রোকেস লেইস
রাতে জম্পেস খাওয়া দাওয়া হলো। মামা’র পছন্দ, তাই জামাই বাবাজি নিজে বাছাই করে টাটকা ছোট মাছ এনেছেন। আর, পম্পা’র ব্যঞ্জনে এর স্বাদ যেনো বেড়ে গেছে বহুগুণ। যথারীতি গল্প, গান, কবিতা, আড্ডায় মধ্যরাত। পরদিন সকালে প্রস্তুত হয়ে বাপ বেটি চলে গেলাম পুলিশ বাজার। টুকটাক কিছু কেনাকাটা হলো, সবই মেয়ের পছন্দে। ভালো মানের রুচী সম্মত পছন্দের জিনিষ পাওয়া যায়। তবে, দাম শিলিগুড়ির বিবেচনায় তুলনামূলক যথেষ্টই বেশী। এখানে, বিখ্যাত দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক লেটেষ্ট ব্রান্ড আইটেম সমূহ সহজলভ্য। আপাতদৃষ্টেই এখানকার লোকজন বেশভূষায় অত্যন্ত রুচিশীল। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই দোকানগুলি ফিক্সড প্রাইস-এ কেনাবেচা করে থাকে। পাশাপাশি দামদর করে কেনা বেচার দোকানও এখানে প্রচুর। কয়েকগুণ পর্যন্ত বেশী দাম হেকে, যত বেশী সম্ভব আদায় করে নেয়ার ধান্ধাও আছে, আর বিপত্তি সেখানেই। আজকে হেঁটে হেঁটেই পুলিশ বাজারসহ আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা হলো। দোকানে দোকানে ঢু’মেরে এ’টা ও’টা দেখা, দাম যাচাই করে করে ঘুরে বেড়াতে ভালোই লাগছিলো। আবহাওয়াও ছিলো খুব সহনীয়, রোদহীন নাতিশীতোষ্ণ। দুপুরে, হেঁটেই বাসায় ফিরলাম। শহরে উৎসবের আমেজ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসায়। তবে, হৈ হৈ রৈরৈ জাতীয় অতি বাগাড়ম্বর ছিলো না। কিছু কিছু এলাকায় রাস্তার পাশগুলো রঙ্গিন কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া ছাড়া, অতিরঞ্জন তেমন কিছু চোখে পড়লো না। জনসাধারণের মধ্যে চিত্তচাঞ্চল্য উৎসব মুখরতা দৃশ্যমান, তবে শালীন শোভন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শহরের বাইরে যাবেন, যে কোনো দর্শনীয় এলাকায়। শোনা যাচ্ছিলো, এশিয়ার ক্লিনেষ্ট ভিলেজ মাওলিননং, চেরাপুঞ্জির নওখালিকা, রামকৃষ্ণ মিশন ইত্যাদির যে কোনোটি দেখতে যেতে পারেন। কৌশলগত কারণেই বেশ কয়টি নাম প্রচারে ছিলো। প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহর; সাথে নিরাপত্তা বাহিনী, এসব বিবেচনায়ই আমরা আজ শহরের বাইরে যাওয়ার প্রোগ্রাম রাখিনি। ব্যস্ততা থাকায় অথবা কৌশল জনিত কারণে, নর্থ-ইষ্টার্ণ কাউন্সিল এর মিটিং এবং পোলো গ্রাউন্ডের জনসভা শেষে শুধুমাত্র