ভারতে গণপিটুনিতে বশির হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন-সমাবেশ

তাহিরপুর প্রতিনিধি
তাহিরপুর উপজেলার ট্যাকেরঘাট সীমন্তের ওপারে ভারতের বড়ছড়া এলাকায় বাংলাদেশী কয়লা শ্রমিক বশির মিয়াকে গণপিটুনিতে নিহত হওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বড়ছড়া এলসি জিরো পয়েন্টে বশির হত্যার বিচার চেয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে তাহিরপুর কয়লা   ট্রাক আনলোড শ্রমিক, বারকি শ্রমিক ও স্থানীয় এলাকাবাসী। তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের বড়ছড়া শুল্কষ্টেশনের ওপার থেকে আসা কয়লা বহনকারী ট্রাক চলাচল সকাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে।
এ ঘটনা নিয়ে দুই দেশের বিজিবি ও বিএসএফর সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে বৃহস্পতিবার সকালে পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও বিএসএফ পতাকা বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যা বন্ধের দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, ট্রাক আনলোড শ্রমিক সংগঠনের নেতা মস্তফা মিয়া, আনোয়ার হোসেন, কালাম, নজরুল, তাহের মিয়া, জামাল, হাবিব, তাজু মিয়া প্রমুখ।
প্রতিবাদ সমাবেশে নিহত বশির মিয়া স্ত্রী বলেন, তার স্বামী ভারতে তেল চুরি করতে নয়, পেটের দায়ে সীমান্তের ওপারে গিয়েছিল। তার ২ মেয়ে ১ ছেলে এতিম হয়েছে, ঘরে একবেলার খাবারও নেই। এসময় স্বামীর নির্মম হত্যাকান্ডে জড়িতদের বিচার দাবি করেন তিনি।’
উল্লেখ্য, গত রবিবার দিনগত মধ্য রাতে জীবিকার তাগিদে সীমান্তের ওপারে গেলে ওখানকার ভারতীয় ট্রাক ড্রাইবাররা ট্রাকের তেল চুরির সন্দেহে গণপিটুনিতে কয়লা শ্রমিক বশির মিয়া মারা যান। পরে বশির মিয়ার লাশ ভারতের মেঘালয় ষ্টেইটের শিলং নিয়ে ময়নাতদন্তের পর মঙ্গলবার সন্ধা ৭টা ৩৮ মিনিটে ভারতীয় পুলিশ বাংলাদেশী পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
সুনামগঞ্জ বিজিবির -২৮ বর্ডাররগার্ড ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর মাহবুব আলম জানান, বড়ছড়া শুল্ক ষ্টেশনে বিজিবি-বিএসএফ সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে বৃহস্পতিবার সকালে পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা ছিল কিন্তু রাতে হঠাৎ করে বিএসএফ বৈঠকে বাতিল করে দেয়ায় আর পতাকা বৈঠক হচ্ছে না।