ইকবাল কাগজী
(পূর্ব প্রকাশের পর) সপ্তসিন্ধু হয়তো বা সে অশ্রুধারাই বক্ষে ধারণ করে রয়েছে।”(৮) সমাজপরিসরে বিদ্যমান এই ভয়াবহ সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিত বিশ্লেষণ করে যে-কারও স্বাভাবিকভাবেই মনে হতে পারে যে, প্রকৃতপ্রস্তাবে অর্থনীতিই ধর্মের প্রকৃত নিয়ন্ত্রক। মানুষ ধর্মকে নির্দ্বিধায় ব্যবহার করছে তার জাগতিক বৈষয়িক স্বার্থে, সম্পদ আহরণের লোভে। বৈধতা, ন্যায়, মানবিকতার কোনও বোধ সেখানে কাজ করছে না। কুরুক্ষেত্রযুদ্ধে নরহত্যায় নিমগ্নতাকে বলছে ধর্মযুদ্ধ, দখল করছে রাজ্যপাট, নারীকে ‘গনিমতের মাল’ গণ্য করে পরিণত করছে যৌনদাসীতে। এই দেশে ‘জল’কে হিন্দু শব্দ বলে বর্জন করা হলেও নারী হিন্দু ও সম্পত্তি হিন্দুর হলে বর্জনীয় নয়। ধর্মবতী হিন্দু নারীকে ধর্মহীন ভাবতে ও ধর্মহীন ‘জল’ শব্দটির গায়ে ধর্মাবলেপন করতে বাঙালি মুসলমানের সাত পাঁচ ভাবতে কিংবা কোনওরূপ যুক্তির ধার ধারতে হয় না এবং বাংলাদেশে যা হচ্ছে তার কর্তাকর্ম বদলে গিয়ে সম্পূর্ণ সমান কাণ্ড হচ্ছে প্রতিবেশী দেশ ভারতে। বাংলাদেশে মুসলিমরা যা করছে হিন্দুদের উপর ভারতে হিন্দুরা করছে মুসলমানদের উপর, কর্তাকর্মের বদলাবদলির রকমফের ভিন্ন অন্য কোনও ভিন্নতা নেই, যাকে বলে একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। চূড়ান্ত বিবেচনায় গান্ধি জিন্না দু’জনেরই এক খুড়ে মাথা কামানো, পরস্পর মাসতুতু ভাই। তফাৎ কেবল ধর্মের, হিন্দু মুসলমানের। তাও লোকদেখানো। আদতে দু’জনই পুঁঞ্জির পাচাটা গোলাম, কোনও ফাঁরাফাৎ (ফাঁরাক+তফাৎ) নেই।
বাঙালি মুসলমানের কাছে পানি ও জল এই শব্দদু’টির ধর্ম আছে কিন্তু নারী ও সম্পত্তিতে তাঁরা ধর্মধারণাকে আরোপ করেন না, এখানে তাঁরা বড় বেশি ধর্মনিরপেক্ষ, ঐহলৌকিক ও প্রবল পার্থিবতায় আক্রান্ত, যৎপরোনাস্তি স্বার্থপর ও লোভী কিংবা লম্পট। পানি মুসলিম আর জল নাকি হিন্দু। তাই বাঙালি মুসলমানরা পানি ব্যবহার করেন জল ব্যবহার করেন না। নামপার্থক্যের কারণে পানি বা জলের রাসায়নিক উপাদান কিন্তু মোটেও বদলে যায় না বরং পানি জল থাকে আর জল পানিই থাকে। ধর্মবোধ উপেক্ষা করে জল বা পানি যেমন জল বা পানিই থাকে তেমনি নারী নারীই থাকে, কোনও বদল হয় না, কেবল আরও বেশি রমণীয় (রমণযোগ্য অর্থে) হয়ে উঠে। সুকুমার রায় জলসম্পর্কিত পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র বর্ণনা করেছেন, “হাইড্রোজেনের দুই বাবাজি অক্সিজেনের এক/ নৃত্য করেন গলাগলি কা-খানা দেখ্/ আহ্লাদেতে এক্সা হয়ে গলে হলেন জল/ এই সুযোগে সুবোধ শিশু ‘শ্রীগোবিন্দ’ বল।”(৯) পানি ও জলের স্বকপোলকল্পিত ধর্মভেদ সৃষ্টির কারণে প্রকৃতিতে পানি বা জল তৈরির পারমাণবিক উপাদান বা উপাদানের নির্দিষ্ট গঠন বিন্যাস বদলে যায় না, জল ও পানি এই দুই নামে পদার্থ একই থাকে। বরং ধর্মবোধ থেকে যে-কোনও শব্দের উপর আরোপিত এইরূপ পৃথকীকরণ একধরনের নির্বুদ্ধিতার নামান্তর, কিংবা অবিমৃষ্যকারিতা প্রকাশের পরাকাষ্ঠা। কোনও কোনও বিশ্লেষকের অভিমতানুসারে, সমাজে বিদ্যমান এইরকম ‘নির্বুদ্ধিতা’ কিংবা ‘অবিমৃষ্যকারিতা’ প্রকৃতপ্রস্তাবে ‘অসচেতন সাম্প্রদায়িকতা’র নামান্তর।