এলিফেন্ট ফলস এবং শহরের প্রান্তসীমায় মাওফিলং-এ ‘পবিত্র উদ্যান’ দেখতে গেলেন মোদি জি। বাসায় ফিরে দুপুরের খাওয়ার পর; খানিক রেস্ট নিয়ে, বিকালে আবারো বেরিয়ে পরলাম। খাড়া আর ঢালের সড়কে হেঁটে বেড়ানোর মজাই আলাদা। অত্যন্ত পরিষ্কার রাস্তাগুলো কোথাও কোথাও যথেষ্টই সংকীর্ণ, তবে পরিচ্ছন্ন। বেশ খানিক দূরে দূরে বাঁশের তৈরী ঝুড়ি বসানো আছে, লোকজন সিগারেট টেনে ছাঁইটাও হাতে করে নিয়ে ঝুড়িতে ফেলছে। দেখে সত্যি অনুপ্রাণিত হতে হয়, কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা করে দিয়েছে আর জনগণ নিজ দায়িত্বে স্বতঃস্ফূর্ততায় পালন করছে। শহর পরিচ্ছন্ন শোভন রাখতে সচেষ্ট সকলেই। এক্ষেত্রে সাম্প্রতিক দেখা দার্জিলিং এর তুলনায় প্রায় শতভাগ পরিচ্ছন্ন টিপটপ শহর শিলং। ট্রাফিক পুলিশ আছে বিভিন্ন মোড়ে, থাকতে হয় তাই আছে। প্রচুর গাড়ি, বলতে গেলে একটার গা ছুঁয়ে অন্যটি, একমাত্র বাহনও গাড়িই। তবে, এতো সুশৃঙ্খল, দেখলে অভিভূত হতেই হয়। আরেকটি বিষয় নজরে আসলো, যা আগের বারও লক্ষ করেছি হর্ন এর ব্যবহার নাই বললেই চলে। পারতপক্ষে কেউ হর্ন বাজায় না, শব্দ দূষণহীণ শান্ত শহর। আমরা উদ্দেশ্যহীন হেঁটে বেড়াচ্ছি, সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে। শহরের ভিতরে সবুজ কাঁচে তৈরী মসজিদটি দেখলাম, দৃষ্টিনন্দন । ফোন বেজে উঠলো, শিলং-এ কাঙ্খিত একটি নাম্বার। কথা হলো, জানতে চাইলো কোথায় আছি, বাসার ঠিকানা বলে দিয়ে আমরাও তাড়াহুড়ো ফিরলাম। বাসায় এসে পম্পাকে জানিয়ে অপেক্ষা করছি। ফোন বাজলো, এগিয়ে গিয়ে নিয়ে আসলাম ‘আইবান সোয়ের’ অত্যন্ত চটপটে স্মার্ট একজন খাসি ভদ্রলোক। মেঘালয় গভর্ণমেন্ট-এ সেক্রেটারি পর্যায়ে কর্মরত। বয়স পঞ্চাশ হলেও দেখে তিরিশের আশপাশ মনে হয় । গত শিলং ভ্রমণে পরিচয় ঘনিষ্ঠতা, অত্যন্ত কর্মতৎপর বন্ধুবৎসল। এবার শিলং পৌঁছেই কথা হয়। পি,এম না যাওয়া পর্যন্ত সময় দিতে পারবে না বলে জানিয়ে ছিলো। ভালো লাগছে এতো ব্যস্ততার মাঝেও, বিদেশী বন্ধুকে মনে রেখে স্বাক্ষাত দিতে এসেছে বলে। বেশ অনেক্ষণ প্রাণখোলা গল্প হলো, পরদিন দেশে ফিরছি বলায় আপত্তি জানালো। ওর, বাড়িতে নিতে পারলো না তাই। আগের বার, ওর বাড়ি খামার সব জায়গায় বেড়ানো হয়েছে। ওর বউ, মেয়ে দু’টো খুবই মিশুক, শুধু ছেলেটা হোষ্টেলে ছিলো বলে