ভোটে জিতেই লন্ডনে উড়াল

জগন্নাথপুর অফিস
প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে গত ২৮ মে পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেই বিজয়ী হয়েছেন ছয় যুক্তরাজ্য প্রবাসী লন্ডনী। ইতিমধ্যে তাদের প্রত্যেকের নাম চেয়ারম্যান হিসেবে গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু নির্বাচিত হয়েই এসব জনপ্রতিনিধিদের অধিকাংশরাই চম্পট মেরেছেন যুক্তরাজ্যে। স্থানীয়ভাবে লন্ডনী হিসেবে পরিচিত চেয়ারম্যানদের মধ্যে চারজনই এখন লন্ডনে অবস্থান করছেন। শপথের দিনক্ষণ ঠিক হলেই আবার দেশে চলে আসবেন বলে তাদের ঘনিষ্টজনরা জানিয়েছেন। জগন্নাথপুরের যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের সাথে উপজেলাবাসীর হৃদয় ও নাড়ির টানে প্রবাসীরা বারবার দেশে চলে আসেন। আর দেশবাসীও প্রবাসীদের নিরাশ না করে নির্বাচিত করে থাকেন। দেশ ও প্রবাসে ব্যবসা বাণ্যিজ্য ও স্বজদের অবস্থান থাকায় এসব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা অনেক সময়ে দেশে বেশী সময় দিতে পারেন না আবার অনেকেই দুই দেশে যাওয়া আসার মধ্যে দিয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করেন। উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নে এবার চেয়ারম্যন নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুল হাশিম। নির্বাচনের কিছুদিন পরই তিনি লন্ডনে চলে গেছেন। চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরশ মিয়া কাউকে না বলেই লন্ডন চলে গেছেন। গত ৫ বছর তিনি চেয়ারম্যান ছিলেন। এভাবেই প্রায়ই কাউকে না বলে অল্পদিনের জন্য লন্ডন চলে যেতেন। আশারকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ আবু ঈমানী নির্বাচিত হওয়ার পর  কিছুদিন এলাকায় থাকলেও অতিসম্প্রতি তিনিও লন্ডনে গেছেন বলে তার ঘনিষ্টজনরা জানিয়েছেন। পাইলগাঁও ইউনিয়নের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান মখলিছুর রহমান লন্ডন থেকে এসে নির্বাচনের মাসে দেড়েক আগে প্রচারণায় নামেন। আঞ্চলিকতা ও টাকার খেলায় তিনি বিজয়ী হয়ে চমক দেখালেও ইউনিয়নবাসী তাকে চেনার আগেই তিনি আবার লন্ডন চলে যান। শপথ গ্রহণের আগেই তিনি দেশে ফিরবেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে কলকলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হাশিম বলেন, আমি সবসময় লন্ডন ও বাংলাদেশে যাতায়াত করি। কারণ দুই দেশেই আমার ব্যবসা বাণ্যিজ্য ও স্বজনরা আছেন। দায়িত্ব গ্রহণের আগে প্রবাসের সবকিছু পরিবারকে বুঝিয়ে দিতে লন্ডনে গেছি। শপথের আগেই চলে আসব।
চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরশ মিয়া বলেন,অনেকদিন ধরে লন্ডনে যাওয়া হয় না তাই সুযোগ পেয়ে চলে গেছি। নতুন করে দায়িত্ব গ্রহণের আগে পরিবারকে একটু সময় দিয়ে আসলাম।
সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের জগন্নাথপুর উপজেলা আহ্বায়ক মানস রঞ্জন রায় বলেন,প্রবাসীদের নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়টি জগন্নাথপুরের মানুষ ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন। যে কারণে ছয়টি ইউনিয়নেই প্রবাসীরা বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের স্ব স্ব ইউনিয়নে থাকাটা অনেকটা জরুরী। কারণ নির্বাচনী সংহিসতা কিংবা নির্বাচনকালীন সময়ের কর্মীদের সাথে সৌজন্যতা রক্ষা করাটা একটা ভাল লক্ষণ। এসব থেকে জনপ্রতিনিধিরা সরে যাচ্ছেন। কারণ হিসেবে তিনি নির্বাচনে টাকা বিতরণের মহোৎসবকে দায়ি করে বলেন, আগে ভোটাররা সত্যিকারের জনদরদি থেকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে যে কারণে তাদের দায়বদ্ধতা থাকত। এখন নানা সুবিধা নিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করায় দায়বদ্ধতার জায়গাটা কমে গেছে।
প্রসঙ্গত জগন্নাথপুর উপজেলা আটটি ইউনিয়নের মধ্যে মীরপুর ইউনিয়নে আইনি জটিলতায় নির্বাচন হচ্ছে না। রানীগঞ্জ ও সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নে নির্বাচন হলেও বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদের মধ্যে এখনো চলছে আইনি লড়াই। অপরদিকে পাটলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ইউনিয়নবাসীর সাথে রয়েছেন।