চার পংক্তির একটি মদীয় কবিতা প্রতিস্থাপনের লোভ সংবরণ করতে পারছি না। “ভঙ্গদেশে আছে কেবল হিন্দু কিংবা মুসলমান,/ মানব হয় যে দানব হেথায় মানবতার গোরস্তান।/ দেশের ধর্ম দুর্নীতি তাই মনুষ্যত্বের নাই বালাই;/ রাষ্ট্র নামাজ নাই বা পড়ুক, তারও একটা ধর্ম চাই।”(১০) অর্থাৎ এ দেশে রাষ্ট্রের যেমন তেমনি ভাষারও একটি ধর্ম থাকা বাঞ্ছনীয়, কিন্তু হিন্দুসম্পত্তি ও হিন্দুনারীতে কোনও ধর্মারোপ করা অনিবার্যভাবে অবাঞ্ছনীয়। সম্পত্তি ও নারীর যদি ধর্ম থাকে তবে তো মুসলমানের দ্বারা হিন্দুসস্পত্তি ও হিন্দুনারীর দখল জায়েজ হবে না, হয়ে পড়বে ধর্মশাস্ত্রানুসারে বিলকুল হারাম বা অবৈধ। আমরা জানি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে পূর্বপাকিস্তানের নারীরা বিশেষ করে হিন্দু নারীরা গনিমতের (যুদ্ধক্ষেত্রে লুণ্ঠিত শত্রুসম্পত্তি) মাল হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল পাক হানাদারদের কাছে, যারা নিজেদেরকে পূর্বাঞ্চলের মানুষদের চেয়ে উত্তম মুসলমান বলে দাবি করতো। জল হিন্দুধর্মী শব্দ এই অপবাদে মুসলমানের জন্য বাকযন্ত্রে উৎপন্ন করার প্রয়াস পরিত্যাজ্য। কিন্তু হিন্দুসম্পত্তির ধর্ম হিন্দু নয় সুতরাং মুসলমানের জন্য পরিত্যাজ্য বা মালিকানা প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে অবৈধ নয় বরং তাকে অনায়াসে গ্রহণই কেবল নয়, চিরদিনের জন্য উপভোগ্য সামগ্রী করা বিধেয়, তাতে ধর্মনাশের লেশমাত্র আশঙ্কা নেই। অর্থাৎ এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী সাম্প্রদায়িক লোক প্রকারান্তরে প্রমাণ করতে চায় যে, মুসলমানরা হিন্দুসম্পত্তির ও হিন্দুনারীর রাহুরূপ রাক্ষস। প্রশ্ন হলো হিন্দুশব্দ যদি মুসলমানের জন্য পরিত্যাজ্য হয় তবে হিন্দুসম্পত্তি ও হিন্দুনারী কেন মুসলমানের জন্য পরিত্যাজ্য হবে না? কোরআন-হাদিসে উত্তর মিলবে কি না জানি না, তবে এই সব ধর্মওয়ালা রাজাকারজীবী মোনাফেকদের (ভ-দের) কাছে এর কোনও সদুত্তর মেলে না।
জল ও পানিকে উপনিহিতকরণকারী হিন্দু-মুসলিম উভয়ে ধর্মে ভিন্ন হলেও চরিত্রে এক (প্রকারান্তরে কোনও যুক্তিতেই কোনও তফাৎ নেই) : লোভী ও লম্পট। এদের ধর্মভিন্নতার একটাই অর্থ সৃষ্টিকর্তাকে (যদিও যে-কোনও ধর্মীয় যুক্তি অনুসারেই সৃষ্টিকর্তা এক ও অভিন্ন, জনে জনে পৃথক হতেই পারেন না) ভিন্ন ভিন্ন নামে ডাকা এবং এই ভিন্ন নামে ডাকার সুবাদে একে অন্যের সম্পদ ও নারী লুটের অধিকার লাভ। নির্দ্বিধায় বলা যায়, ধর্ম এদের কাছে এর বেশি কোনও তাৎপর্য বহন করে না। এবং নির্দ্বিধায় বলা যায়, এই তাৎপর্যটিতে মানবিকতার কোনও ছিটেফোঁটাও নেই।