পরিচয় হয়নি। আবারো বেড়াতে যাবো প্রতিশ্রুতি রেখে, আইবান বিদায় নিলো। রাতটা অন্য ক’টা রাতের মতো কাটলেও একটু যেনো তালহীন ছিলো। সামছুল আগেই জানিয়ে ছিলো সে অন্য কোথাও আটকে যাওয়ায়, আসতে পারবে না। পরদিন সকালের জন্য ড্রাইভার বলে রাখলো পম্পা। যথারীতি জামাই বাবাজি ‘স্নিকার চকলেট’ নিয়ে ফিরলেন। যা, এ ক’দিন নিয়মে দাঁড়িয়ে গেছে, জামাই বাবুর গিফট পেয়ে মেয়ের হাসিভরা থ্যাংকস। আজ অনেক ভোরেই ঘুম ভেঙ্গে গেলো। আমরা উঠে ব্যাগ গুছিয়ে নিচ্ছি। আমাদের নড়াচড়া বুঝতে পেরে প্রতিদিনের মতো ‘গুডমর্নিং’ বলে, পম্পাও উঠে এসেছে । চা নাস্তা হলো, গোসল সেরে গরম গরম ভাত খেয়ে প্রস্তুত, ড্রাইভারও চলে এসেছে। একটু সকাল সকালই বেরিয়ে পরলাম বেশ ক’টা স্পট দেখে ফিরবো, সেজন্য। বিদায়ের মুহূর্তটি কষ্টে আচ্ছন্ন ‘যেতে নাহি দেব……. তবু চলে যায়’ সেই চিরন্তন পিছুটান দু’দিক থেকেই।
গাড়ি চলতে শুরু করলো, মন যেমন বিষাদ ছাওয়া, তেমনি গভীর কুয়াশার মধ্য দিয়ে। আর তাই, এ ক’দিনের দেখার জানার আগ্রহের সাথে ; আজ তাল সুর মিলছে না। ড্রাইভার বছর ত্রিশের খাসি তরুণ, কম কথা বলে, সামছুলের বিপরীত। প্রথমেই সে জানতে চাইলো ডাবল ডেকার ব্রীজ-এ যাবে কি-না। একটু ভিন্ন পথে প্রায় আড়াই ঘন্টা গাড়ি করে যেতে হবে টাইরানা গ্রামে। ওখানে নেমে পাহাড়ি পথে কমপক্ষে ৩৫০০ সিড়িসহ অন্তত মাইল তিনেক হেঁটে যেতে হবে অর্থাৎ ছ’মাইল আপ ডাউন। সময় আর শারীরিক ধকল চিন্তা করে বাদ দিলাম। আমরা বাপ-বেটি নিজেদের মধ্যে কথা বলে ক’দিন যেভাবে গন্তব্য ঠিক করেছি, আজ সে উৎসাহও যেনো হারিয়ে গেছে। বাধ্য হয়েই ড্রাইভারকে বললাম, ডাউকি পর্যন্ত বিকাল চারটার আগে যাতে পৌঁছানো যায়; সে বিবেচনায় পথে যা দেখার আছে দেখাতে। মনের অবস্থা বুঝেই যেনো সবকিছু ঢেকে রেখেছে কুয়াশা। বলতে গেলে হাত ক’য়েক দূরের কিছুই দেখা যাচ্ছিলো না। ড্রাইভার নিজ দায়িত্বে এখানে ওখানে বেশ ক’টা পুরনো মন্দির, চার্চ ইত্যাদি দেখালো। গাড়িতে বসে বসেই যতটুকু দেখা যায় দেখছিলাম। এক পর্যায়ে মাওলিননং-এ এসে গাড়ি থামলো, এশিয়ার ক্লিনেষ্ট ভিলেজ। এখানে প্রচুর লোক সমাগম হয়েছে, দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির বহর দেখেই বুঝা যাচ্ছিলো। লোকজন বেশ অনেকটা জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে, যে যার মতো ঘুরে ফিরে দেখছে। ট্রেডিশনাল পাহাড়ি প্ল্যাঙ্ককিং করা ঘর বাড়ি, আশপাশ জুড়ে ছড়ানো বাগানে নানা রঙের ফুল, সরু ছিমছাম সড়ক। এক ঝলকেই সৌন্দর্য; পরিচ্ছন্নতা আঁচ করা যায়, ক্লিনেষ্ট ভিলেজের স্বার্থকতা বোঝা যায়। ভিতরে না গিয়ে পাশের সরু সড়ক ধরে দেখতে দেখতে চললাম রাইওয়াই গ্রামে, ‘রুট ব্রীজ’ এর জন্য পরিচিত। গাছের জীবন্ত শিকড়ে নির্মিত পুল দেখতে। নামছিতো নামছিই প্রায় এক কিলোমিটার, শেষ মাথায় শ’তিনেক সিড়ি বেঁয়ে নীচে নামতে হলো। সিড়ির পাশ জুড়ে রকমারি পসরা সাজিয়ে বসেছে লোকজন, বিক্রি করছে এ’টা ও’টা। রুট ব্রীজের নীচ দিয়ে প্রচন্ড বেগে গড়িয়ে নামা পানির, শো শো একটানা শব্দ। এপাশের রাবার গাছের জীবন্ত শিকড়; প্রায় ২৫/৩০ ফিট খালের ওপারে নেয়া হয়েছে, একইভাবে ওপার থেকে শিকড় টেনে এনে জালের মতো বিছিয়ে তৈরী হয়েছে এই শিকড় পুল। এই ব্রীজ তৈরী হতে পনের বছর পর্যন্ত লেগে যায়। খাসিয়া এবং গাড়ো পাহাড়ে এরকম অসংখ্য ব্রীজ আছে। ব্রীজের উপর হেঁটে চলে, প্রকৃতিকে ব্যবহার করে মানুষের বিস্ময় সৃষ্টি; উপভোগ করলাম। রুট ব্রীজ এর অস্তিত্ব ১৮৪৪ সালের রেকর্ড পত্র থেকে প্রথম জানা যায়। এখনো, দেড় শতাধিক বছরেরও পুরনো ব্রীজ কার্যক্ষম। এবার উঠতে গিয়ে বুঝা গেলো, নামার আগে দশবার ভাবা উচিত ছিলো। উপরে উঠতে পা আড়ষ্ঠ হয়ে আসছে। নামার সময় বোঝা না গেলেও যথেষ্টই খাড়া বেয়ে উঠতে হচ্ছে। অনেকেই বসে বসে দম নিয়ে উঠছেন। দেখেই বোঝা যায় খুবই কষ্ট হচ্ছে তাদের। সিঁড়ির উপরের ধাপে এসে দেখা গেলো পাশের উঁচু গাছে মাচা বানানো। শিকড়ের তৈরী সিঁড়ি বেয়ে গাছের উপরে লোকজন উঠছে। ওখান থেকে বাংলাদেশ দেখা যায়। গাড়ি পর্যন্ত যেতে এখনো অনেকটাই উঠতে হবে, তাই গাছে চড়ার শখ বাদ দিতে হলো। এখান থেকে ছোট বড় পাহাড়ের ভিতর দিয়ে সড়ক। বাঁক ঘুরে ঘুরে নিরবতার মধ্য দিয়ে যেতে যেতে বসতি, সবুজের অফুরাণ সৌন্দর্য দেখে দেখেই এগিয়ে চলেছি। ড্রাইভার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আশপাশের দর্শনীয় স্থান, বস্তু দেখানোর চেষ্টা করছে। সামনে পানির প্রচন্ড গর্জন শুনতে পাচ্ছি। অল্প সময়ে পৌঁছে দেখি, বিশাল নদী যেনো আছড়ে পরছে ৩০/৩৫ ফিট উপর থেকে। কুয়াশার মতো জলকণা ভেসে বেড়াচ্ছে। শুধু দেখতেই ইচ্ছে হয়; ভয়াল শক্তিমান এই অসুর