বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ শহরতলির কোরবাননগর ইউনিয়নের মানিক দাসের পোল্ট্রি মোরগের খামার রয়েছে। কিছু দেশী মোরগ, হাঁসও পালন করেন তিনি। গেল ১৬ জুনের বন্যার আগে পর্যন্ত ডিম, মোরগ ও হাঁস বাড়ি থেকেই পাইকাররা কিনে নিয়ে যেতেন। ভ্যান, অটো রিক্সা, সিএনজি সবই বাড়ি পর্যন্ত যেতো। সুনামগঞ্জ-নতুন ব্রাহ্মণগাঁও সড়কের ধারারগাঁও থেকে ব্রাহ্মণগাঁও পর্যন্ত অংশে পায়ে হেঁটে চলাই এখন দায়। খানাখন্দ-গর্তে ভরা সড়কটি চলাচল অনুপযোগি। এ কারণে সুনামগঞ্জ শহর থেকে প্রথমে সিএনজি বা অটো রিক্সায় গোধারগাঁও, পরে ট্রলার, এরপর মাথায় করে মালামাল আনা নেওয়া করতে হয় তাদের। ডিম বিক্রি করতে পথ খরচও দিতে হয় অনেক। ডিম বিক্রি করতে গেলে একজন মানুষকে সারাদিন খাটতেও হয়।
এই গ্রামের জ্যোতিষ সেন কিছু সবজি চাষাবাদ করেন। মাঝে-মধ্যে সবজি বিক্রিও করেন তিনি। এখন সবজি নিয়ে বাজারে আসতে যেতে যে খরচ লাগে তাতে পুষায় না। জ্যোতিষ সেন বললেন, ‘যাতায়াতের অবস্থা ইলাখান অইছে, বুঝা যার আমরা ৫০ বছর পিছে গেছিগি।’
কেবল সুনামগঞ্জ শহরতলির নতুন ব্রাহ্মণগাঁও নয়। গেল বন্যায় জেলাজুড়ে এমনভাবে সড়ক ভেঙেছে এবং এই মাসের শুরু থেকে অর্থাৎ তিন চার দিন হয় লাগাতার বৃষ্টিতে গ্রামীণ সড়কের অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গ্রামীণ আয়ের সকল পথও বন্ধ হয়ে গেছে। জরুরি কাজ ছাড়া জেলা সদর উপজেলা সদরে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে অনেকের।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বন্যায় ভাঙন, পাকা সড়ক ওঠে যাওয়া, গর্ত হওয়া এবং বৃষ্টিতে কাঁদা হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিক জনবসতিপূর্ণ এলাকার অনেক সড়ক দিয়ে এখন যানবাহন চলে না। পায়ে হেঁটে যাতায়াতও কষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোন কোন সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ছোট ছোট যানবাহন চললেও প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কোরবাননগর ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কের মধ্যে ধারারগাঁও-গোদারগাঁও সড়ক, সুনামগঞ্জ-আমবাড়ী সড়ক থেকে মনোহরপুর-হাছনপুর পর্যন্ত সড়ক ও তালেব পয়েন্টের পাশের সড়কের বেহাল অবস্থা। এছাড়া আলমপুর, নোয়াগাঁও, নূরপূর গ্রামীণ সড়ক, গোধারগাঁও-ব্রাহ্মণগাঁও সড়ক, ব্রাহ্মণগাঁও মিল থেকে-হালিমপুরের শেষ মাথা পর্যন্ত সড়ক।
সুরমা ইউনিয়নের হালুয়ারঘাট-বালিকান্দি সড়ক, বেলাবরহাটি-বালিকান্দি সড়ক, বেরীগাঁও পয়েন্ট থেকে মীরেরচর পর্যন্ত সড়ক।
রঙ্গারচর ইউনিয়নের হরিনাপাটি-ইলামবাজার-সিংিগিরদাইর সড়ক, হাসাউড়া-বনগাঁও সড়কের ইসলামপুর-বনগাঁও অংশ বেহাল আকার ধারণ করেছে।
মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের সুনামগঞ্জ-বেতগঞ্জ আমবাড়ি সড়ক, শান্তিগঞ্জ-আব্দুল্লাপুর সড়ক, সাধকপুর-পীরপুর সড়কে চলাচল দায় হয়ে পড়েছে।
লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের বাহাদুরপুর সড়ক থেকে নলুয়া সেতু পর্যন্ত সড়ক, লক্ষণশ্রী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পৈন্দা পর্যন্ত সড়ক, জানীগাঁও গ্রামের পশ্চিমমূখী সড়ক এখন মানুষের কষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গৌরারং ইউনিয়নের ভাটি শাফেলা সড়ক, টুকেরবাজার-ইনাতনগর সড়ক, পুরানগাঁও সড়কের কারণে হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
কাঠইড়ই ইউনিয়নের কাঠইড়- কলাইয়া সড়ক, শ্রীমতি বাজার-শাহ্পুর সড়কও কষ্টের কারণ হয়েছে।
মোহনপুর ইউনিয়নের সর্দারপুর-জয়নগর সড়ক, ইউনিয়নের কাঠইড়-জয়নগর সড়ক, সর্দারপুর-জয়নগর সড়ক, জানীগাঁও-পৈন্দা-জয়নগর বাজার সড়কের বেহাল অবস্থা।
গ্রামীণ এসব সড়কের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী পৌরসভা ও উপজেলা সদরের সড়কেরও বেহাল অবস্থা। জেলাজুড়ে পথকষ্ট লাখো মানুষের ঘুরে দাঁড়ানো বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান অবশ্য বলেছেন, বন্যায়-বৃষ্টিতে গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কিছু সড়কে আপদকালীন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আরও কিছু সড়ক সচল করার চেষ্টা চলছে। গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামোকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দুই হাজার ৭৭ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাবনা উর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে।
- মৃত্যুবার্ষিকী : শিক্ষক আনিসুর রহমান কামাল
- জামালগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তি করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ


