আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়ন কমপ্লেক্স নির্মাণে কোনো উদ্যোগ নেই। কমপ্লেক্স না থাকায় যুগ যুগ ধরে ভাড়া ঘরে চলে আসছে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম। এই কারণে ইউনিয়নের নাগরিকগণ সেবা গ্রহণে নানা ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছেন। ইউনিয়ন নাগরিকদের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে আসবাবপত্র সংরক্ষণ ও নাগরিকদের বসার স্থান সংকুলান নিয়ে নানা সমস্যায় আছেন ইউপি সচিব ও উদ্যোক্তারা। তাই কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবি ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের।
সুরমা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানের নাগরিকেরা হালুয়ারঘাট এলাকায় ভাড়াকৃত অস্থায়ী কার্যালয়ে এসে সেবা গ্রহণ করে থাকেন। কিন্তু ভাড়া ঘরে থাকা এই ইউপি কার্যালয়ে সংকীর্ণ সিঁড়ি বেয়ে উঠানামা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। নারী ও বয়স্কদের এই সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা করা খুবই কষ্টকর। সেবা গ্রহণ করতে আসা মানুষজনের বসার নেই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। আসবাবপত্র রাখতেও নেই শৃংখলা। চেয়ার, টেবিল, কম্পিউটার ও আসবাবপত্র সব সময় অগোছালো রেখেই কাজ করতে হয়। এতে কাজের অগ্রগতি অনেকটা বাধার সম্মুখিন হয়। যখন তখন কাগজপত্র খুঁজে না পাওয়ায় সেবা গ্রহিতারাও বিরক্ত হন।
একাধিক সেবা গ্রহিতা জানান, জেলার সকল স্থানে ভাল, শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ চেয়ারম্যানগণ তাদের এলাকায় নি:স্বার্থভাবে ত্যাগ শিকার করে ইউনিয়ন কমপ্লেক্স নির্মাণ করার ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু আমাদের ইউনিয়নে এখনও নির্বাচিতরা উদ্যোগ নিচ্ছেন না। কমপ্লেক্স নির্মাণ না হওয়ায় আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। আমরা কমপ্লেক্স নির্মাণ চাই।
সেবা গ্রহিতা প্রবীণ আব্দুল বাছিত বলেন, জন্ম নিবন্ধন করতে হালুয়ারঘাট ইউনিয়ন অফিসে যাই। সংকীর্ণ সিঁড়ি বেয়ে উঠতে পারি না। একজনে হাতে ধরে ধরে তুলেছে। অফিসে কেউ নেই, আছে চৌকিদার। কিছুক্ষণ পর আসলেন উদ্যোগক্তা বললেন বসতে। কিন্তু বসারও জায়গা নেই। দাঁড়িয়ে থেকে কাজ সেরে চলে আসলাম। আমাদের ভোগান্তি কমিয়ে আসতে ইউনিয়ন কমপ্লেক্স খুবই দরকার।
সেবা গ্রহিতা সহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর আগের চেয়ারম্যানগণ ওই ভাড়া ঘরেই অফিস করেছেন। কমপ্লেক্স নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেন না তারা। নির্বাচনের আগে ঠিকই বলে বেড়ান কমপ্লেক্স করার ব্যবস্থা করবেন। পরে আর খবর থাকে না। এবার একজন অভিজ্ঞ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আগেও ছিলেন। এবারও কমপ্লেক্স নির্মাণে ব্যবস্থা করার দাবি আমাদের।
ইউপি উদ্যোগক্তা আক্তার হোসেন বলেন, একটি ইউনিয়ন কমপ্লেক্স নির্মাণ খুবই জরুরি প্রয়োজন। প্রতিটি কাজের অগ্রগতি বাড়বে। আমাদেরও আসবাবপত্র রাখতে নিরাপদ ও সুশৃংখল হবে। সকল কার্যক্রম সুচারুরূপে করা যাবে। মানুষ সেবা নিতে এসে বসার সুযোগ পাবেন।
সুরমা ইউপি সচিব আবদুল জব্বার বলেন, ইউনিয়ন কমপ্লেক্স হলে কার্যক্রম পরিচালনা করতে সুবিধা। হালুয়ারঘাটের অফিসে কাজ করা যায় কিন্তু আসবাবপত্র রাখতে, শৃংখলায় কাজ করে দিতে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। সেবা গ্রহিতাগণ আসলে বসার সুযোগ দেয়া যায় না। এতে মানুষ আমাদের উপর বিরক্ত হন। এই সমস্যা সমাধানে নির্বাচিতগণ উদ্যোগ নেয়া উচিত।
সুরমা ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুছ সাত্তার বলেন, আমার দায়িত্ব পালনকালে হালুয়ারঘাট বাজারের নিকটে বেলাবরহাটীর বাইপাস সড়কের পাশে ৫ জনে মিলে পঁচিশ শতাংশ ভূমি সরকারের নামে কবুলিয়ত সম্পাদন করে দেয়া হয়েছে। প্রায় ২ বছর আগে নির্বাচিত ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে এক সভায় রেজুলেশন করে এই জায়গা নির্ধারণ করা হয়। পরে সরকারের নামে দেয়া হয়। আগামীতে এই জায়গায় সুরমা ইউনিয়ন কমপ্লেক্স নির্মাণ হবে এটাই প্রত্যাশা।
সুনামগঞ্জ উত্তর সুরমা উন্নয়ন পরিষদের আহ্বায়ক মো. আব্দুর রব বলেন, আমাদের উত্তর সুরমা এলাকায় ৩টি ইউনিয়ন রয়েছে। ২টিতে কমপ্লেক্স নির্মাণ হয়েছে। সুরমায় এখনও হয়নি। শুনেছি জায়গা নির্ধারণ হয়েছে। জায়গাও দেয়া হয়েছে সরকারের নামে। আশাকরি এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে এবং সেবা গ্রহিতাদের দুর্ভোগ কমিয়ে আনতে কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নিবেন দায়িত্বশীলগণ।


