স্টাফ রিপোর্টার
সন্ত্রাস, নাশকতা ও জঙ্গিবাদ বিরোধী জনমত গঠনের লক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকালে সুনামগঞ্জ শহরের শহীদ আবুল হোসেন মিলনায়তনে জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে এই আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সাবেরা আক্তার। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মফিজুল হক মোল্লা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মঞ্জুরুল আলম, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা বাদল চন্দ্র বর্মন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন।
পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন ‘জঙ্গিবাদ ধর্মের কারণে হতে পারে, বিভিন্ন কারণে হতে পারে বা রাজনৈতিক কারণেও হতে পারে। গুলশান হত্যাকান্ডের ঘটনায় ১৬ জন বিদেশী মারা গেছেন।
এরমধ্যে ৬ জন জাপানী ছিলেন। যাঁরা ঢাকায় মেট্রোরেল করার জন্য কনসালটেন্ট হিসাবে এসেছিলেন। অন্যান্য বিদেশীরা ছিলেন দেশের অর্থনীতিতে প্রাণশক্তি যোগানো গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর বায়ার। এরা বিমূখ হয়েছেন। এটি দুঃখজনক। আমাদের যারা ক্ষতি করেছে, তাদের ভয় পেলে তাঁরা উৎসাহিত হবে। এদের প্রতিরোধ করতে হবে’। দেশের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর সকল অর্ডার বাতিল করে দেন বিদেশীরা।
গুলশানের ঘটনার পরে সুনামগঞ্জে জাইকার একটি কর্মশালা ছিল। আমাদেরকে সকল প্রকার নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখার জন্য চিঠি দিয়ে বলা হয়েছিল। কিন্তু পরে তারা এই কর্মসূচি বাতিল করে দিল, সুনামগঞ্জে আসলো। তাতে তাঁদের কোন ক্ষতি হয়নি, হয়েছে আমাদের। আমার মনে হচ্ছে যে সব জঙ্গিরা এই হত্যাকা- ঘটিয়েছে, তারা জানে না যে এঁরা বিদেশী, আমাদের দেশের অর্থনৈতিক সহায়তা শক্তি। তারা জানে না যে এঁরা বিভিন্ন প্রকল্পের কনসালটেন্ট। তারা শুধুই জানে বিদেশীদের মারলে বিশ্বে দৃষ্টি আকৃষ্ট হবে, সরকারকে বিব্রত করা যাবে। তারা বেহেস্তে যাবে। এমন ভুল ধারণা দিয়ে আমাদের তরুণদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। তিনি ইন্টারনেট ব্যবহার করে ফেইসবুক, ইউটিউবে শিশুদেও আসক্ত না করার আহ্বান জানিয়ে অবুঝ শিশু অনেক সময় ইন্টারনেটের মাধ্যমেও বিপথগামি হয়ে যেতে পারে। শিশু নয় বুঝতে শেখার পর ইন্টারনেট ব্যবহার করতে দিলে ভাল হয়’।
অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন মো. শরীফ হোসেন।


