ভরাট হচ্ছে হাওর জলাশয় / হুমকির মুখে মৎস্য সম্পদ

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
মাছের অবাধ বিচরণ ও প্রজনন বিঘিœত হওয়ায় হুমকির মুখে মৎস্য সম্পদ। খাল-বিল, পুকুর-ডোবা, নদী-নালা, হাওর-বাওর এবং বর্ষার উন্মুক্ত জলাশয়ই মাছের আবাসস্থল। শুকনো মৌসুমে কৃষি জমিতে আবাদ করে মানুষের খাদ্যের সংস্থান করে যে জমি, সেই জমিই বর্ষায় মাছের আবাসস্থল, বিচরণ এবং প্রজনন ক্ষেত্র। আবাসস্থল না থাকলে মাছ উৎপাদন ব্যাহত হয়। প্রতি বছর পাহাড়ি ঢলে পলি এসে কৃষিজমি ভরাট হয়ে যাওয়ায় দিন দিন মাছের আবাসস্থল সংকোচিত হচ্ছে। পাশাপাশি হাওরে অপরিকল্পিত বাঁধ, যত্রতত্র রাস্তা, পুকুর ভরাট করার কারণে মাছের আবাসস্থল কমছে। ইতোমধ্যে অর্ধশত প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে। এছাড়াও অবাধে মৎস্য নিধন, অপরিকল্পিত বেরীবাঁধ নির্মাণ, কৃষি জমিতে কীটনাশকের ব্যবহারে খাল-বিল, জলাশয় দূষণে মৎস্য সম্পদ কমছে।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, হাওর বিল ও জলাশয়ের আয়তন ১৮ হাজার ৫৭১ হেক্টর। জামালগঞ্জে মাছের উৎপাদন হয় ৪ হাজার ৭৭০ মেট্রিক টন।
প্রবীণ মুরব্বী ফেনারবাঁক ইউনিয়নের আমানীপুর গ্রামের জয়চান বর্মন, বেহেলী ইউনিয়নের নিতাইপুর গ্রামের গৌরাঙ্গ বিশ^াস বলেন, এক সময় হাওর বিলে মাছ কিলবিল করত। হাওর দিয়ে নৌকায় চলাচলের সময় মাছ লাফ দিয়ে নৌকায় উঠে যেত। খালে বিলে হাওরে বাওর ভরাট হওয়া বন্ধ করে পরিকল্পিত উপায়ে মাছ চাষ করলে এবং অভয়াশ্রমগুলোকে নিরাপদ রাখতে পারলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
তারা আরও বলেন, ডিমওয়ালা ও পোনা মাছ নিধন বন্ধ, সেচের মাধ্যমে মৎস্য আহরণ, জলাশয়ে যন্ত্রতত্র বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা, জলবায়ুর পরিবর্তন, অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহারসহ নানা কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ।
উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা জানান, উপজেলায় বছরে মাছের চাহিদা ৩ হাজার ৮২০ মেট্রিক টন। চাহিদার চেয়ে উৎপাদন ৯৫০ মেট্রিক টন বেশী।
তিনি আরও জানান, উপজেলার হাওরে জলাশয়ের সংখ্যা কম। তবে পরিকল্পিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে মাছের উৎপাদন আরও বাড়ানো যেত। প্রাকৃতিক ও মানুষ্য সৃষ্ট এবং বিভিন্ন ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে দিন দিন এ অঞ্চলে মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং উল্লেখযোগ্য মাছ বিলুপ্ত হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তনুকা ভৌমিক বলেন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যায় জন্য যেমন আবাসনের প্রয়োজন তেমনী জনগণের আমিষের চাহিদার জন্য মাছেরও প্রয়োজন আছে। মাছের আবাসন নষ্ট করা যাবে না। জলাশয় ভরাট করা যাবে না। এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।