ইউপি নির্বাচনে তাহিরপুরের শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নে এক জামায়াত নেতার ভাতিজার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে নানা ধরণের তৎপরতার উপর গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। একটি ওয়ার্ড কমিটির আওয়ামী নেতৃবৃন্দ তাকে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। খবর হিসাবে এটি খুব চমক জাগানিয়া নয়। আওয়ামী লীগে জামায়াত বা ভিন্ন আদর্শের ব্যক্তিদের আত্তীকরণের প্রক্রিয়া পুরো দেশজুড়েই চলে আসছে এবং বলাবাহুল্য দলীয় দায়িত্বশীলদের জ্ঞাতসারেই এই ঘটনাগুলো ঘটছে। গঠনের সময় বা স্বাধীনতা যুদ্ধকালে অথবা তৎপরবর্তীতে আওয়ামী লীগ যে চেতনা আদর্শকে লালন করত, আজকের আওয়ামী লীগ সেই জায়গা থেকে কিছুটা সরে এসেছে বলেই সকলে মনে করেন। দলটি মানুষের মননশীলতা তৈরির কঠিন কাজ ত্যাগ করে ¯্রােতের প্রবাহে চলার নীতি অবলম্বন করেছে বলে একটি ধারণা সক্রিয়। এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করা যেতে পারে। ক্ষমতাকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে আদর্শিক জায়গায় কতটা আপোস করতে পারে তারা এ নিয়েও আলোচনার শেষ নেই । তাহিরপুরে জামায়াত নেতার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টার সংবাদটি ওই নিরিখেই বিবেচনাযোগ্য। বলা যেতে পারে নির্বাচনে জিতার জন্য সুনামগঞ্জে এখন আর কেউ ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের জন্য প্রাণান্ত প্রচেষ্টায় নিয়োজিত হবে না। নৌকা প্রতীক নিয়ে বিপর্যয়ের যে অবস্থা শেষ হওয়া ইউপি নির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে তাতে এটি মনে করার কোন কারণ নেই যে ওই জামায়াত নেতার ভাতিজা চেয়ারম্যান পদে জিতে আসার জন্য চেষ্টাটি করছেন। বরং এ কথা বললে ভুল হবে না যে, আওয়ামী লীগে আত্তীকৃত হয়ে নিজেকে রক্ষা এবং আওয়ামী লীগকে আদর্শ-বিচ্যুত করার যে কৌশলী প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এটি তারই অংশবিশেষ।
তৃণমূলে আওয়ামী লীগকে এখন আর সিরিয়াস দেখা যায় না। অনেকটা ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন তৃণমূলের নেতারা। এত বিশাল পরাজয় তাঁদের কোন ধরণের আত্মোপলব্ধি তৈরি করতে পেরেছে বলে আপাত দৃষ্টিতে দেখা যায় না। একবারের ভুল থেকে দ্বিতীয়বার সংশোধনের কোন অনুশীলনও লক্ষণীয় নয়। এই হালকা মেজাজের ফলে দল, আদর্শ ও দেশের কী পরিমাণ ক্ষতি হতে পারে সেটি ভেবে দলের বাইরের কিন্তু সমআদর্শিক লোকজন শঙ্কাপীড়িত হয়ে আছেন। তারা মনে করছেন প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আওয়ামী লীগ অপরাপর দলগুলোর চাইতে অনেকটা অগ্রসর চিন্তা-চেতনার অধিকারী। তাই এই ব্যবস্থার আওতায় ক্ষমতায় আওয়ামী লীগের অবস্থানই দেশ ও মানুষের জন্য নিরাপদ। কিন্তু দলের তৃণমূল নেতৃত্ব এটি বুঝতে পারছেন না।
দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে দলে এক ধরণের শৈথিল্য তৈরি হয়। রাজনৈতিক নেতৃত্ব তখন ওই শিথিলতা কাটিয়ে উঠতে দিকনির্দেশনা দিয়ে সাংগঠনিক চর্চাকে গতিশীল করেন। মূল আদর্শ থেকে সরে গিয়ে অতিবৃহৎ দলও টিকে থাকতে পারে না। স্বাতন্ত্রের কারণেই দলবিশেষের ভিন্ন ভিন্ন ভাবমূর্তি গড়ে উঠে। দেশের স্বাধীনতার দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য আওয়ামী লীগের যে বিশেষ ভাবমূর্তি তৈরি এবং দলের ত্যাগ ও সংগ্রামের যে মহিমান্বিত সঞ্চয় গড়ে উঠেছে, আওয়ামী লীগকে সযতেœ তার লালন ও পরিচর্যা করতে হবে। ক্ষমতার বাইরের দলগুলো অনবরত চেষ্টা করবে তাদের আদর্শিক শুদ্ধতাকে কলুষিত করতে। বিরোধী সুবিধাবাদী কেউ কেউ নিজেকে রক্ষা করতেও ক্ষমতাশীন দলের পক্ষপুটে আশ্রয় নেয়। ভিতর থেকে ক্ষয়ে দেওয়ার এই কৌশল রাজনীতিতে নতুন কিছু নয়। এই প্রতিপক্ষীয় কৌশল বুঝতে না পারাটা হবে আত্মঘাতী।
তাহিরপুরে জনৈক জামায়াত নেতার ভাতিজার নৌকা প্রতীক পাওয়ার ইচ্ছাটি পূর্ণতা পাবে কিনা তা নির্ভর করে আওয়ামী লীগের আদর্শিক জায়গায় সংহত হওয়ার উপর। দেখার বিষয় হলÑ নেতৃত্ব বিষয়টি কীভাবে দেখছেন।
- রপ্তানি বাণিজ্যের প্রসারে গবেষণা ও ব্র্যান্ডিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর
- পৃথক আয়োজনে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

