ভুয়া প্রকল্পে জাতীয় যুব পুরস্কার গ্রহণের অপচেষ্টা

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে ভুয়া প্রকল্প পরিদর্শন করলেন জাতীয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের (যুগ্ম সচিব) পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) শিশির কুমার রায়। তাঁকে একাধিক ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে নিজেদের ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা চালিয়েছে একটি চক্র।
এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে। স্থানীয় যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার যোগসাজসে এসব জালিয়াতি ও প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর ছাতক সদর ইউপির মানসীনগর গ্রামের গোলাম আম্বিয়ার পুত্র ছাদিকুর রহমানের পোল্ট্রি ফার্ম, মৎস্য খামার, নার্সারী, গরু মোটাতাজাকরণের খামার, ঘাস চাষ, সেলস্        
সেন্টারসহ একাধিক প্রকল্প পরিদর্শনে আসেন জাতীয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যুগ্ম সচিব শিশির কুমার রায়। চলতি বছরে জাতীয় যুব পুরস্কারের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হওয়া মেসার্স ছাদিক এন্টারপ্রাইজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সরজমিনে পরিদর্শন করেন জাতীয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এ পরিচালক।
 এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নাছির উল্লাহ খান, সুনামগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হারুন-অর রশীদ খান, সহকারি পরিচালক (শৃংখলা) আতাউর  রহমান, শাহনূর আলম, ছাতক যুব উন্নযন কর্মকর্তা গোপাল চন্দ্র দাস, সিএস আসাদ উল্লাহসহ সরকারী কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনকালে অন্যের প্রতিষ্ঠানকে নিজের প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে ছাদিকুর রহমানের নামে।
কর্মকর্তাদের দেখানো ভুয়া প্রকল্পের মধ্যে মানসীনগর গ্রামের আবুল হাসনাতের বাড়িতে গবাদি পশুর খামার, একই গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী নূরুল হোসেনের স্ত্রী রওশন আরা বেগমের মৎস্য খামার, আব্দুস সালাম মেম্বারের পুকুরপার ও পাশের বকি নদী ভরাট এলাকাকে ঘাস চাষ প্রকল্প, মধুকনি-বকিরপার গ্রামের মৃত আবাব মিয়া তালুকদারের পুত্র আছাদ আহমদ টিটুর গবাদি পশু ও মৎস্য খামার, শহরের ছাতক হাইস্কুল মার্কেটের সুরমা পোল্ট্রি ফার্মকে সেলস সেন্টারে ছাদিক এন্টারপ্রাইজের সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে কর্মকর্তাদের দেখিয়ে তাদের বিভ্রান্ত করা হয়। তার প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে এসব খামার মালিকসহ এলাকাবাসী চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন।
এ ব্যাপারে আছাদ আহমদ টিটু ও রওশন আরা বেগম জানান, ছাদিকের প্রতারণার বিষয়টি নিয়ে ইউপি সদস্য ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তির কাছে বিচার প্রার্থী হয়েছি। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারেন বলেও জানান।
উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার গোপাল চন্দ্র দাস জানান, মধুকুনি এলাকায় ছাদিকের একটি পোল্ট্রি ফার্ম রয়েছে এবং তার আত্মকর্মসংস্থানের জন্য যুব উন্নয়ন হতে ৩ বার ঋণও গ্রহণ করেছে সে। বর্তমানে তাকে ২০১৭সালের শ্রেষ্ঠ যুব পুরস্কারের প্রস্তাব ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস ছালাম জানান, একটি পোল্ট্রি ফার্ম ছাড়া এলাকায় তার আর কোন ফার্ম আছে বলে তিনি জানেন না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নাসির উল্লাহ খান জানান, যুগ্ম সচিবের সাথে তিনি এসব প্রকল্প পদির্শনে গেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে আগে কেউ তাকে কিছু অবহিত করেনি। উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল জানান, উপজেলা চত্বরেই তিনি যুগ্ম সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তবে প্রকল্প পরিদর্শনে তিনি যান নি।