ভাঙা ঘরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আছে ময়নামতি

স্টাফ রিপোর্টার
বন্যার পর থেকে তিন বেলা পেট ভরে খাবারও জুটেনি ভাগ্যে। একমাত্র আশ্রয়ের ঠিকানা বানের পানিতে দুমড়ে মুচড়ে ভেঙে গেছে। সেই ভাঙা ঘরেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে থাকছেন ময়নামতি ও তার চার ছেলে মেয়ে। ময়নামতি জুতা সেলাইয়ের কাজ করেন। দিন শেষে যা পান তা দিয়ে কোন রকমে আহার জুটে তাদের।
ময়নামতির বাড়ি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের রাজারগাঁও গ্রামে। পাঁচ বছর আগে স্বামীকে হারান তিনি। ৪ সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে পরে বাজারে বাজারে কিংবা গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষের জুতা সেলাইয়ের কাজ করেন তিনি। সম্প্রতি বন্যায় তছনছ হয়ে গেছে ময়নামতির ঘর। ভেসে গেছে ঘরের সকল আসবাবপত্র। বন্যার সময় ছেলে মেয়েদের নিয়ে আশ্রয় নেন অন্যের বাড়িতে। বন্যার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তিন বেলা খাবার পেটে পড়েনি তাদের। এমনকি সরকারি কোন সহায়তাও পাননি। বর্তমানে বন্যার পানিতে ভেঙে যাওয়া ঘরেই ঝুঁকি নিয়ে ছেলে মেয়েকে নিয়ে থাকছেন তিনি। ছোট ৩ ছেলেকে বড় মেয়ে রাজমতির কাছে রেখে কাজে যান তিনি।
১০ বছরের রাজমতি জানান, আম্মা জুতা সেলাই করতে সেই সকাল বেলা বাসা থেকে গেছেন, রাতে আইবা। ছোট ভাইরা বলছে, তাদের খিদা লাগছে কিন্তু ঘরে খাবার নেই। তাদের খিদা ভুলিয়ে রাখতে লাল, নীল পরীর গল্প শুনচ্ছি।
ময়নামতি রবি দাস জানান, বন্যায় ঘরটা ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে। এখন ভাঙা ঘরে ছেলে মেয়ে নিয়ে থাকি। হঠাৎ একদিন খবর পাবেন ঘর ভেঙে আমাদের উপরে পড়ে সবাই মরে গেছি। কেউ কি নেই আমার ভাঙা ঘরটা মেরামত করে দিতে পারে।
তিনি বলেন, পাঁচ বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছে। তার পর ছেলে মেয়ের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার জন্য কিছু দিন ভিক্ষা করেছি। আমার শরীরে বিভিন্ন রোগ বাসা বেঁধেছে। ছেলে মেয়ের জন্য হয়ত উপর ওয়ালা আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। আমার স্বামী জুতা সেলাইয়ের কাজ করতো। এখন আমি জুতা সেলাই করে ছেলে মেয়ের মুখে খাবার তুলে দেই। কিন্তু বন্যা এসে মাথা গুজার ঠাঁই ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে।
গৌরারং ইউনিয়নের দুই নাম্বার ওয়ার্ডের সদস্য সালেক মিয়াকে সরকারের দেওয়া ১০ হাজার টাকা আমার ওয়ার্ডের একজন মানুষও পায়নি, অথচ আমার ওয়ার্ড খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলেন আবেদন করতে।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বন্যা পরবর্তী মানুষ যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেই জন্য আমরা সকল ধরনের চেষ্টা করেছি।