ভ্যাকসিনের আওতায় আসেনি জেলার ১৫ ভাগ পরীক্ষার্থী

স্টাফ রিপোর্টার
বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় সুনামগঞ্জের এক হাজার নয়শ ছয়ত্রিশ জন শিক্ষার্থীকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। গত ২২ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া টিকা প্রদান কার্যক্রমে জেলার ১২ হাজার ৯০৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০ হাজার ৯৭০ জনকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট কৃর্তপক্ষের টিকা দেয়ার ব্যবস্থাপনাকেই দুষছেন সচেতন মানুষ।
সুনামগঞ্জের জেলার ১২ উপজেলার মোট ১২ হাজার ৯০৬ জন এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে জেলা সিভিল সার্জন অফিসের সহযোগিতায় টিকা দেয়া শুরু করেছিলো জেলা শিক্ষা অফিস। এজন্য সুনামগঞ্জ সদরে ৩ টি টিকা কেন্দ্র করা হয়েছিলো। এই তিনটি টিকা কেন্দ্রের মধ্যে ছিলো সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ, সার্কিট হাউস ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়।
এছাড়াও জেলা শহরের বাইরে দিরাই, ধর্মপাশা, ছাতক ও জগন্নাথপুর উপজেলায় ভেন্যু করা হয়। এসব উপজেলায় সংশ্লিষ্ট কলেজের শিক্ষার্থীরা ভ্যাকসিন গ্রহণ করবার সুযোগ পায়। অন্য ৭ টি উপজেলার শিক্ষার্থীদের জেলা সদরে এসে ভ্যাকসিন নিতে হয়েছে। জেলা শহরের সঙ্গে অন্য উপজেলার অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ব্যয় আধিক্যের কারণে অনেক শিক্ষার্থী আসতে পারে নি। ফলে এসব শিক্ষার্থী ভ্যাকসিনের বাইরে রয়ে গেছে।
জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্যে মতে, বিশ^ম্ভরপুরে ৬৮৫, ছাতকে ২ হাজার ৫২০, ধর্মপাশায় ৯৩৬, দোয়ারাবাজারে ৯৭৭, জগন্নাথপুরে ৬৬৪, শাল্লায় ৫৭২, সুনামগঞ্জ সদরে ২৪৯৭, তাহিরপুরে ৮৭২ ও শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ৪৭২ জন এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। এরমধ্যে দুর্গম এলাকা বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট উপজেলায় ভ্যাকসিন নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় ফাইজারের ভ্যাকসিন সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় উপজেলা পর্যায়ে ভ্যাকসিন নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সিভিল সার্জন বলছেন, শিক্ষা বিভাগ যদি চাইতো তাহলে উপজেলা পর্যায়ে ভ্যাকসিন নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিলো তাদের। শিক্ষা বিভাগ যেরকম পরিকল্পনা করেছে সেভাবে কাজ করেছে তারা।
তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. জুনাব আলী বললেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভ্যাকসিনের জন্য জেলা শহরে যেতে কম করে হলেও এক হাজার টাকা করে খরচ করতে হয়। এজন্য অনেক শিক্ষার্থদের ভ্যাকসিন নিতে পারে নি। ৮৫ ভাগ শিক্ষার্থী ভ্যাকসিন নেয়ার জন্য কলেজ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়েছে। বাকী ১৫ ভাগ নেয়নি। যারা কাগজ নিয়েছে তারা ভ্যাকসিন নিতে সুনামগঞ্জ গিয়েছে কিনা সে বিষয়ে আমি জানি না।’
জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা সুনামগঞ্জের ৮৫ ভাগ শিক্ষার্থীকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে পেরেছি। এই কয়েকদিনে চেষ্টা করেছি সকল শিক্ষার্থীকে ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসতে। এজন্য সুনামগঞ্জ সদরে তিনটিসহ আরও ৪ টি উপজেলায় ভেন্যু করা হয়েছিলো। আমরা চেষ্টা করেছি সফল হয়নি। এখন বাকীটা উপর মহলের ব্যাপার।
এবিষয়ে সুনামগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সহসভাপতি অ্যাড. খলিল রহমান বললেন, জেলার সকল শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে সরকারের খুব ভালো উদ্যোগ ছিলো। কিন্তু স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঠিক পরিকল্পনার অভাবে তা বাস্তবায়িত হয়নি। এ বিষয়ে উদাসিনতাও লক্ষ্য করেছি আমরা। কারণ ভৌগোলিক অবস্থায় সুনামগঞ্জ হাওর অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এখনও জেলা সদরের সঙ্গে অনেক উপজেলার ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। খরচেরও বিষয় রয়েছে। সে খরচ অনেক পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব হয়নি। এজন্য শতভাগ শিক্ষার্থীকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি বলে মনে করেন তিনি।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন বললেন, যেসব উপজেলার সঙ্গে সড়কে যোগাযোগ ভালো ছিলো সেখানে ফ্রিজিং গাড়ি দিয়ে ভ্যাকসিন নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিলো আমাদের। তবে শিক্ষার্থীদের কোন জায়গায় ভ্যাকসিন দেয়া হবে সেটা নির্ধারণ করেছে শিক্ষা বিভাগ। শিক্ষা বিভাগ যেভাবে পরিকল্পনা করেছে সেভাবে আমরা শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন দিয়েছি।