কমলকুমার মজুমদারের ‘অন্তর্জলীযাত্রা’ উপন্যাসে বর্ণিত আর্থিক প্রাপ্তিযোগবিষয়ক একটি ঘটনায় পার্থিব সম্পদ গ্রহণ-বর্জন সংক্রান্ত একটি বিধানের অবতারণা আছে। পাকিস্তান আমলে প্রণীত এবং বাংলাদেশে একটু ভিন্ননামে অদ্যাবধি কার্যকর অর্পিত সম্পত্তি বিষয়ক সম্পত্তি গ্রহণ-বর্জনের ক্ষেত্রে অনুসৃত নীতিটি ‘অন্তর্জলীযাত্রা’ উপন্যাসের পার্থিব সম্পদ তথা চাড়ালের মালিকানাধীন রৌপ্যমুদ্রা গ্রহণে প্রস্তাবিত ও শেষে কার্যকর বিধানটিরই একটি বিকল্পমাত্র। ঘটনাটি সম্পর্কে সাহিত্যসমালোচক মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, “বিয়ে পড়ানোর পারিশ্রমিক বাবদ পুরোহিত যখন রৌপ্যমুদ্রা দাবি করে, তখন হয় কী, রৌপ্যমুদ্রাটি কনের বাবা লক্ষ্মীনারায়ণ অথবা অন্য কারো কাছে না থকলে হয় কী, অদূরে উপবিষ্ট বৈজু তা ব্রাহ্মণকে ধার দিতে চায়। আর মজাটা ঘটে তখনই। নীচুকূলোদ্ভব চাড়ালের কাছ থেকে রৌপ্যমুদ্রাটি ধার নিতে লক্ষ্মীনারায়ণের আত্মসম্মানে সাংঘাতিক লাগে; কিন্তু নগদ রৌপ্যমুদ্রা বলে কথা। পুরোহিতের ওই দামী মুদ্রাটি পকেটস্থ করতে বৈষ্ণব কৃষ্ণপ্রাণ সাধুভাষায় যে ফতোয়াটি জারি করে, তা কৌতুককরই- ‘শান্ত কণ্ঠে বৈষ্ণব কৃষ্ণপ্রাণ সহাস্যবদনে কহিলেন, ‘কন্যা সম্প্রদানকালে ক্রোধ পরিত্যাজ্য।’ বলিয়া ক্রমাগত সাধুভাষায় আপনার মনোভাব ব্যক্ত করিলেন, ‘যে কোন জাতি বর্ণের নিকট হইতে ধাতু তথা অর্থমুদ্রা গ্রহণযোগ্য, একমাত্র মুদ্রার ক্ষেত্রে জাতিবিচার চলে না […] এতদ্ব্যতীত শ্মশানে উচ্চ নীচ ভেদ নাই।’ মনে হইল কোন অকাট্য সংস্কৃত শ্লোকের ইহা সরল ভাষায় অনুবাদ।”(১১) মোদ্দাকথা জল ও পানি, স্নান ও গোসল, বাবু ও সাব ইত্যাদি শব্দের ক্ষেত্রে জাত-ধর্ম আরোপ করা যেতেই পারে কিন্তু স্বর্ণ, অর্থ, পার্থিব বস্তুগত সম্পদ ও নারীর ক্ষেত্রে কোনও ধর্ম-জাতপাত আরোপ নৈবচ। এক শ্রেণির বাঙালি মুসলমানের কাছে বিশ্বসংসারে ভোগযোগ্য সমস্ত সম্পদই গনিমতের মাল, তেমনি এক শ্রেণির হিন্দুর কাছেও বিয়ষটি তথৈবচ।
অর্থ সকল পার্থিব সম্পদের তুল্যাঙ্ক। বলা হয়, অর্থনীতি মানুষের জীবনের চলিকাশক্তি। এ সম্পর্কে কার্ল মার্কস বলেছেন, “বৈষয়িক জীবনের উৎপাদন-পদ্ধতিই সাধারণভাবে মানুষের সামাজিক, রাজনৈতিক, ও বুদ্ধিবৃত্তিক জীবন-প্রক্রিয়াকে নির্ধারণ করে।”