ভোদন ভাই এখন ফেসবুক সেলিব্রেটি

শুভ দেবনাথ
আমার পাড়াতো বড় ভাই ভোদন ভাই, মাষ্টার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। কিপটেমিতে ভার্সিটি চ্যাম্পিয়ন! আর ঢিলেমিতে বোধহয় বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হবেন!
ভোদন ভাইরা অবস্থাশালী তাই পাড়ায় ভোদন ভাইয়ের পরিবারের অন্য সদস্যদের আলাদা খাতির আছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় আমি আর
বল্টু ছাড়া ভোদন ভাইকে পাড়ায় আর কেউই পাত্তাই দেয়না! আমরা অবশ্য মন থেকে ভোদন ভাইকে তেমন একটা পাত্তা দেইনা, কিন্তু জিভ থেকে দিতে হয়! আহা! মাঝে মধ্যে ভোদন ভাই আমাকে আর বল্টুকে দাওয়াত দিয়ে যা খাদ্য খাওয়ান না। তখন কে বলবে ভোদন ভাই কৃপণ?
সেদিনও বল্টুকে আর আমাকে ডেকে নিয়ে জম্পেস খাওয়ালেন ভোদন ভাই ! খাওয়া দাওয়া শেষ করে যখন ভোদন ভাইয়ের ফটিকে এসে বসলাম, ভোদন ভাইয়ের মুখটা তখন ভিশন ফ্যাকাসে দেখাচ্ছিলো! আমি টিস্যু পেপার দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে ভোদন ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম – ভাই মন খারাপ কেনো? খুব উচ্চ সুরে বারকয়েক দীর্ঘশ্বাস ফেলে, ভোদন ভাই আমাকে তাঁর পাড়ায় কোনো দাম না থাকার চির আফসুসের কথাটাই শুনালেন। এই একটি জ্বালাই ভোদন ভাইয়ের! উনি কথায় কথায় আমাদের বলেন – আমি কী একে বারে বাজে মানুষ রে? যে পাড়ায় আমার ছোট ভাইয়ে যে সম্মানটা পায়, সেটাও আমি পাবোনা!
ভোদন ভাই মন খারাপ করে এসব কথা বললে
আমরাই ভোদন ভাইকে আত্মবিশ্বাস যোগাই, এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেই। সেদিনও তাঁর হেরফের হলো না। এর এক ফাঁকে বল্টুটা ভোদন ভাইকে তাঁর; অপ্রিয় একটি কথা শুনিয়ে দিলো! বল্টু র কথাটা ছিলো এই – ভোদন ভাইয়ের এখনি ফেসবুকে একটি আইডি খুলা উচিত।এই কথাটা ভোদন ভাইকে আমি আর বল্টু আরো অনেক বলেছি, কিন্তু উনি প্রতিবার কথাটি শুনেই মুখটাকে বিচ্ছিরি বানিয়ে বলতে শুরু করতেন – ধেৎ ফেসবুক কী ভালো মানুষ ব্যবহার করে? ওসব খেত রা ব্যবহার করে! তবে সেদিন ভোদন ভাই কথাটি শুনে মুখটাও বিচ্ছিরি করলেন না! আর কিছু বললেনও না!
ভোদন ভাইয়ের এই নিরব থাকা দেখে আমিও কথাটায় সায় দিয়ে বললাম – ফেসবুক সেলিব্রেটির সেই কদর ভাই! ওদের গুড মর্নিং লেখা পোষ্টেই হাজার দুয়েক লাইক পড়ে যায়! আপনি যদি ফেসবুক সেলিব্রেটি হয়ে যান। তখন আপনার বেলায় একই হবে। তা ছাড়া আপনি তো কবিতার ভক্ত, কত শত কবিতার বই আপনি পড়েছেন!  দু চারটে কবিতা মনে হয় লিখেছেনও। আমার তো মনে হয় আপনার কবি প্রতিভাটাও দারুণ আছে চাইলে আপনার লিখা কবিতাগুলি ফেসবুকে আপলোড দিয়ে ট্রাই করে দেখতে পাড়েন।
এবারও নিরব ভোদন ভাই! মিনিট দুয়েক আমরাও কোনো কথা না বলে বসে থাকলাম।
ফটিকে তখন সুনসান নিরবতা। তখন নিরবতা ভেঙে ভোদন ভাই হঠাৎ বলে উঠলেন – তোরা বলছিস?
আমি বললাম – সেটা অনেক আগে থেকেই।
তখন চোখে মুখে গম্ভিরতার ভাব এনে ভোদন ভাই বললেন – আসলে রিমু ও মাঝে মধ্যে বলে, তোমার কবি প্রতিভাটাকে হেলায়
হারিয়ে যেতে দিও না। জীবনে যে জনা আটেক কবিতা লিখেছি তার সব কটা রিমুকে শুনিয়েছি। ও তো আমার কবি প্রতিভা দেখে
প্রশংসায় একেবারে পঞ্চমুখ!
রিমু নামের মেয়েটাই ইহ জনমে ভোদন ভাইয়ের একমাত্র মেয়ে বান্ধবী, উনাদের মধ্যে প্রেম টেম কিছু আছে কিনা সেটা সঠিক জানি না। তবে উনাদের বন্ধুত্ব যে পাক্কা এটা বলাই যায়।
সেদিন ভোদন ভাইকে ; প্রতিভাধর নামে একটি ফেসবুক আইডি চালু করে দিছিলাম।
প্রথম প্রথম ভোদন ভাইয়ের পোষ্টে লাইক কমেন্ট কম দেখে উনি আমাদের অভিযোগ করতেন, কিন্তু এ অবস্থা বেশী দিন চললো না!
পাক্কা ফেসবুকার বল্টু, ভোদন ভাইকেও পাক্কা ফেসবুকার বানিয়ে ছাড়লো! আজকাল ভোদন ভাইয়ের, পাশে থেকো পাশে পাবা, নামক স্ট্যাটাসেও হাজার দুয়েক লাইক পড়ে যায়! আর কবিতা হলেতো কথাই নেই!
কিছুদিন আগে সকালে, ভোদন ভাই ইনবক্সে আমাকে নক করলেন, মামা লাইক কমেন্ট করে পাশে থাকিস, আমাকেও পাশে পাবি।
ভোদন ভাই শেষ পর্যন্ত উনার পাড়াতো ছোট ভাইকেও মামা ডাকতে শুরু করে দিলেন ! এটা কোনো ব্যাপার না, ভোদন ভাই এখন
ফেসবুক সেলিব্রেটি! উনি এখন মহাব্যস্ত মানুষ, এখন উনার সাথে দেখা হলেই দেখি, উনি মাথা নিচু করে মোবাইলে ফেসবুকিং করছেন!