Deprecated: Required parameter $month follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $day follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $year follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $display_count follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292

Deprecated: Required parameter $total_shares follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292
ভাটির আলোকবর্তিকা ও ৭১ এর নীরব সাক্ষী গিরিধর উচ্চ বিদ্যালয় – সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক

ভাটির আলোকবর্তিকা ও ৭১ এর নীরব সাক্ষী গিরিধর উচ্চ বিদ্যালয়

সুশান্ত দাস (প্রশান্ত)
হাওরের জনপদ শাল্লা। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ হতে ভাটির আলোকবর্তিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি কালের সাক্ষী বহন করে আসছে। বিদ্যালয়টির অবস্থান আঙ্গারুয়া নওয়াগাঁও এর উত্তর প্রান্তে। নওয়াগাঁও হতে বিচ্ছিন্ন ‘ছন-কান্দায়’ (ছন বন) গড়ে ওঠে বিদ্যালয়টি। এর পূর্ব প্রান্তে ঐ সময়ে দাঁড়াইন নদী ঘেঁষা পাড়ে গাংচরে মানুষের শেষকৃত্য সম্পন্ন হতো। বর্ষাতেও গ্রাম হতে আলাদা এবং হেমন্তেও প্রায় লোকসমাগম বিহীন। যার দরুন নিরবিচ্ছিন্নতা লক্ষ্য রেখেই মুক্তিপ্রেমী সৈনিকেরা বেছে নেয় স্কুলের পুরনো দু’তলা বিল্ডিংটি (পরিত্যক্ত)। বিশেষ করে গেরিলা বাহিনীর নির্ভরতার অনন্য আশ্রম। মুক্তিপ্রেমীদের কথা হতে জানা যায়, পাকিদোসর অনেক রাজাকার, আলবদর, লুটকারীদের ধরে এনে এখানে অপারেশন করেছেন। অপারেশন শেষে অনেকের চেহারা পরিবর্তন হয়ে যেতো সরাসরি ওরা ঘরে ফিরলে গ্রামের লোকজনসহ নিজের বালবাচ্চারা অগ্নিস্বরূপ চোখ দেখে ভয় পেত। তাই রাত ভর অপারেশন ও বিশ্রাম শেষে মানুষ জাগার আগে নিজ নিজ ঘরে ফিরতো। যা সাধারণ মানুষের চক্ষু আড়ালে রাখা হতো। ফলে অনেকের এখনো চক্ষুড়ালে বিষয়টি রয়ে গিয়েছে। তাই ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে হাওর পাড়ের নীরব স্বাক্ষী গিরিধর উচ্চ বিদ্যালয় নামক ভাটির এই আলোকবর্তিতাটি।
বস্তুত হাওর, বিল, ভাঙ্গা-কাঁচা সড়ক আর কান্দা-জাঙ্গাল নিয়ে দুর্গম জনপদ শাল্লা থানা যা আজকের শাল্লা উপজেলা। ১৮৩১ সালে প্রাথমিক শিক্ষার আলো পৌঁছালেও বাবু মহেন্দ্র মাস্টারের বদান্যতায় ১৯৫৮ সালে গড়ে তোলেন তাঁর বাবার নামে ‘গিরিধর উচ্চ বিদ্যালয়’ ভাটির এই আলোকবর্তিকা। তখনো হাওরবেষ্টিত অত্র এলাকায় গড়ে ওঠেনি মাধ্যমিক শেষ করার মতো কোন প্রতিষ্ঠান। বহু দূরদূরান্ত হতে হেমন্তে পায়ে হেঁটে আর বর্ষায় হাতে নৌকা বেয়ে শিক্ষক সমেত ছাত্ররা পাঠ চুকিয়ে নিতো। এমতাবস্থা হতে আজকে উপজেলা শাল্লাতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আটচল্লিশটি। বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পঞ্চাশটি। কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় চারটি। নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় তিনটি। স্বাধীনতা বিরোধী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ, সহ-পাঠ ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় আটটি। দাখিল মাদ্রাসা দুটি। কলেজ (সহ পাঠ) দুটি। শিক্ষার হার ৪৪%।
লেখক : গিরিধর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, ১৯৯৭ সালের এসএসসি ব্যাচ