(১২) এমন কি নারী-পুরুষের শরীর ও মেধাও অর্থরূপ এই তুল্যাঙ্কের দ্বারা বিনিময়যোগ্য। স্মার্তব্য যে, পাকহানাদারদের ক্যাম্পে নারী উপনিহিতকরণের ভয় দেখিয়ে ১৯৭১ সালে রাজাকাররা যে-বাড়িতে যুবতী (আসলে রমণযোগ্য) নারী ছিল সে-বাড়ির মালিকের কাছ থেকে বেশি পরিমাণে ‘চান্দা’ (দেয় মূল্য) আদায় করতো। অর্থবিজ্ঞানের নিয়মানুসারে জগতের মূর্তবিমূর্ত সকল কীছুই পণ্য হবার যোগ্যতা রাখে। মানুষের মনে, বস্তু বা অবস্তু যাই হোক, তার উপযোগিতা তৈরি হলেই হলো। অর্থ (অন্তর্জলী যাত্রার পুরোহিত যে-দ্রব্যটিকে ‘অর্থমুদ্রা’ বলে অভিহিত করেন) সকল আদর্শ-মতাদর্শের, এমনকি ধর্মাদর্শেরও, উর্ধ্বে মান্য মনুষ্যসৃষ্ট কিন্তু মানুষের জীবনে একান্ত অপরিহার্য এক মূর্তনির্দিষ্ট প্রপঞ্চ, যা ছাড়া জীবন চলে না, একেবারেই অচল হয়ে পড়ে। ধর্ম বা ধর্মের নামে সন্ত্রাস সেও সেই একই অর্থের নিয়ন্ত্রণাধীন। অর্থনীতিতে ধর্মাদর্শ পৈতা পায় না। ইসলামে লাভ বা মুনাফা অবৈধ নয় কিন্তু লাভের একটি ভিন্নরূপ সুদ অবৈধ, যে সুদ ছাড়া বর্তমান পুঁজিবাদী বিশ্ব-আর্থব্যবস্থা একবারেই অচল, তথা অচল বিশ্বমানবের জীবন। ঠিক যেমন হিন্দু গোমাংস ভক্ষণ করে না, কিন্তু গাভীদুগ্ধ পানে কোনও বাধা নেই। এই সুদ-অবৈধতার বিষয়টা অনেকটা জল ও পানির মধ্যে মুসলমানদের কাছে জল আর হিন্দুদের কাছে পানির অবৈধতার মতো। ভাষায় ব্যবহৃত ‘বিমূর্ত শব্দ’সমূহ সমাজে তুল্যাঙ্কের স্বীকৃতি পায় নি যেমন ‘মূর্ত অর্থ বা মুদ্রা’ পেয়েছে। অর্থ বা মুদ্রার উপর ধর্মারোপ করা না হলেও শব্দের উপর ধর্মারোপ করা হয়েছে। অর্থাৎ অর্থকে ধর্মাদর্শের নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব না হলেও শব্দকে ধর্মের নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। যে-কোনও পার্থিব মূর্তবিমূর্ত সম্পদ প্রকৃতপ্রস্তাবে অর্থের পুঁঞ্জিভূত রূপ মাত্র অর্থাৎ যে-কোনও মুহূর্তে তা নগদ অর্থরূপ পরিগ্রহ করতে পারে। তার সঙ্গে ধর্মের অনুশাসন যুক্ত করে নগদ অর্থলাভ থেকে বঞ্চিত হওয়া কোনও পরম ধার্মিকেরও বাঞ্ছিত নয়। কারণ চূড়ান্ত অর্থে পরম ধার্মিকের জীবনও নিয়ন্ত্রণ করে অর্থনীতি। সুতরাং অর্থের ধর্ম না থাকলেও শব্দের ধর্ম থাকতেই পারে। হাসন রাজা যখন বলেন, “হিন্দুয়ে বলে তোমায় রাধা, আমি বলি খোদা। রাধা বলিয়া ডাকিলে, মুল্লা মুন্সিয়ে দেয় বাধা ॥ হাসন রাজা বলে আমি না রাখিব জুদা। মুল্লা মুন্সির কথা যত সকলই বেহুদা ॥”(১৩) তখন ‘রাধা’ ও ‘খোদা’ শব্দপ্রতীক দু’টি একার্থতায় পর্যবশিত হয়ে যেতে পারে, কোনও বাধা থাকে না। কিন্তু লক্ষ্য করার বিষয়, ‘রাধা’ ও ‘খোদা’ শব্দপ্রতীক দু’টি একজন ভ- ধার্মিকের কাছে কখনওই একার্থবোধকতা লাভ করে না, বরং তার চেতনায় শব্দ দু’টিতে পৃথক পৃথক ধর্মাভিজ্ঞান সাঁটাই থাকে। কোনও ধার্মিক পণ্যের তুল্যাঙ্ক মুদ্রাকে বিধর্মী আংরাখা পরিয়ে পরিহার করতে কোনও অবস্থাতেই সম্মত হবেন না, কারণ তা হলে তাঁর জীবনই নির্জীবনে পর্যবশিত হবে, তাঁর জীবন বলে কীছু থাকবে না। যেহেতু অর্থনীতি ধার্মিকের জীবনেরও চালিকাশক্তি এবং স্থানকালপাত্রভেদে ‘প্রকাশ্য গোপন’ সত্য এই যে, বিশেষ শ্রেণির ধার্মিকেরা ধর্মব্যবসায় সবিশেষ পারদরঙ্গম।
