ভোটারদের প্রশ্ন ওখানে দলীয় প্রতীক কেন?

বিশেষ প্রতিনিধি
শাল্লায় চার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন দাখিলকারী ২৫ প্রার্থীর ২২ জনই আওয়ামী লীগের পরিচয়ধারী। এই উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর প্রয়োজন ছিল কি? এই প্রশ্ন ওখানকার সাধারণ ভোটারদের।
শাল্লার হবিবপুর ইউনিয়নের নারকিলার ভোটার হরিপদ তালুকদার বললেন, উপজেলায় ৯০ ভাগ ভোটার আওয়ামী লীগের সমর্থক, নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সকলেই ‘জয় বাংলা শ্লোগান দেন’ এখানে নৌকা প্রতীকের প্রয়োজন কি ছিলো? নির্বাচনে বিজয়ী যেই হোক, সেই আওয়ামী লীগের থাকতো, প্রতীক থাকায় অনেক সমস্যা দেখা দেবে, প্রতিদ্বন্দ্বিদের মধ্যে প্রতিহিংসা তৈরি হবে, এই দূরত্ব অনেকদিন থাকবে।
শাল্লার আনন্দপুরের বিকাশ চক্রবর্তী বললেন, আমাদের পাশের উপজেলা ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রামে দলীয় প্রতীক নেই, আমাদের উপজেলায়ও সেভাবে হলে ভালো হতো, দলীয় প্রতীক এখানে থাকায় দলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।
উপজেলা সদরের বাসিন্দা শ্যামাপদ সরকার বললেন, আমিও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম, মনোনয়ন না পাওয়ায় প্রার্থী হই নি, তবে শাল্লার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না হলেই ভালো হত।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শাল্লার আটগাঁও ইউনিয়নে স্বতন্ত্রের মোড়কে প্রার্থী হওয়া বিএনপি নেতা আব্দুল্লা আল নোমান ও মাসুদ আল কাওছার এবং বাহাড়া ইউনিয়নের জাতীয় পার্টির মাধবী রানী দাস ছাড়া চার ইউনিয়নের ২৫ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত চারজনসহ ২২ জনই আওয়ামী লীগ ঘরানার বা আওয়ামী লীগের ভোটার। বেশিরভাগ চেয়ারম্যান প্রার্থীই আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের পদধারী। চার ইউনিয়নেই লড়াই হবে আওয়ামী লীগে আওয়ামী লীগে। আটগাঁও ইউনিয়নে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একজন বিএনপি নেতা থাকতে পারেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এই অবস্থায় ওখানে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের দলীয় প্রতীক দেওয়ায় দলের লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হবে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের ভোটাররা।
জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাল্লার বাসিন্দা, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অবনী মোহন দাস বললেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তই দলের কর্মী হিসাবে মেনে নিতে হবে। তবে শাল্লায় লড়াই হচ্ছে নিজেদের মধ্যেই। এ কারণে দ্বন্দ্ব দূরত্ব বাড়বে। প্রতিহিংসা নির্বাচনের আগে ও পরে থাকবে। এটি নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন। তিনি জানান, শাল্লায় গেল জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর ভোট ছিল প্রায় ৪৫ হাজার, বিএনপি প্রার্থী পেয়েছিলেন ১০ হাজারের মত ভোট। সুতরাং এই উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীদেরই জয়লাভ করার কথা।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা উত্তম রায় বললেন, দলীয় প্রতীক দেবার সিদ্ধান্ত স্ব স্ব দলের। দল যদি মনে করে কোথাও প্রতীক দেবে না, সেটি তাদের নিজেদের বিষয়।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বললেন, যে সব নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যগণ বিপুল সংখ্যক ভোট পেয়েছেন সেখানে নৌকা প্রতীক না দিলেই ভালো হতো। শাল্লার ক্ষেত্রে এটা বিবেচনা করা যেত।
জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট বললেন, শাল্লার বাহাড়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান, এর আগের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিধান চৌধুরী’র নাম তৃণমূলের আওয়ামী লীগ ও জেলা আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন বোর্ডে যায় নি। তিনি মনোনয়ন না পেয়ে দলের প্রতি ত্যক্ত-বিরক্ত। শাল্লার অন্য ইউনিয়নগুলোয় এমন ঘটনা ঘটেছে। যেহেতু এই উপজেলায় আওয়ামী লীগের ভোটারই বেশি ওখানে দলীয় মনোনয়ন বা দলীয় প্রতীক না দেবার উদ্যোগ নিতে পারতেন স্থানীয় সংসদ সদস্য বা দলীয় নেতারা। দলের নেতা কর্মীদের এই বিভক্তি আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলের জন্য ক্ষতিকর হবে।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. জয়া সেন গুপ্তার ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও কথা বলা যায় নি। সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারীকে অনুরোধ করলেও তিনি তার সঙ্গে কথা বলিয়ে দিতে পারেন নি।