ভাইয়েরা সাবধান হোন

করোনা এখন ঘাড়ের উপর নিঃশ্বাস ছাড়া শুরু করেছে। নিজের পরিবারে হয়নি, এলাকায় হয়নি, পরিচিত কারও হয়নি বলে যারা এতদিন নির্লিপ্ত ছিলেন এবং বেপরোয়া চলাফেরা করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিলেন তাদের এখন সময় এসেছে সাবধান হয়ে যাওয়ার। এখন নিজেদের চারপাশে আক্রান্ত পাওয়া শুরু হয়েছে। পরিচিত জনদের আক্রান্ত হওয়ার খবর শুনা যাচ্ছে। জেলা শহরের নানা আবাসিক এলাকায় আক্রান্ত শনাক্ত হচ্ছেন বলে ফেসবুকে প্রতিদিনই সংবাদ প্রচার হতে দেখা যাচ্ছে। সুতরাং আগের মতো বীরত্ব দেখিয়ে বোকার মতো চলা এখন থামাতে হবে। পরিচিতদের গ-ি পেরিয়ে করোনা এখন আপনার ঘরে যেতে তৈরি হয়ে আছে। হঠাৎই দেখবেন, গলা ব্যথা শুরু হয়েছে, শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে, খাওয়ায় অরূচি ধরেছে। শরীরের এইসব উপসর্গ দেখা দেয়ার পরই আপনার হৃদকম্পন বাড়বে, আতংকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হবেন, মানসিক চাপ মাত্রা ছাড়াবে। করোনা জীবানু আপনার শরীরে এতোটা শক্তি অর্জন না করলেও শুধু আতংকের কারণেই আপনি কাবু হয়ে যাবেন। মহামারীর চরিত্রই এমন। দূর থেকে ধীরে ধীরে কাছে আসবে। এক এলাকা থেকে বিভিন্ন এলাকায় ছড়াবে। একসময় সবগুলো জায়গায়ই মহামারীর মরণছুবল হানা দিতে শুরু করে। বাংলাদেশের মানচিত্রের দিকে দয়া করে একবার তাকান। লালে হলুদে লয় হতে চলেছে প্রিয় শ্যামল সবুজ। আক্রান্তহীন কোনো এলাকা খোঁজে পাবেন না। একটু চোখ বন্ধ করে চিন্তা করুন। বুঝতে পারবেন পরিস্থিতির ভয়াবহতা। তাই দয়া করে সংযত হোন। এতদিন যা করেছেন তা করেছেন। দোহাই এবার ক্ষান্ত দেন। নিজেকে নিয়েই চিন্তা করুন। নিজের সুরক্ষার ব্যবস্থা করুন। বেঘোরে জীবনকে বিপন্ন করবেন না। ভাবুন, আপনি অসুস্থ হলে আপনার পরিবারে কী প্রতিক্রিয়া হবে। পরিবারের কতজনের ক্ষতির কারণ হবেন নিজের অবিমৃশ্যকারিতার জন্য। আপনার কারণে একটি সাজানো গুছানো সুন্দর শান্তির সংসার তছনছ হয়ে যেতে পারে। নিজের স্ত্রী সন্তান মা বাবার মুখটি কল্পনা করুন আর নিজেকে সংশোধন করুন। আক্রান্তদের পরিবারের দিকে তাকান, দেখুন কি দুঃসহ যন্ত্রণা, অবজ্ঞা, উপেক্ষা ভোগ করছেন তারা। কেউ কাছে যেতে চায় না, এমনকি নিকটজনও দূরে সরে থাকে। অমানবিকতার অবাঞ্ছিত গল্পে গণমাধ্যমের শরীর ভরে উঠেছে। আপনি কি নিজেকেও এমন অবস্থায় দেখতে চান? সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনাকেই।
মিথ্যা বিশ্বাসে আত্মসমর্পন করবেন না। করোনা শুধু ধনিকে ধরে না, গরিবকেও ধরে। ধনি বা প্রভাবশালীরা মিডিয়া কভারেজ বেশি পায় বলে তাদের কথা শুনছেন বেশি। রাম শ্যাম যদু মধুদের কথা প্রচার মাধ্যমে আসে না বলে জানছেন না। এখন যখন করোনা আপনার কাছাকাছি চলে এসেছে তখন আক্রান্তদের পরিচয় বিশ্লেষণ করুন। নিশ্চিতভাবেই জানবেন নির্ধনরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। করোনা শহর গ্রাম, অট্টালিকা কুড়েঘর পার্থক্য করে না। শহর ঘনবসতিপূর্ণ থাকে। যৌক্তিকভাবেই শহরে আক্রান্ত বেশি পাওয়া যাবে। সুতরাং অসার স্বস্তিতে ভোগবেন না।
করোনার কোন ঔষধ নেই, এ ভীষণ ছুঁয়াছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ ক্রমশ সংকুচিত হতে হতে নেই হয়ে যাচ্ছে। ডাক্তাররা চেম্বার বন্ধ করে দিয়েছেন। প্রতিদিন বহু সামর্থবানের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। টাকা থাকলেও কেউ সুস্থ হতে পারছেন না। যাদের গোটা হাসপাতাল কিনে নেয়ার সক্ষমতা আছে তাদেরও করুণ মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। তাবৎ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা, গণমাধ্যম, সরকার, প্রশাসন প্রতিক্ষণ গলা ফাটিয়ে একটাই কথা বলছে। স্বাস্থ্যবিধি মানুন। মাস্ক পরিধান করুন। সাবান দিয়ে বারবার হাত পরিস্কার করুন। একজন থেকে আরেকজনের দূরত্ব কম করে তিন ফুট পারলে ছয় ফুট বজায় রাখুন। যতটা সম্ভব ঘরে থাকুন। ভিড় এড়িয়ে চলুন। এগুলোই ঔষধ। আরেকটি ঔষধ হলো, শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো তথা পুষ্টিসম্মত সুষম খাবার গ্রহণ, যথেষ্ট পরিমাণে ঘুমানো। এই ব্যক্তিগত উদ্যোগগুলোই কেবল আপনাকে বাঁচাতে পারে। মনে রাখবেন রাষ্ট্রের চিকিৎসা সক্ষমতার অভাব তীব্র হয়ে উঠেছে। সুতরাং বাঁচতে হলে ভাইয়েরা সাবধান হোন।