শব্দের শরীরে তথা ভাষার শরীরে এই ধর্মাদর্শের প্রলেপারোপণের সঙ্গত কোনও কারণ বিখ্যাত কথাশিল্পী আবুল বাশার খোঁজে পান না। এখানে প্রসঙ্গক্রমে এ সংক্রান্ত তাঁর একটি আলাপচারিতার অংশবিশেষ, যদিও কীছুটা দীর্ঘ তবু, উদ্ধৃত করার লোভ সামলাতে পারছি না, যেহেতু তার আলাপচারিতাটি যে-কারও পক্ষে কৌতুহলোদ্দীপক হয়ে উঠার পারদরঙ্গমতা ধারণ করে।
“তাপস: কিন্তু সাধারণ মানুষের ভেতরে এই ধারণা বদ্ধমূল যে, বাবা শব্দটা হিন্দু শব্দÑ সংস্কৃত থেকে উঠে আসা… আবার পানি শব্দটাকে মনে করে নিপাট আরবি শব্দ …
আবুল বাশার: হ্যাঁ, ব্যাপারটা তাহলে ভেবে দেখুন ? পানি শব্দটা একেবারেই হিন্দি, মানে প্রাকৃত হিন্দি যাকে বলে। পানীয় শব্দটা সংস্কৃত; কিন্তু হিন্দি বলয়ে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে জলকে পানি বলছে; অথচ পশ্চিম বাংলার হিন্দুরা জল ও মুসলিমরা পানি বলছে এবং কী অদ্ভুত, হিন্দুরা বাবা বলছে মুসলিমরা আব্বা বলছে। এ দুটো শব্দের মধ্যে কোনো তফাতই নেই। ‘পানি’ যেমন আরবি ফার্সি থেকে উঠে আসা শব্দ নয় ‘বাবা’ও সংস্কৃতজাত শব্দ নয়- এমনকি ‘কাকা’ শব্দও, অথচ…
তাপস: ভাষা সংক্রান্ত এ জাতীয় ধর্মগত বিভেদের মূলে প্রকৃত কারণটা কী বলে মনে করেন?
আবুল বাশার: এসব একেবারে চরম অজ্ঞতা থেকে; এবং এর থেকে দুঃখজনক ব্যাপার আর কী হতে পারে? এর থেকে বুঝা যায় বাঙালিরা ভাষা-সংস্কৃত সচেতন নয়।
তাপস: এই যে দুটো সম্প্রদায় কিছু শব্দ নিজস্ব ধর্মগত শব্দ হিসেবে সযত্নে আলাদাভাবে ব্যবহার ও লালন করছে- আপনার কি মনে হয় এর পেছনে একটি কারণ কাজ করে… স্বাতন্ত্রিক ভাষা-সাংস্কৃতিক জাত্যাভিমান এবং… গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন যেটা- এসব আচরণের পেছনে কি সূক্ষ্ম সাম্প্রদায়িক মনোভাব কাজ করে বলে মনে করেন ?
আবুল বাশার: না, সাম্প্রদায়িকতার একটা সচেতন দিক আছে, একটা অসচেতন দিক আছে। এসব হলো, না জেনে সাম্প্রদায়িক মনোভাব লালন করা। জানেই না এরা যে, ব্যাপারটা সাম্প্রদায়িক হয়ে উঠছে। যেমন বাবা হিন্দুরা বলে, জল হিন্দুরা বলে; সুতরাং আমি মুসলিম হলে বাবা এবং জল বলব না। আবার হিন্দুরা ভাবছে, বাবা শব্দটা তাদের নিজস্ব ধর্মগত শব্দ এবং পানি শব্দটা মুসলমানদের একচেটিয়া- যা সম্পূর্ণ অজ্ঞতাপ্রসূত। যেমন আমি বলি- এও এক হাস্যকর ব্যাপার- অতি শিক্ষিত লোক, এত শিক্ষিত, যাদের লেখা হরদম আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে পড়ছি- এরকম একজন বিদ্যান সাংবাদিক- আমার অফিসেরই- হঠাৎ আমায় বলছেন- ‘বাশার, আপনাকে বাবু বলব নাকি বাশার সাহেব বলব? আমি বললাম- দেখুন, ‘বাবু’টাও ফার্সি ‘সাহেব’টাও ফার্সি। কী করবেন এবার ভেবে দেখুন।
তাপস: এটা তো অদ্ভুত ব্যাপারÑ আপনার ক্ষেত্রে অন্তত, বোদ্ধামহলের এমন মাথাব্যথা কেন থাকবে যে আপনাকে নিপাট মুসলমানি শব্দ দিয়েই সম্বোধন করতে হবে?
