আকরাম উদ্দিন
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী কোহিনুর আলম। তফসিল ঘোষণার পর ১১ মার্চ তিনি দেশে আসেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড়ানোর মানসিকতা নিয়ে আসলেও শেষ পর্যন্ত নৌকা প্রতীক পেয়ে যান। কিন্তু ভোটে জয়ী হতে পারেননি।
শুধু কোহিনুর আলম একা নয়, গত শনিবার অনুষ্ঠিত ভোটে জেলার ২৬টি ইউপির মধ্যে সাতটিতে চেয়ারম্যান পদের লড়াইয়ে ছিলেন ৯ জন প্রবাসী। আওয়ামী লীগের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা চারজনের একজনও জয়ী হতে পারেন নি। এই নয়জনের মধ্যে এক মাত্র দোয়ারারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও ইউপিতে বিএনপির প্রার্থী যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবু হেনা আজিজ বিজয়ী হয়েছেন।
কুরবাননগর ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কোহিনুর আলম স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে প্রায় দুই হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। তিনি বলেন,‘আমি হতাশ। দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে যে সহযোগিতা আশা করেছিলাম সেটি পাইনি।’ আওয়ামী লীগের পরাজিত আরেক প্রবাসী প্রার্থী বলেছেন,‘স্থানীয় নেতা-কর্মী কিংবা ভোটার সবাই সুবিধা নিতে চেয়েছেন, এইটা আমাকে আহত করেছে।’
তবে দলের নেতা-কর্মীরা বলছেন, এলাকার লোকজন কিংবা দলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই, হঠাৎ উড়ে এসে দলের প্রতীক নিয়ে জুড়ে বসলেই সবাই ঝাঁপিয়ে পড়বে এটা আশা করা ভুল। দলীয় মনোনয়ন কে-কিভাবে পেয়েছেন এটা মাঠের নেতা-কর্মীদের অজানা নয়। তাই এমনটা হয়েছে।’
যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবদুস সোবহান এর আগে আরও তিনবার নির্বাচন করেছেন। এবার তিনি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউপিতে। কিন্তু জয়ী হতে পারেননি। এখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। সদর উপজেলার মোহনপুর ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন সৌদি আরব প্রবাসী মো. মঈন উল হক। এখানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পূর্ববীরগাঁও ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বেলজিয়াম প্রবাসী মো. রিয়াজুল ইসলাম। এখানে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
বয়সে তরুণ আবু হেনা আজিজ সপরিবারে যুুক্তরাজ্যে থাকেন। দেশে নিয়মিত আসা-যাওয়া তাঁর। গত নির্বাচনেও দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও ইউপিতে একই পদে প্রার্থী ছিলেন। জয়ী প্রার্থীর চেয়ে মাত্র ৩৫ ভোট কম পেয়ে সেবার পরাজিত হন তিনি।
আবু হেনা আজিজ জানান, তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে তাঁর মা-বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত ‘ইলিয়াস-মমতাজ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’র উদ্যোগে এলাকায় বিভিন্নভাবে উন্নয়ন করে যাচ্ছেন। শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা করছেন। আজিজ বলেন,‘দলমত নির্বিশেষ সবাই আমাকে ভোট দিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন। আমি এলাকাবাসীর কল্যাণে সব সময় কাজ করে যাব।’
- বিশেষ প্রতিবেদন জামালগঞ্জ শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ ৪৯ শিক্ষকের বেতন বন্ধ
- ধান কেটেও বিপদে কৃষক প্রতি মণ পাঁচ শ’ টাকার বেশি দাম উঠছে না