লীলা, কী প্রচন্ড তোড়। হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো ইংল্যান্ড থেকে বন্ধুর ফোন। প্রথমেই অনুযোগ ক’দিন থেকে পাচ্ছে না, সব শুনে শান্ত হলো। বাংলাদেশের নেট কাজ করছে। তাৎক্ষণিক সুনামগঞ্জে ড্রাইভারকে ফোন করলাম, সে সিলেটে ছিলো। ডাউকী চলে আসতে বললাম। সময়ের কারণে আরো অনেকক্ষণ থেকে মন ভরে, দেখতে না পারার অতৃপ্তি নিয়েই ফিরতে হচ্ছে। অনেকটা রাস্তা এসে এবার যেনো আরো বড় জল প্রপাত। প্রায় ৫০/৬০ ফুট উপর থেকে তিন চারটা ভাগে ভাগ হয়ে খাড়া নেমে আসছে পানি। কী প্রচন্ড বেগ আর বিকট গর্জন, শুধুই অনুভবের। এখান থেকে আবারো চলতে শুরু করলাম, আশপাশে একটু একটু পরিবর্তন চোখে পড়ছে। সুপাড়ি গাছে গাছে ছেয়ে আছে চারিধার। ক’ মাইল এসে আবারো বিস্ময়, বিপুল বেগে নেমে আসছে জল, ভীষণ স্রোত উচ্চতা ততো নয়, তবে তুখোড় বেগবান। জল প্রপাতগুলোর প্রতিটিই দর্শনীয়, তবে কোনোটাতেই কোনো দর্শনার্থী পাই নাই। স্থানীয় কোনো লোকজন না পাওয়ায় বা পরিচিতি মূলক কিছু না থাকায়, নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয় নাই। সর্বশেষ প্রপাতের পাশে ‘বিপ হিল’ লেখা একটি বোর্ড দেখা গেলো। ড্রাইভার সচরাচর এদিকে আসে না বিধায় তেমন তথ্য দিতে পারছে না। এই উন্মত্ত-জল-আতঙ্ক লীলাগুলো অচেনাই থেকে গেলো, এ যাত্রায়। ধীরে ধীরে নীচে নেমে আসছি, দূরে সমতল বাংলাদেশ। সারাদিনের গুমরো মুখ কাটিয়ে, বিকেলের পড়ন্ত রোদ হঠাৎ করেই যেনো আলো ছড়াচ্ছে বাংলাদেশের মাটিতে। প্রিয় মাতৃভূমি দর্শনে অবর্ণনীয় শিহরণ দেহ মন জুড়ে। ডাউকি ব্রীজ/ঝুলন্ত ব্রীজ, যা বহুবার নীচে দাঁড়িয়ে দেখেছি বিস্ময় নিয়ে, এই নিয়ে বেশ ক’বার পার হওয়া হলো। ট্রাকের দীর্ঘ লাইন কাটিয়ে অবশেষে এসে গাড়ি থামলো। নেমে ভারতীয় ইমিগ্রেশনে মিনিট কয়েক বসতে হলো। পাসপোর্ট হাতে পেয়ে পা বাড়াতেই অন্য এক অনুভূতি, মুক্তি আনন্দের; ঠিক বলে বোঝানোর মতো নয়, এই অনুভব। ড্রাইভার এগিয়ে এসে ব্যাগ নিয়ে গেলো। এদিকেও দ্রুতই ফরমালিটি শেষ হলো। ক’টা দিন প্রচুর আনন্দ, স্ফূর্তি নিয়ে বাধাহীন খোলা মনে ভ্রমণ উপভোগ করলেও একান্ত নিভৃত মনে; জেগে ছিলো পরবাস। মাতৃভূমি’র স্বাদই ভিন্ন, মায়ের কোলে লেপটে থাকার অবাধ অপার প্রশান্তি। এক আকাশ একই বাতাস তবু যেনো, স্বদেশেই নির্মল নিখাদ নিশ্বাস। (সমাপ্তি)


