ভালো থেকো ঠাম্মা

পাপ্পু সরকার
আমি তখন দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ি। কিসের একটা ছুটিতে বাড়িতে বেড়াতে গেলাম। তখন ফাল্গুন মাস। বাজারের আখরায় এই সময়ে কীর্তন হয়। সবার সঙ্গে আমিও দেখতে গিয়েছিলাম। আমার সঙ্গে ছিলে তুমি। কীর্তনকে কেন্দ্র করে বসা মেলায় অনেক গুলো ভ্রাম্যমাণ দোকান বসেছে। ভিতরে বসে কীর্তণ শুনছিলে তুমি, আর আমি; হেঁটে হেঁটে ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলো দেখছিলাম। আহা চোখে ভাসছে সেসব স্মৃতি।
সেখানে আইসক্রিম নিয়ে বসেছে এক দোকানি। কেনো জানি সবাই বকাবকি দিয়ে কিনচে আইসক্রিম। আমার খেতে ভীষণ ইচ্ছে হলো। দাম জানতে পারলাম ২ টাকা। আমার যে শুন্য পকেট। টাকা কড়ি নেই। তখন ঠাম্মা তোমার কথা মনে হলো। বায়না ধরলাম, আমার আইসক্রিম চাই। তোমার কাছেও তেমন ছিল না। কাপরের খুচ থেকে বের করলে কিছু পঁয়সা। বললে, নে ধর। বড্ড জ্বালাস। সত্যি ঠাম্মা খুব জ্বালিয়েছি তোমায়। আর কি পাবো তোমায়?
আইসক্রিমের দোকানে মানুষের ভিড় কম।কারণ আইসক্রিমের টুল নেই শুধু মালাই টা আছে আমি টাকা দিয়ে ওই টাই কিনে খেলাম। কেনো এতো দিন মনে হয়নি ফেলে আসা এসব স্মৃতি। তুমি নেই বলেই কি এসব স্মৃতি কড়া নাড়ছে বারবার।
প্রাণের ঠাম্মা,
বাড়িতে গেলে তোমার প্রশ্নের সীমা থাকতো নাহ! অমুক কেমন আছে? তমুক কি করছে? আরো কত কী! তোমার এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে আমার ভালো লাগতো নাহ। এড়িয়ে গিয়েছি। কোনো এরকম করতাম। না হয় আরো প্রশ্নের উত্তর দিতাম। আজ তুমি নেই কিন্তু এসব স্মৃতি আমায় ভীষণ নাড়াচ্ছে। হলো নাহ! তারপরও তুমি পিছন থেকে জিজ্ঞেস করতে ভাত খইচস? কি দিয়া খাইচস?
সারাদিন গ্রাম ঘুরে সবার খোঁজখবর নিতে আর শেষের দিকে যখন হাঁটতে পারতে না , বারান্দায় বসে থাকতে। ক্লান্ত শরীর। তবুও যাকে উঠান দিয়ে যেতে দেখতে, ডেকে জিজ্ঞাস করতে, ভালো আচস? কই যাস? আরও কত কি। কেউ যদি বলত এত কথা বল কেন? তুমি বলতে এটা আমার দায়িত্ব। আর এভাবেই জীবন তরী পার করে দিয়ে আমাদের রেখে চলে গেলে ঠাম্মা। আজ যে তোমায় ভীষণ মনে পড়ে। ভালো থেকো প্রিয় ঠাম্মা।
সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সুনামগঞ্জ জেলা সংসদ।