আবুল বাশার: সেটা তো বলছি- ভাষাকে ঘিরে যে সাম্প্রদায়িক বোধ তা অদ্ভুত হাস্যকর এক অজ্ঞতা থেকে উঠে আসা। বাশার বাবু বললে কেউ হিন্দু হয়ে যায় না; আবার ধরুন তাপস সাহেব বললেও কেউ মুসলিম হয়ে যায় না। বাবু শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হলোÑ ‘বু’ মানে গন্ধ, ‘বা’ মানে সহিত; আর্থাৎ গন্ধের সহিত অর্থাৎ যে গন্ধ মাখে, সে-ই হচ্ছে ‘বাবু’। সেজন্য কলকাতার বাবু মানে হলো- সুগন্ধিত হয়ে যে রাস্তায় বেরোয়- তার থেকে বাবু সম্প্রদায়।
তাপস: অর্থাৎ আমাদের অজ্ঞতা থেকে শব্দটাকে আমরা যেমন চিনি বা ব্যবহার করিÑ ভাষাটা তেমন করেই চলে?
অবুল বাশার: নিশ্চয়ই। এবং এসব করে কারা ? শিক্ষিত লোকেরাই। শিক্ষিত লোকেরা তাদের অজ্ঞতা থেকে ভাষাটাকে যেমন মনে করছে- ভাষাটা তা-ই হয়ে উঠছে। বাবু সম্প্রদায় কলকাতায় জন্মেছিল- তারা ছিল জমিদার। জমিদারের ভিতর থেকেই তথাকথিত অভিজাত হিন্দু জমিদারদের বাবু বলা হতো। আর বাংলাভাষার সঙ্গে তো বটেই, ‘বাংলা’ ভাষার ভেতরেও ফার্সি আছে। আসলে বাংলার ‘প্রাকৃত’ রূপটা যখন গড়ে উঠছে, তখনই আরবি-ফার্সি শব্দসমূহ ঢুকে পড়েছে- ঐতিহাসিক কারণেই ঢুকে পড়েছে। ঢুকে পড়ে বাংলার মজ্জার মধ্যে আরবি-ফার্সি-তুর্কি শব্দ তাদের জাগয়টা দখল করে নিয়েই বাংলার ‘প্রাকৃত’ অবয়বটা গঠন করেছে। অতএব, ইচ্ছাকৃতভাবে আরবি-ফার্সি একটা ভালো শব্দ কোনো লেখক ব্যবহার করবেন এবং তার মধ্যে যদি কেউ সাম্প্রদায়িকতার গন্ধ খুঁজতে চেষ্টা করেন- সেটা বড় ভুল হবে। আমি যেমন তামাম শব্দটা আমার লেখায় অজস্রবার ব্যবহার করেছি। সব, সমস্ত- এগুলো বারবার ব্যবহৃত হয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে- সে জন্য আমি তামাম, তাবৎ শব্দ ব্যবহার করি। এগুলো হলোÑ শব্দের যে জীর্ণতা, তা থেকে বাঁচার একটা রাস্তা।”(১৪)
ক্ষমা করবেন, উদ্ধৃতিটা একটু দীর্ঘ হয়ে গেলো। সে যা’-ই হোক, এই দীর্ঘ উদ্ধৃতি ভাষাসংস্কৃতি বিষয়ে প্রচলিত সাম্প্রদায়িক ভণ্ডামির (ভণ্ডামি বটে, কিন্তু ভীষণ তুলনারহিত অবিমৃষ্যকর) সঙ্গে তৎসংক্রান্ত বিচ্ছিন্নতার প্রপঞ্চটিকে হৃদয়ঙ্গম করতে কীছুটা হলেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি।
এবার ভাবুন তো বাঙালি মুসলমানদের একটি বিশেষ শ্রেণি মাতৃভাষা নিয়ে কী করছেন আর কী কী করে এসেছেন? অতীত কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে সহজেই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, বিশেষ এই শ্রেণিটি নিজেদের অজ্ঞতা, কুসংস্কার, কূপমন্ডুকতা, সাম্প্রদায়িক উগ্রতা, অসহনশীলতা, মধ্যপ্রাচ্য সংস্কৃতির প্রতি অযৌক্তিক মোহমুগ্ধতা, আনুগত্য বা দাসত্ব, বুর্জোয়া পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতিক স্বার্থপরতা ইত্যাদিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত থেকে প্রকৃতপক্ষে জাতিগত আত্মপরিচয় বিকৃতি ও বিলুপ্তির পথ অতিক্রমণে এখনও ক্লান্তিহীন অভিযাত্রী। একটি ভাষাভিত্তিক জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ চার দশকাধিক কাল অতিবাহিতের পর বাঙালি মুসলমানদের কেউ কেউ এখনও শব্দের গায়ে অর্থহীন ধর্মপরিচয় লেপ্টে দিয়ে শব্দকে স্বমাতৃভাষার অন্য ভাষাশরিকের ভাষাভা-ারে উপন্যস্ত করে (সোজা কথায় গছিয়ে দিয়ে বা হস্তান্তর করে) নিজেকে ভাষানিঃস্ব করে তোলার আহাম্মকি কেবল নয় বিশ্ববিরল বিস্ময়কর এক অবিমৃষ্যকর বিচ্ছিন্নাতায় নিমগ্ন আছেন। অপরদিকে উপনিহিত এই শব্দগুলোকে তাঁরা তাঁদের যাপিত জীবনেই প্রতিনিয়ত প্রত্যাহার করতে অপারগ, অর্থাৎ স্বজীবনেই এই ভাষা-উপনিহিতকরণ প্রক্রিয়াটি কার্যত অসম্ভব জেনেও সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টির স্বার্থে অপকর্মটি অব্যাহত রাখতে পছন্দ করেন। একেই বলে জাতিগত নির্বুদ্ধিতার চূড়ান্ত। ভাবা যায় না।
স্বধর্মবোধে অযৌক্তিকভাবে নিহিত ও অর্জিত এই নির্বোধ দ্বিচারিতা কীছু কীছু বাঙালি মুসলমান তাঁদের স্বভাব থেকে তাড়াতে পারছেন না, সেটি মুদ্রাদোষ কিংবা বলা যায়, বাতিকে পরিণত হয়েছে। যদিও তাঁদের সমক্ষে আরবি আল্লা ও সালাতের ক্ষেত্রে ফারসি খোদা ও নামাজ ব্যবহারের ইরানি ঐতিহ্যে ভারতীয় ইসলামি ধর্মবোধও নির্দ্বিধায় স্নাত হওয়ার ঐতিহাসিক উদাহরণ দুর্লক্ষ্য নয়। বাংলাদেশে ভাষাশরিকের যে ক্ষুদ্রাংশ বা সংখ্যালঘু হিন্দু কিংবা বৌদ্ধ সম্প্রদায় আছে, তাদের পার্থিববৈভব হরণ করে সম্পদশালী হবার লোভবুদ্ধি বাঙালি মুসলমানের যতটা আছে, ভাষাসম্পদ আহরণ করে ভাষা-সাংস্কৃতিক সম্পদে ঐশ্বর্যশীল হবার সদিচ্ছা তার শতাংশের একাংশও নেই। বরং সামগ্রিক অবস্থাটা অত্যন্ত শোচনীয়।
বাঙালি মুসলমানের এই ভাষাসাংস্কৃতিক অনুশীলন একদিকে তার শারীরিক ক্ষুধার তীব্রতা (শত্রুসম্পত্তি দখল, হিন্দু নারীকে গনিমতের মাল গণ্য করা কিংবা ধর্ষণগণধর্ষণ প্রবণতার প্রাবল্য) এবং অন্যদিকে তার সাংস্কৃতিক অপুষ্টিকেই (মধ্যপ্রাচ্যসংস্কৃতিপ্রীতি, মাতৃভাষার উপনিহিতকরণ, শেরে বাংলার পারিবারিক পর্যায়ে উর্দু চর্চা কিংবা বাংলা নববর্ষবরণকে অনৈসলামিক বলে ফতোয়া প্রদান ইত্যাদি) প্রতিপন্ন ও প্রতিভাত করে। এইরকম একটা অদ্ভুত ভাষাসাংস্কৃতিক বাস্তবতা সাধারণ জনগণের জীবনোন্নয়নের পথে কিংবা আর্থনীতিক মুক্তি অর্জনের পথে একটি দুর্লঙ্ঘ্য প্রতিবন্ধকতার বেশি কীছু নয়। এইরূপ সমাজমানসতাই সমাজবিদ্যামতে অন্ধতা (মতান্ধতা) বলে পরিচিত। বিভিন্ন বিষয় নির্বিশেষে যে-মতান্ধতা সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিস্তৃত হয়ে থাকে, এমন মতান্ধতার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে ‘লেখাপড়া করে যে গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে’ প্রবচনটি। মতান্ধতার আকারে সমাজের গভীরে প্রোথিত এই কুসংস্কার (সামাজিক ও রাজনীতিক উভয় দিক থেকে) জনগণের কোনও মঙ্গলসাধন করে না, বরং উল্টো শাসক ও শোষকের উপকার করে। আরও সুনির্দিষ্ট করে বললে বলতে হয়, সমাজে শাসকগোষ্ঠীর উত্তরাধিকারসূত্রে জায়মান