিলেটে পাঠিয়ে দেয়। আমার বাবা যখন হাসপাতালে ভতির্, তখন আমি এসে দেখি তাকে একটি নোংরা কেবিনে রাখা হয়েছে। আমাকে দেখে তারা রুমে রং করা শুরু করে। তাকে বসানোর জন্য একটি হুইল চেয়ার পাই নি। কিছুক্ষণ পর আবার দামি ঔষধপত্র সহ দেখি সব কিছুই আসছে। এভাবে কেন হবে। সবারই চিকিৎসা পেতে হবে। হাসপাতাল নিজেই রোগী, চিকিৎসা করবে কী ? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থাও এমন হয়েছে।
তিনি বলেন, এই ভাটি অঞ্চলের কলেজের ছাত্র নন্দী এখন নাসায় কাজ করছে। এই কলেজের এখন এই অবস্থা কেন? রসায়নের রঞ্জু স্যারকে কেন নকল ধরতে গিয়ে খুন হতে হবে? কলেজের ঐতিহ্য নষ্ট করবেন না। আমাদের সময় স্ট্যাটিস্টিক সাবজেক্ট ছিল। এখন নেই। সবার বাড়ে, আমাদের কলেজে সাবজেক্ট কমে।
জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শুধু বক্তৃতা নয়, আপনারা কাজ করেন। বাহবা নেয়ার জন্য নয়, ভবিষ্যতের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে হবে।