বিভিন্ন প্রকার অনৈতিকতা, অবৈধ সুযোগ, শোষণ, অবদমন, উৎপাদনের উপকরণের উপর অন্যায় অধিকার ইত্যাদি সবরকমের প্রতিবন্ধকতার নাগপাশ থেকে উৎপাদন সম্পর্ককে (সামাজিক সম্পর্ককে) মুক্ত করে না বরং আরও সুদৃঢ় করে কিংবা অর্থনীতির লাগাম শোষকশাসক শ্রেণির হাতে তোলে দেয়, শাসিতের উপর শাসকের শোষণনির্যাতনকে দীর্ঘস্থায়ী করে মানবিকতার মুখে উপস্থ উচিয়ে পেচ্ছাব করে। সমাজে বিদ্যমান এইরূপ অবিমৃষ্যকর অনৈতিকতার একটি উদাহরণ দিচ্ছি। কতোটুকু জুৎসই হবে জানি না, সে বিবেচনা রইলো পাঠকের জিম্মায়। দুর্নীতি নিয়ে লিখতে গিয়ে লেখক স্বপন আদনান সমাজমানসতার বিচিত্র চিত্র এঁকেছেন এইভাবে, “প্রশ্নটা উঠেছিলো গ্রামের কোন নেতাকে তারা সমর্থন দেবে তা নিয়ে। একদিকে ছিলো একজন নিষ্ঠাবান গ্রামপ্রধান যার সততা সম্পর্কে কোনো সংশয় ছিলো না। অন্যদিকে ছিলো সোনার দাঁত বাঁধানো রিলিফ কমিটির চেয়ারম্যান, যাকে সবাই আড়ালে ‘কম্বলচোর’ বলে ডাকতো। গ্রামের এই দরিদ্র মানুষদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মোহ ছিলো না। তারা সৎ সমাজপ্রধানের প্রশংসা করতো, কিন্তু নির্দ্বিধায় সমর্থন দিতো কম্বলচোরকে। তাদের যুক্তি ছিল যে রিলিফ কমিটির চেয়ারম্যান আগে নিজের পেট ভরালেও অবশিষ্টাংশের ছিটেফোঁটা তাদেরকে দিতে পারবে। কিন্তু সৎ লোকটি কোনও কাজেই আসবে না। সে বড় বড় কথা বলবে কিন্তু দরিদ্র মানুষকে কিছুই দিতে পারবে না। কাজেই এই কঠিন, নির্মম পৃথিবীতে, সততা কোনোমতেই সর্বোত্তম নীতি ছিল না।” (১৫) সুবচন নির্বাসনের গল্প জানা আছে, এবার জানা গেলো নীতিনির্বাসনের গল্প। দার্শনিক অ্যালেন বাদিয়্যু বলেছেন, “অশুভ হচ্ছে বিশেষায়িত ব্যক্তিস্বার্থের চাপে সত্যের পথ থেকে বিচ্যুতি।”(১৬) স্বপন আদনান বর্ণিত গ্রামবাসীর ক্ষেত্রে বাদিয়্যু কথিত পদ্ধতিতে, সত্যের পথ থেকে বিচ্যুতি ঘটেছে। এখানে একেবারে আক্ষরিক অর্থেই প্রতিপন্ন পদ্ধতিটা হলো আর্থিক প্রাপ্তিযোগ, লেখকের ভাষ্যমতে ‘অবশিষ্টাংশের ছিটেফোঁটা’। যেটা মুক্তবাজার অর্থনীতির তত্ত্বানুসারে ‘ঝুড়িতত্ত্ব’ বলে প্রথিত। ঝুড়িতে থাকা কমলা বুর্জোয়ার আর ঝুড়ি উপচে পড়া কমলা প্রলেতারিয়েতের। ‘উপচে পড়া’ আর ‘ছিটেফোঁটা’ এখানে প্রতীকী অর্থে সমার্থক।
শেষ পর্যন্ত বলতেই হচ্ছে যে, জগতের মঙ্গল যা’ কীছু থেকে সম্ভব সেসব কীছুরই নির্বাসন কিংবা বিচ্ছিন্নকরণ অব্যাহত আছে। সমাজের এক শ্রেণির মানুষ স্বীয় শ্রেণি স্বার্থে উজ্জীবিত হয়ে সকল সামাজিক হিতৈষাকে প্রতিনিয়ত হনন করে চলেছে। সত্যিকার অর্থেই শুভহন্তারক এক কালে এখন মানুষের বাস। হিতৈষা থেকে মানুষের এও এক বিচ্ছিন্নতা, বিচ্ছিন্নতা মঙ্গলাকাক্সক্ষী মানবিকতা থেকে ।
বাংলাভাষা নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত একজন এক নিবন্ধে লিখেছেন, “আজকাল যারা ভালো ইংরেজি পারে, তাদের অনেককেই দেখি, আরও সুনিপুণ ও দক্ষ তারা হিন্দিতে, অথচ বাংলায় তারা দৃষ্টিকটুভাবে দুর্বল। এতে আমরা অপমানিত হই। (চলবে)


